Ameen Qudir

Published:
2019-10-23 11:40:49 BdST

মিম'কে ডিম বলায় হত্যা, গাছ কুপিয়ে খুন: এই রাগচন্ডীদের ব্যাপারে যা করণীয়



ডেস্ক

________________________

খালাতো বোনের নাম বিকৃত করায় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সিংগা গ্রামে শিশু রমজান শেখকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা করেছে খালাতো বোন মিম আক্তার। তাকে ‘ডিম’ বলে ডাকায় রমজানকে খুন করে সে।
অন্যদিকে ঢাকার সাভারের সিআরপি রোডে এক মহিলা দা হাতে অন্য একজনের তৈরি করা ছাদবাগানের সব গাছ কেটে সাফ করে দিচ্ছেন! দৌড়ে দৌড়ে কোপাচ্ছেন। গাছের মালিকের আকুতি, কান্না তাকে স্পর্শ করছে না। তার গাছ কাটা ভঙ্গি রীতিমত ভয়াবহ।
এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এখন ফেসবুকসহ বিকল্প অনলাইন মিডিয়ার বদৌলতে খবরগুলো পাচ্ছি। এর আগে এক পিতা, চাচা মিলে হত্যা করেছে পুত্রকে।


ঘটনার পাবলিক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করার মত। সবাই লিখছেন, এই সব লোক মানসিক রোগী। এদের পাগলা গারদে নেয়া হয় না কেন। এদেরকে অবিলম্বে মানসিক ডাক্তার দেখানো হোক।
পাবলিক ঠাট্টা করে হোক বা গুরুত্ব দিয়ে কথাটা বলুন না কেন, আসলে তারা ঠিক কথাই বলছেন।
মিমকে ডিম বলা ; এরকম ঠাট্টা তামাশা কাজিনদের মধ্যে, ভাইবোনদের মধ্যে চলেই। নাম বিকৃত করে বলা এক ধরণের বিনোদন। তা নিয়ে মারপিট টুকটাক চলেই। কিন্তু রীতি মত গলা টিপে হত্যা সেটা অস্বাভাবিক।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ ও ওসিডি কনসালটেন্ট ডা. সুলতানা এলগিন বলেন,
যদি এমন হয়, ছেলেটি নাজুক ছিল, ঠাট্টা ছলে
গলা ধরায় কোন শারিরীক অসুস্থতার কারণে শিশুটির মৃত্যু হলে ভিন্ন কথা। কিন্তু মিম যদি তাকে হত্যার জন্যই গলা টিপে ধরে হত্যা করে, সেটা অস্বাভাবিকতা।
মিমের এই রাগ অস্বাভাবিক। সে রাগজনিত অসুস্থ।
সেক্ষেত্রে পাবলিক রিএকশন অবশ্য সঠিক। মিমের মানসিক চিকিৎসা দরকার ছিল। এ্যাংগার ম্যানেজমেন্ট বলে বিষয় আছে। অতি রাগ ,হঠাৎ রাগের বাড়াবাড়ি এসব ভাল নয়। এসবের আগাম ও দরকারি চিকিৎসা আছে। কোন শিশুর মধ্যেঅতি রাগ দেখলে, বা সাবালকের মধ্যে রাগ রোগ দেখলে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখান।
সাভারে সিআরপির মহিলার ক্ষেত্রেও একই কথা। তিনি ঠান্ডা মাথায় বৃক্ষ কতল করলে সেটা নৈতিক অপরাধ। কিন্তু অতি রাগের বশে করলে তার চিকিৎসা দরকার।

 

গাছকতলীর বহুল আলোচিত ঘটনার বিবরণ
______________________

ভিডিও লিঙ্ক: https://www.facebook.com/sumaiya5800/videos/853206851740339/?t=4


শত্রুতার কোপ গাছে! অসহায় মালিকের চিৎকার! কালের কন্ঠের রিপোর্ট ---
শহরে ফ্ল্যাট বাড়িতে যারা থাকেন তারা বারান্দায় কিংবা ছাদে গাছ লাগিয়ে থাকেন। সরকার থেকে এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো ছাদ বাগান তৈরিতে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। কিন্তু এবার সাভারের সিআরপি রোডের এমন ভয়াবহ এক ভিডিও সোশ্যাল সাইটে এল, তা দেখে আঁৎকে উঠেছেন সবাই! যে কোনো কারণেই হোক, এক মহিলা দা হাতে অন্য একজনের তৈরি করা ছাদবাগানের সব গাছ কেটে সাফ করে দিচ্ছেন! গাছের মালিকের আকুতি, কান্না তাকে স্পর্শ করছে না। সঙ্গে আছে তার ছেলে আর গুণ্ডাপাণ্ডার দল! এই অমানুষিক ঘটনায় শিউরে উঠেছে সবাই!

