Dr. Aminul Islam

Published:
2021-02-26 15:10:08 BdST

বিসি পিএস নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে যাদের দেখা পেলাম


 

অধ্যাপক ডা শুভাগত চৌধুরী 

____________________________

আমি সহজে ঘর থেকে বেরুইনা , কিন্তু এমন সব কারন থাকে না বেরুলে নিজের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। আজ ছিল বি সি পি এস এর নির্বাচন । যারা দাঁড়িয়েছে এদের মধ্যে বেশির ভাগ আমার ছাত্র , স্নাতক আর স্নাতকো ত্তর দুই পর্যায়ে , শিক্ষকতা শুরু ১৯৬৯ এর পর ২০০৪ পর্যন্ত সরকারি চাকুরী পর্যন্ত এরপর বেসরকারি পর্যায়ে ২০১৮ পর্যন্ত, তাই ছাত্র ছাত্রি, নাতি ছাত্র আর ছাত্রিরা অসংখ্য । তাই এদের সঙ্গে দেখা করা আমার এক শখ , । তাদের সঙ্গে দেখা হওয়া , কুশল বিনিময় , আদাব সালাম , নমস্কার , অনেকে পায়ে ধরে সালাম উপভোগ করি জীবনের গোধূলি বেলায় , দুঃখের সাথে দেখি আমার কিছু সিনিয়ার কিছু সমসাময়িক অনেকে নাই , চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আমি কবে যাব জানিনা সব নিয়তি তবে যতদিন বাচি , প্রবল ভাবে বাচার ইচ্ছা। আমার শরীর কিছুটা দুর্বল হলেও আমার মন মগজ আরও শাণিত ।
ভোট দেওয়ার পর কিছু ক্ষণ বসলাম এ জি এম এ ।
অনেকের সঙ্গে দেখা । দেখি প্রফেসর কনক , উপাচার্য , দাদা কেমন আছেন বলে একগাল হাসি।
আমার পেছনে বসা বিখ্যাত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ রুহুল আমিন । দাদা কেমন আছেন, শেষ দেখা তার সঙ্গে ক্যানাডার ক্যালগেরি তে , সেখানে ডাক্তাররা আমাকে সম্বর্ধনা দিয়েছিল ২০১৮। আর দেখা হল । সে বর্তমান কাউন্সিলার। হটাত , কেমন আছেন স্যার , চিনতে পারলাম না , একজন বলল সে এখন ডি জি এম এস । অনেক উচু পদে। খুব খুসি হলাম
মঞ্চে বসে আছে যে সভাপতি বিখ্যাত লোক অধ্যাপক কাজি দীন মোহাম্মদ , স্নাতকো ত্ত পর্যায়ে আমার ছাত্র। পাশে মহা সচিব প্রোফেসার খুরশিদ আলম বর্তমান ডি জি , আমার খুব স্নেহ ভাজন।

