Ameen Qudir

Published:
2019-10-28 20:02:01 BdST

শুক্রবারে মফস্বলে প্রাকটিস: ডাক্তারের চেয়েও বেশী উপকৃত হন সেই এলাকার মানুষ



ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল
রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ, সুলেখক
দুই বাংলা সমাদৃত প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী

________________________

ডাক্তাররা যে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঢাকার বাইরে কোন একটি জেলা সদরে বা উপজেলা সদরে যান এতে ডাক্তারদের পাশাপাশি উপকৃত হন সেই এলাকার মানুষেরা।

ডাক্তারদের উপকার হলো -রাজধানীতে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে যেসব তরুন বিশেষজ্ঞরা সারা সপ্তাহে তেমন রোগী পাননা তারা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঢাকার বাইরে গিয়ে একদিনে অনেক রোগী দেখতে পারেন৷ যা তাঁদের সারা সপ্তাহের রোজগার পুষিয়ে দেয়৷

রাজধানীতে উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য যারা আসেন তারাও সপ্তাহান্তে কোন একটি প্রান্তিক অঞ্চলে গিয়ে প্র‍্যাক্টিস করে কিছুটা সচ্ছলতা খুঁজে নেন।

অনেক সিনিয়র বিশেষজ্ঞ সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুরের কোন জেলা সদরে গিয়ে রুগী দেখেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেটা হয় নিজ জেলায়। তাদের মূল আগ্রহের জায়গাটি থাকে তার নিজ এলাকার মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার আনন্দ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা তাদের মূল চেম্বারের তুলনায় কম ভিজিট নিয়ে থাকেন৷ ফ্রিতেও দেখেন।

রোগীদের জন্যও এটা ভাল৷ ধরুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি জেলা৷ এই জেলা সদরের হাসপাতালে কোন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ নেই। থাকবার কথাও না৷ কারণ জেলা সদর হাস্পাতালে ইউরোলজি বিভাগ নেই। সেট আপ নেই। কিন্তু সপ্তাহান্তে জাতীয় কিডনী হাসপাতালের কোন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ যদি সেখানে যান এবং রোগী দেখেন তাহলে সেখানকার রোগীদের নিঃসন্দেহে কিছু উপকার হয়। হয়তো এই সমস্যার জন্য তার ঢাকায় আসতে হতো। অথবা তিনি হয়তো বুঝতেও পারতেননা কোথায় যাবেন। জেলা সদরে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা তিনি অন্তত একটা দিক নির্দেশনা পেলেন। একইভাবে ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদরে যদি একজন রিউম্যাটলজিস্ট সপ্তাহান্তে চেম্বার করেন তাহলে তো সেটা ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীরই লাভ।

সম্প্রতি চিকিৎসা সুরক্ষা আইন নামের যে আইনের খসড়া করা হয়েছে তাতে এই কোন চিকিৎসক সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও যদি কর্মস্থলের বাইরের কোন জেলায় প্র‍্যাক্টিস করেন তাহলে অনুমতি নিতে হবে বলে উল্লেখ রয়েছে৷ সেই অনুমতি যেকোন সময় কর্তৃপক্ষ বাতিল করতে পারেন। স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে এখানে ফ্রাইডে প্র‍্যাক্টিসকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। নিষেধ করা হচ্ছেনা। অনুমতি নিতে হবে৷

অনুমতি নেবেন কার কাছে? মিনিস্ট্রিতে দৌড়ুতে হবে। এরজন্য আপনাকে এপ্লিকেশন করতে হবে। ফরোয়ার্ড নিতে হবে। তারপর একটা ফাইল হবে। সেই ফাইল টেবিলে টেবিলে ঘুরবে।

আমরা ঘরপোড়া গরু। আমরা জানি এই ফাইল কত দ্রুত ঘুরবে তা নির্ভর করবে বিশেষ কিছু নিয়ামকের উপর। ফাইনালি আপনি অনুমতি পাবেন, তবে মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে যাবে অনেকগুলো....।

স্বাস্থ্যখাতে সংষ্কারের জায়গা অনেক। রেফারাল সিস্টেম গড়ে তোলা দীর্ঘদিনের দাবী। একজন ডাক্তার সর্বোচ্চ কতজন রোগী দেখবেন তা ঠিক করা জরুরি। হাসপাতালগুলিতে বেশ কিছু বিভাগে নতুন পদ সৃষ্টি করা জরুরি৷ যেমন বাংলাদেশে হরমোন রোগ, রিউম্যাটোলোজি বা বাতব্যাথা রোগ, হেমাটোলজি ইত্যাদি বিষয়ে পর্যাপ্ত পদই নেই। ঢাকার বাইরে তো আরো সংকুচিত। কিন্তু সেদিকে কারো দৃষ্টি নেই।

প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যসুরক্ষা আইন দেখে মনে হয়েছে স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নের চেয়ে চিকিৎসকদের এক হাত দেখে নেওয়ার প্রতিই মূল আগ্রহ কাজ করেছে। এবং ব্যাপারটা খুব নগ্নভাবেই প্রকাশ পাচ্ছে। "নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভংগ" এই প্রবাদটা বাংলাভাষা ছাড়া আর কোন ভাষায় বোধ হয় নেই।

আপনার মতামত দিন:


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়