সুমাইয়া হাবিব নামের ভুক্তভোগী ওই নারী ফেসুবকে নিজের গাছের ওপর এমন বর্বর আচরণের ভিডিও আর বিবরণ পোস্ট করেন। একপর্যায়ে তাকে দা দিয়ে আঘাত করতে উদ্যত হন সব গাছ কেটে ফেলা ওই মহিলা। সুমাইয়া লিখেছেন, 'কখনো কি শুনছেন মানুষ গাছ অপছন্দ করে? গাছ পরিবেশ নষ্ট করে? এই মহিলার গাছ পছন্দ না। তার বক্তব্য আমাদের গাছ ছাদের পরিবেশ নষ্ট করে ফেলছে। তাই এই মহিলা আমাদের সব গাছ কেটে ফেলছে। কি অপরাধ ছিল গাছের? কি অপরাধ ছিল? কেউ বলতে পারবেন?'

'আমার মা গাছ অনেক পছন্দ করে, তাই ছাদের এক কোণায় আমরা কিছু গাছ লাগাইছিলাম। আর এই মহিলা আমাদের সাথে শত্রুতা করে আমাদের লাগানো গাছগুলা কেটে ফেলল। এই বিল্ডিংয়ে আমরা ২ টা ফ্লাট কিনেছি। সবাই যার যার ক্র‍য়কৃত ফ্লাটে থাকে। ছাদে সবারই অধিকার আছে। আমরা আমাদের অধিকার থেকে কিছু গাছ লাগিয়েছি ছাদের একটা কোণায়। কারণ আমরা ভাবতেও পারি নি গাছ মানুষ অপছন্দ করতে পারে। গাছ তো সৌন্দর্য বাড়ায়। আর তারা বলে আসছে আমাদের গাছ নাকি ছাদের পরিবেশ নষ্ট করে দিছে।'

'তারা অকারণে অন্যায়ভাবে আমাদের জীবন্ত এবং ফল ধরন্ত গাছগুলি কেটে ফেললো। আবার তার ছেলে কিছু ১০/১২ জন মাস্তান নিয়ে আসছে আমাদের উপর হামলা করার জন্য। আমাদের একটাই অপরাধ আমরা গাছ ভালবাসি। তাই শখ করে গাছ লাগিয়েছিলাম। আমরা তো অন্যের জায়গায় গাছ লাগাই নাই। আমরা আমাদের অধিকার থেকে গাছ লাগাইছিলাম। আমার মা এই গাছগুলিরে নিজের সন্তানের মত যত্ন করে। আমরা গাছগুলোকে নিজের সন্তানের মত ভালবাসতাম। মানুষ কীভাবে এতটা নিচে নামতে পারে? গাছ তো তাদের কোনো ক্ষতি করে নাই। পুরা ছাদই তো ফাঁকা।'

এই মাগরিবের আযানের সময়, ওনার মাথায় সুন্নতি হিজাব কিভাবে পারলো এই ধরন্ত গাছগুলি কেটে ফেলতে। এর হয়তো কোনো বিচার হবে না। তবে আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম। আল্লাহই বিচার করবে। আপনারা এই পোস্ট প্লিজ একটু শেয়ার করবেন।
সুমাইয়া হাবিব বলেন, 'আমাদের তারা হিংসা করত। আমাদের এখানে দুইটা ফ্ল্যাট আর তাদের একটা। আমরা গাছ লাগাইছি দেখে তাদের গা জ্বলত। তাদের ছেলে মস্তানি করে। সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সেই ছেলে আমাদের গাছ ভেঙে ফেলত। একদিন তাদের উদ্দেশ্য না করে বলছিলাম, যারা আমাদের গাছ ভাঙতেছে তাদের হাত যেন অবশ হয়ে যায়। এতেই হয়তো শত্রুতা করল।'

মিমকে ডিম বলায় খুন/ দেশ রূপান্তরপত্রিকার রিপোর্ট


খালাতো বোনের নাম বিকৃত করায় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সিংগা গ্রামে শিশু রমজান শেখকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। খালাতো বোন মিম আক্তারকে ‘ডিম’ বলে ডাকায় রমজানকে খুন করা হয়।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আমাতুল মোর্শেদার আমলি আদালতে মূল আসামি রমজানের খালাতো বোন মিম আক্তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

জবানবন্দিতে মিম জানায়, ‘মিম’ না বলে ‘ডিম’ ডাকায় রমজানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, তাকে ‘মিম’ না বলে ‘ডিম’ ডাকত রমজান। এতে ক্ষিপ্ত ছিল মিম। বুধবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পরে রমজানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। পরে কয়েকজনের সহযোগিতায় মরদেহ গুমের চেষ্টাও করা হয়। রাতে গ্রামে অভিযান চালিয়ে হত্যার সময় শিশু রমজানের সঙ্গে থাকা বই ও স্যান্ডেল উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় রমজানের বাবা ইলিয়াস শেখ, ইউসুফ শেখ, লাকী বেগম ও হাবিবুর রহমানসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

 

 

আপনার মতামত দিন:


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়