Ameen Qudir

Published:
2020-03-16 13:14:38 BdST

ঢাকা মেডিকেলে তরুণীর মৃত্যু : এবার করোনা মিশিয়ে ঢাকাই মিডিয়ার মিথ্যা প্রপাগান্ডা


ডেস্ক
____________________

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কানাডা থেকে আসা এক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যুর সঙ্গে করোনা আতঙ্ক ও নানা মনগড়া তথ্য যোগ করে ঢাকাই মূল ধারার অনেক মিডিয়ায় এখন হলুদ সাংবাদিকতা চলছে। যে কোন মৃত্যুই চরম শোকাবহ। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবীরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেন রোগীর প্রাণ রক্ষার। তাকে সুস্থ করে তোলার। এক্ষেত্রেও সর্বাত্মক চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু গুজব মিডিয়ায় যথারীতি মানহানি ঘটানো হচ্ছে চিকিৎসক সমাজের। হলুদ প্রোপাগান্ডায় বলা হচ্ছে, রোগী কানাডা থেকে এসেছে বলেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু। অস্বাভাবিক , মুর্খতাপূর্ণ বিদ্বেষপ্রসূত অপসাংবাদিকতা নিয়ে একটি লেখা লিখেছেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহমেদ লিঙ্কন। তিনি তুলে ধরেন প্রকৃত সত্য। সেই লেখা প্রকাশ হল।
অধ্যাপক ডা. আহমেদ লিঙ্কন লিখেছেন,
মিথ্যা খবর ছাপিয়ে হাসপাতাল আর ডাক্তারদের বিরুদ্ধে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার যে পুরানা ধারা সেটা থেকে এই দেশের মিডিয়া আর 'উৎসুক' বা উত্তেজিত জনতা কখনো বের হতে পারবেনা। বলা উচিত এইটা তাদের অস্থি মজ্জায় মিশে গেছে। বলা উচিত বিষয়টা আর হলুদ সাংবাদিকতা শব্দটার মধ্যে নেই, সেটা এখন কৃষ্ণ সাংবাদিকতায় রুপান্তরিত হয়েছে। যে কোন মৃত্যুই কষ্টের, যার যায় সেই বুঝে। যিনি চিকিৎসা করেন, তিনি যদি রোগীর মৃত্যু দেখেন, সেটা তার জন্যও কষ্টের।

একটা মেয়ে কানাডা থেকে ফেরার পরে ঢাকার ২-৩ টা বেসরকারি হাসপাতালে যায়, কিন্তু কোনো হাসপাতাল তাকে ভর্তি করেনাই। শুধু বলা হচ্ছে একটা নিকটস্থ্ হাসপাতালে তার আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে জানানো হয়। এত রাতে ঢাকা শহরের কোথাও আইসিইউ না পেয়ে (!!) ঢাকা মেডিকেল কে বেছে নিয়েছে কানাডা পড়ুয়া পরিবার !   এই হাসপাতাল কাউকে ফেরায় না। পা ফেলার যায়গা নেই, এর চেয়েও কম ভীড় থাকে ঈদের সদরঘাট বা গাবতলীতে। তো সেখান থেকে কিন্তু ৯৫% রোগী সুস্থ হয়ে ফেরে।

কিন্তু ঢামেকের আইসিইউ মাত্র ৩০ শয্যা বিশিষ্ট এবং কখনোই খালি পাওয়া যায় না এইটা তাঁরা নাই জানতে পারেন সেটা দোষের কিছু না, কিন্তু সেই দুই তিনটা নাম করা বেসরকারি বেসরকারী কর্পোরেট হাসপাতালগুলির কথা টা যে বেমালুম চেপে যাওয়া হল! প্রাইভেট হসপিটালের মালিকের কেইস খাওয়ার ভয়ে নয় তো? পক্ষান্তরে ঢাকা মেডিকেল বা যে কোন সরকারি হাসপাতাল তো সরকারী মাল, তাদের নিয়ে যা খুশি তাই লেখা যায় তাইতো? আরো রং মিশিয়ে লিখেছে ঢাকা মেডিকেলের স্টাফ এবং ডাক্তারদের গাফিলতিতে রোগী মারা গেছে, তা জনাব হাম্বাধিক, অক্সিজেন, পেইন কিলারসহ সাপোর্টিভ চিকিৎসা গুলি কি আপনাদের দুই কাঁধের ফেরেস্তারা এসে দিয়ে গেছে?
যেখানে প্রাইভেট হস্পিটালগুলি এই রোগীকে করোনা ভেবে ভর্তিই করেনি, ঢাকা মেডিকেল এ আসতে হয়েছে বাধ্য হয়ে, সেখানে এতটা অকৃতজ্ঞতা মানা যায়না; 

এখন মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার। রোগীর পেটে ছিদ্র থাকায় অবস্থা খুব খারাপ ছিলো এবং সেটার কারণ সম্ভবত ছিল রাপচার একটোপিক প্রেগ্নেন্সি অথবা পারফোরেশন। একজন নবীশ ডাক্তারের ও এই রোগ চিনতে ভুল হয়না। এসব রোগীকে দ্রুত চিকিৎসা দিতে হয়।এই রোগীর ক্ষেত্রে আরো দ্রুত দিতে হয়েছে,কারণ রোগী শকে ছিল, শক মানে তার পালস দুর্বল ছিলো, রক্তচাপ কম ছিলো, শরীরের তাপমাত্রা কমে গিয়েছিল, শ্বাস প্রশ্বাস জোরে জোরে নিচ্ছিল। এই ধরনের ব্যাথা হুট করে উঠেনা। তারমানে হুট করে তাদের ঢামেকে আসতে হয়নি।তারা সকল প্রাইভেট (ইম্পালস এবং বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের কাগজ পাওয়া গেছে তাদের কাছে, যেখানে আইসিইউ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের রাখেনি) ঘুরে এখানে এসেছে যার ফলে ঢাকা মেডিকেলে আসতে তাদের অনেক দেরী হয়ে যায়, এবং রোগীর অবস্থার দ্রুত আরো অবনতি ঘটে।।

সাংবাদিক তো জানেনা, যে এখন করোনা ভাইরাসের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে ডাক্তার নার্সসহ হাসপাতালের স্টাফগন। আর ডাক্তারদের যথাযথ প্রোটেকশন ও নাই করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে।  খুব দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয় ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তাররা। এসব তথ্য কিছুই দেয়নি এই ঘোর কৃষ্ণ সাংবাদিকেরা।

এসব নোংরামি অবিলম্বে বন্ধ হোক, জনগন সত্যটা জানুক। এই দেশে ডাক্তার আর জনগনের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টিতে এই মিথ্যাবাদীদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেধি। আমরা খবর পরিবেশনের মধ্যে দায়িত্বশীলতা আশা করি।

আপনার মতামত দিন:


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়