হটাত দেখি আমার পাশে প্রফেসার সায়েবা, বিখ্যাত স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ এক বিশেষ উদ্ভাবনের জন্য বিশ্ব নন্দিত। স্বাধীনতা পদক পেয়েছে। আমি গর্বিত এমন ছাত্রি পেয়ে । ইস্কাটনে একটি হাসপাতাল করেছে , সম্পূর্ণ নিখরচা। ফিস্তুলা রোগীদের জন্য। আমাদের দেশে মেয়েদের , নিম্ন বিত্ত মেয়েদের একটি দুরন্ত দুঃসহ রোগ যে রোগের জন্য সমাজ সংসার তাদের ত্যাগ করে , একঘরে করে এদের মুক্তির আনন্দে উদ্ভাসিত করার ব্রত সায়েবার। বললাম আমি তোমাদের মত ছাত্র ছাত্রি পেয়ে ধন্য। নম্র সায়েবা বলে স্যার , আপনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন, বললাম আমি একদিন যাব দেখতে আমার স্ত্রীও যাবে ।তোমার জীবন ধন্য । অনেক দোয়া করি। এর পাশে আরেকজন প্রখ্যাত স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপিকা রও শন ,বহুমুখী প্রতিভা তার। হটাত দেখি স্যার সালাম দেখি প্রফেসার সানো য়ার , আমার স্নাতকো ত্তর পর্যায়ে ছাত্র। তার স্ত্রীও আমার ছাত্রি।
মাথা নিচু হটাত আমার সামনে সালাম স্যার। দেখি প্রফেসার টি টু মিয়া । আমি টি টু । আমার স্নাতক পর্যায়ে ছাত্র এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে প্রিন্সিপাল। খুবখুশি তাকে দেখে। বাইরে। প্রফেসার এ কে খন্দকার , দাঁড়িয়েছে নির্বাচনে আপনার ছাত্র স্যার। পোষ্ট গ্রাজুয়েট ক্লাস নিয়েছি। প্রফেসার এখলাসের সঙ্গে দেখা , সুজন প্রিয়জন আমার ঘনিষ্ঠ ।
বিখ্যাত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ আর আনোয়ার মেডিক্যাল কলেজে প্রিন্সিপ্যাল । খুব নামকরা লোক । প্রফেসার তাহ মিনা , স্যর কেমন আছেন ? দাঁড়িয়েছে নির্বাচনে । আমি আপনার ছাত্রি করবেন । শিশু রোগ আর মেডিক্যাল এডুকেশন দুটোতেই জাঁদরেল বিশেষজ্ঞ ।
পাশেই আমার খুব প্রিয় ছাত্র অধ্যাপক এ বি এম জামাল । ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে সার্জারির প্রধান , তার নিজের বিষয় আর মেডিকেল এডুকেশন দুটোতেই দারুন এক্সপার্ট।
হটাত পায়ে ঢিপ করে প্রণাম , কে রে ? দেখি অধ্যাপক দীপক । প্রখ্যাত চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ । দাঁড়িয়েছে নির্বাচনে । আশীর্বাদ চাইল। পাশে প্রফেসার শাহ আলাম । এত সুদর্শন চোখ এড়িয়ে যাওয়া যায়না । অনেক দিন আগে দেখা একই রকম আছে আর এদিকে দেশে বিদেশে স্পাইন সার্জন হিসাবে বিরাট নাম ডাক । দাঁড়িয়েছে নির্বাচনে । দোয়া চাইলো ।
পেছন দিকে কার গলা? স্যার আমি শহিদুল্লাহ । বিখ্যাত লোক । বি এম ডি সি র চেয়ারম্যান। বি এস এম ইউ র প্রো ভি সি আর জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ার ম্যান। নির্বাচনে । দোয়া নিরন্তর।
ভেতরে বসে আছি দেখি অধ্যাপক কাদের খান সার্জারির নামকরা অধ্যাপক এখন অবসরে , প্রাকটিস কম করে বেশি সময় কাটায় বি সি পি এস এ । আমার ছাত্র। ডেন্টাল কলেজে আমার ছাত্র ছিল ডা আনোয়ার সাদাত। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ডেন্টাল খুললাম যখন তখন প্রথম ব্যাচের ছাত্র আমার । ভোটে দাঁড়িয়েছে । প্রফ আবিদ হুসেন মোল্লা , বিখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ আর ভাল মানুষ বলতে যা বোঝায় আপাদ মস্তক। দাঁড়িয়েছে , ব্রিগেডিয়ার মামুন মুস্তাফি। প্রফেসার ফয়জুলের সঙ্গে দেখা। প্রফেসার সাল মা রউফ। ডা মুজিবুর রাহমান হওলাদার। দেখা হল প্রফেসার এ জেড এম মো স্তাক হো সেন তুহিন । বিখ্যাত সার্জন । প্রফেসার তউহিদুল আলাম। বি এস এস এম উ সার্জারি প্রধান। আরেক বিখ্যাত সার্জন । প্রফেসার মো তালেব । প্রফেসার সাইফ উদ্দিন আহমেদ , আর কত জনের সঙ্গে দেখা হল । ছিলাম প্রায় ৪০ মিনিটের মত। এর মধ্যে মগজ রি চার্জ করার মত রসদ জমল । আমি ফিরলাম মনে অনেক আনন্দ নিয়ে।আরও বেশি সময় যদি থাকতাম তাহলে দেখা দেখির পরিধি অনেক বাড়ত । আক্ষেপ থেকেই গেলো ।

আপনার মতামত দিন:


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়