Ameen Qudir
Published:2019-01-29 23:11:05 BdST
ডাক্তার জীবন হায়! ডাক্তারি পেশায় কেন এলাম !
ডা. শিরিন সাবিহা তন্বী
_______________________________
পদার্থ বিজ্ঞানে পদার্থের জড়তা গুণ পড়েছিলাম। মনে হচ্ছে মেয়ে দের মধ্যে জড়তা গুণটা একটু বেশিই আছে।
এবারের মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষাতে ছেলে এবং মেয়ে চান্স প্রাপ্ত দের রেশিও ফ্যাক্ট।
ছেলেরা কম পড়াশুনা করে বলে ২০০ ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে ১৩৮ জন মেয়ে বা পুরো ক্লাসে কেবল দুজন ছেলে এটা আমি মানতে নারাজ।
ছেলেদের জড়তা কম।তারা আপডেটেড।
এইদেশে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে জীবন পানি করে অমানুষিক খাটনি খেটে ডাক্তার হয়ে অতঃপর সবথেকে অমানবিক জীবন কেন যাপন করবে?
নিজের মেধা,শ্রম,প্রজ্ঞা,দেশপ্রেম,জনসেবার বিনিময়ে জনগনের ধোলাই,রুগীদের থেকে অকৃতজ্ঞতা,সকলের অপমান,সরকারের অবহেলা আর দিনশেষে ফেসবুকে ফ্যাচর ফ্যাচর??
না। কখনোই না।
একজন ছাত্র যে পড়াশুনা এবং রেগুলারিটি দিয়ে ইন্টার্ন বা হুদা এমবিবিএস হবে উহার দশ ভাগের এক ভাগ শ্রম এবং ডেডিকেটেশনের মাধ্যমেই তুমি যদি হনু ক্যাডারের লেদা অফিসার হয়ে সরকারি গাড়ি চড়ে সবার মাথার উপর সরকারি ছড়ি ঘুরাতে পারো - তুমি কেন তা করবে না?
একজন নারী এডমিন, নারী পুলিশ কিংবা নারী ডিফেন্স অফিসার সরকার থেকে আকাশচুম্বী সুযোগ সুবিধা ভোগ করে যার ফলে তার পক্ষে স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন অতিবাহিত সম্ভব।
একজন নারী চিকিৎসক নিরাপত্তা, সুযোগ সুবিধা কিছুই পান না।
বরং সিস্টেমবিহীন পোষ্ট গ্রাজুয়েশন এর পর্বত সমান চাপ তার নারী জীবনের রোমান্টিকতা,সংসার, মাতৃত্ব,সন্তান সবকিছুকে বিকলাঙ্গ করে দেয়।
খুব সাপোর্টিভ পরিবার,কর্মক্ষেত্রে সহযোগী দাবাং স্বামী কিংবা সংসার ত্যাগী হওয়া ছাড়া কোন নারী চিকিৎসক কোনো ভাবেই রুগী চিকিৎসাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন না।
এটা পরিক্ষীত সত্য।
ওয়েল প্রোটেক্টেড না হয়ে কোন সুন্দরী নবীন নারী চিকিৎসক যদি প্রাকটিসের একেবারে শুরুর দিকে পাবলিক যানবাহনে চড়ে তার নিজ গ্রামে ও সপ্তাহে একদিন রুগী চিকিৎসা দিতে যান - কি ঘটে বলাবাহুল্য।
আর চিকিৎসক দের সহিত সমাজের এই বিমাতাসুলভ আচরনের ফলাফল হিসেবে অতি সত্ত্বর ই ভালো,হাই প্রোফাইল,রেশনাল প্রাকটিসিং চিকিৎসকের সংখ্যা কমতে থাকবে।
ডাক্তার শুনলেই ইচিং আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর এই হঠকারিতার ফলাফল তখন পুরো জাতি বুঝবে।
প্রতিবেশী দেশগুলোতে ভাত না জোটা ডাক্তাররা তখন এসে এইদেশে বসে রুগী দেখবে।
আর যে মেধাবী ছেলে বা মেয়েটি ডাক্তার দের অসম্মান,মানহীন জীবনের দুরবস্থা দেখে ডাক্তার না হওয়ায় ডিসিশন নিয়ে অন্য কোন পেশাতে স্যুটেড বুটেড জীবন কাটাচ্ছে সে মিটিমিটি হাসবে।
ভাগ্যিস এই পেশায় আসিনি।
শত শত দুর্ভাগা চিকিৎসক যেমন হা পিত্তেশ করে, কেন এই পেশায় এলাম !
_______________________________

ডা. শিরিন সাবিহা তন্বী । সুলেখক । বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
