SAHA ANTAR

Published:
2022-07-07 20:56:10 BdST

বরেণ্যদের নি:সঙ্গ প্রয়াণ নিয়ে জাজমেন্টাল না হয়ে আসুন আমাদের সঙ্গে থাকা প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল হই


 

ডা. বিমলা রায়
_______________________

বরেণ্য চিকিৎসক ইকবাল উদ্দিন আহমেদ (৭২) এর নি:সঙ্গ প্রয়াণ ; তারও আগে জাবির প্রাক্তন অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রহমানের নি:সঙ্গ মৃত্যু ; এসব ঘটনায় মুক্ত মিডিয়ায় অনেকেই বেশ জাজমেন্টাল আচরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রয়াতদের প্রতি, তাদের শোকার্ত পরিবার সদস্যদের প্রতি সমবেদনার বদলে অনেকে তিক্ত হয়ে উঠেছেন।

মনবিশেষজ্ঞগন বিষয়টিকে গভীর দু:খজনক এবং যে কোন বিষয়ে একপেশে বিশ্লেষণের রোগ বলে অভিহিত করেছেন।
সমাজে নানামুখী প্রবাহ বাড়ছে। মেধা , প্রতিভার গুণে মানুষ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বময়। সবই স্বাভাবিক । জীবনের প্রয়োজনেই এই বিকাশ। এসব নি:সঙ্গ মৃত্যুর জন্য কোন অবস্থাতেই প্রয়াতের স্বজন পরিজন দায়ী নয়। সাফ উল্লেখ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিভাগের অধ্যাপক ও ডাক্তার প্রতিদিন সম্পাদক ডা. সুলতানা আলগিন । তিনি বলেন, দুটো ঘটনার সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বজন পরিজন প্রয়াতদের ছেড়ে যান নি। সকলে  গভীর আত্মীয়তার বন্ধনে ছিলেন। স্বজনের মৃত্যুমুহুর্তেই কাছে না থাকা নিতান্তই কাকতাল। সেজন্য স্বজনদের গভীর কান্না , কষ্ট , বেদনার সঙ্গে আমাদের অংশীভাগ হতে হবে। গভীর সমবেদনা জানাই পরিবার সদস্যদের প্রতি।


বলা বাহুল্য, এধরণের নি:সঙ্গ মৃত্যু নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক তাদেরকে নানা বিচার বিশ্লেষণে প্ররোচিত করে।বাস্তবতা সকলে র এক নয়। সকলের অনুধাবণের কথাও নয়।
পরস্পর দায়িত্বশীল , সম্মানীয় , প্রেমময় অটুট বন্ধনে থাকলেও সাময়িক ঘটনার কারণে কোন কোন পরিবারে ঘটে মর্মান্তিক কষ্টের কাহিনির অবতারণা। এ কষ্ট ভুক্তভোগীদের জীবনে গভীর অভিঘাত ও বেদনার সৃষ্টি করে। কিছু মানুষের জাজমেন্টাল আচরণ তাদেরকে আরও কষ্টে ঠেলে দেয়। যা কখনওই কাম্য নয়।

সমাজে পরিবারে রাষ্ট্রে বিশ্বে প্রবীণ জনসংখ্যা বাড়ছে। তারা নানামুখী বঞ্চণা , অবহেলার শিকার। সপরিবারে সকলের সঙ্গে থাকছেন , তারপরও প্রবীণ সদস্যরা নানামুখী অবহেলার শিকার হচ্ছেন। সকলের উচিত ,সে দিকে নজর দেওয়া। প্রবীণদের সবচেয়ে বড় অবহেলা হয় স্বাস্থ্য সেবায়। তারা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পান না। প্রবীন স্বাস্থ্যসেবা , প্রবীন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ভীষণভাবে অবহেলিত এই দেশে।
এখন আয়ুসীমা বেড়েই চলেছে। এজন্য   ওল্ড এজ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে সম্মিলিত ভাবে ভাবনা চিন্তা দরকার। ওল্ড এজ প্লানিং করছেন অনেকে। এটা দরকার।
বরেণ্য মানুষেরা স্বাভাবিক সমাজ বাস্তবতায় নি:সঙ্গ প্রয়াত হয়েছেন , সেটা নিয়ে তিক্ত মন্তব্য করে দুষ্ট-আনন্দ না পেয়ে আমাদের উচিত , আমাদের সঙ্গে থাকা প্রবীণদের দিকে , তাদের চাওয়া পাওয়ার দিকে নজর দেয়া। তাদের প্রতি যত্ন নেয়া।

সামিহা আক্তার লিখেছেন,
আমার মনে হয় এই বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেক বেশি জাজমেন্টাল আচরণ করছি।
ডিএসডিতে সেদিন এই রিলেটেড একটি পোস্টের কমেন্ট দেখলাম। কিছু কমেন্টস আছে এত ভয়াবহ যে এরা মৃতের প্রতি সিমপ্যাথি দেখাতে এসেছে নাকি ডাক্তার এবং বিত্তবান বলে নিজেদের জেলাসি দেখাতে এসেছে আল্লাহ্ জানেন।
উনার স্ত্রী বা কন্যাকে আমরা কেউ চিনি না।অথচ তাদের নিয়ে এমন কোন বাজে কথা নাই যা বলা হচ্ছে না।সবসময় সব ডিসিশন কি স্ত্রী সন্তানদের কাছে থাকে? উনি কি কখনো উনার আত্মীয় স্বজনের কাছে উনার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কমপ্লেইন করেছিলেন?তারা এই দুই সপ্তাহে কোন খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেনি, এমন কি কোন প্রমাণ পাওয়া গেছে? এমন কি হতে পারে না যে তাদের সেখানে বড় ধরনের কোন ঝামেলা ছিল, তাই ফিরতে পারছিলেন না?এমনকি হতে পারে না যে মৃত ব্যাক্তি প্রায়ই ফোন ধরতেন না, তাই তারা প্রথমে এত গুরুত্ব দেয়নি?
এবার আসি মৃত ব্যাক্তির চরিত্র নিয়ে। সারাজীবন ডিগ্রির পিছনে ছুটেছেন বলে নাকি তার এমন অবস্থা। এক ডাক্তার ভাই আবার বললেন এই লোক আরেকটা বিয়ে করল না কেন? আমরা কেউ কি জানি এই লোক আদতে কেমন ছিলেন? উনি নিজে কি অনেক মানুষ নিয়ে থাকতে চাইতেন নাকি একা নিরিবিলি জীবন চেয়েছেন?সবচেয়ে অদ্ভুত লাগে তার মৃত্যুর চিত্র দেখে তার চরিত্র জাজ করা।আমাদের নবীর দৌহিত্রদের কেমন মৃত্যু হয়েছে আমরা সবাই জানি, তাদের চরিত্র কেমন ছিল?
অনেক কিছুই হতে পারতো, আমরা কিছুই জানি না আসলে।তাই এটলিস্ট জাজমেন্টাল হওয়া বন্ধ করি। ডেভেলপিং কান্ট্রিতে চাইল্ড কেয়ার যেমন দরকার, ওল্ড হোমও তেমন দরকার। এটা নিয়ে বরং মাথা ঘামাই।উন্নত দেশে বেশির ভাগ বয়স্ক লোকজন একা থাকতে চান। ওনাদের সাপোর্ট দেয়ার সিস্টেমগুলো ফলো করলেও ব্যাপারগুলো অনেক সহজ হবে।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়