SAHA ANTAR

Published:
2022-06-09 20:21:57 BdST

বাস্তবে আইটি বিশেষজ্ঞ রোদ্দুর রায় কি মানসিক রোগী! নাকি প্রশাসন ও রাষ্ট্রকে বোকা বানানো মহা সেয়ানা!


রোদ্দুর রায়

 

ডেস্ক
_________
রোদ্দুর রায় কি মানসিক রোগী! নাকি তিনি মহা সেয়ানা হিসেবে প্রশাসন ও রাষ্ট্রকে বোকা বানিয়ে কামিয়ে নিলেন প্রচুর মিডিয়া কাভারেজ।
পশ্চিম বাংলা র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার
আগেও বহু বার বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর পুরো পরিচয় অনেকেরই জানা নেই।


মুখে অশ্রাব্য ভাষা ছুটলেও রোদ্দুর রায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা রীতিমতো ঈর্ষণীয়। রামনগর কলেজ থেকে তিনি স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করেন।


গিটার বাজাতে পারদর্শী রোদ্দুর কিছু দিন ডিজে হিসাবেও কাজ করেছেন।


রোদ্দুর রায় গবেষক হিসাবেও কাজ করেছেন। তার গবেষণার বিষয়বস্তু চেতনা বিজ্ঞান। অনেকের মত, তিনি যে ভাষা প্রয়োগ করেন এবং যে ধরনের গানবাজনা করেন, তা তাঁর গবেষণার অঙ্গ।

 

মনোবিজ্ঞানের উপর একটি বইও লিখেছেন রোদ্দুর রায়। সেই বইয়ের নাম ‘অ্যান্ড স্টেলা টার্নস এ মম’।


এক সময় দিল্লির নয়ডাতে আইটি সেক্টরে চাকরি করেছেন। পরে চাকরি ছেড়ে আবার পড়াশোনার মধ্যে ফিরে আসেন তিনি।


রোদ্দূর রায় বাংলায় একটি উপন্যাসও লিখেছেন। তার নাম – ‘মোক্সা রেনেসাঁ’। তিনি নিজেকে ‘মোক্সা ঘরানা’র প্রতিষ্ঠাতা বলেও দাবি করেন।

 

হালে রূপঙ্করকে নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। সেই নিয়ে বিতর্ক ছিল চরমে। তার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য নিয়েও জলঘোলা হয়েছে। সেই সূত্রেই গ্রেফতার তিনি।


তবে রোদ্দুর রায়কে নিয়ে এর আগে যে বিতর্কটি হয়েছিল, তা হল রবীন্দ্রভারতী ক্যাম্পাসে তাঁর গান পড়ুয়াদের গায়ে লিখে রাখা। সেই সময়ে বেলেঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক ঐক্য মুক্তমঞ্চের সদস্যরা। তাঁদের দাবি ছিল, ওই ইউটিউবার যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করছেন। রোদ্দুর রায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন করেন তাঁরা।

রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল ইসলামের গানের প্যারোডি গেয়ে সব সময়ে বিতর্কে থাকেন রোদ্দুর। তাঁকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি রবীন্দ্রবিরোধী কি না? নাকি তিনি রাবীন্দ্রিকতা বিরোধী? উত্তরে রোদ্দুর বলেছিলেন, ‘দাদুর প্রতি আমার অসীম প্রেম।’ তাতেও চটে যান রবীন্দ্রপ্রেমীরা।

 

আর রোদ্দুর রায়ের আসল নাম? অনির্বাণ রায়।

মৈনাক গুপ্ত লিখেছেন, একটা খ্যাপা বিকৃত মানুষকে নিয়ে যে পরিমাণ শব্দ খরচ চলছে, কোন সন্দেহ নেই রোদ্দুর নিজের উদ্দেশ্যে সফল। ওনার বেশ কিছু ভিডিও আমি দেখেছি। এইটা বুঝতে, যা উনি বলেন তার মধ্যে অন্তর্নিহীত কিছু মেসেজ আছে কিনা। অথবা নতুন কিছু দিকনির্দেশ আছে কিনা চিন্তাভাবনায়। কিচ্ছু নেই। মানে, নতুন কিছু নেই। গভীরতা তো নেইই। সিস্টেম বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষ প্রতিবাদ করেন। রোদ্দুর ও করেছেন। ক্ষমতাসীন রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের দূর্নীতির কথা অসংখ্য সচেতন মানুষ বলেন। ইনিও বলেছেন। রুপংকর সবার কাছে অকথ্য বাজে কথা শুনেছেন।রোদ্দুর ও বলেছেন। নতুন কি? নতুন হল, রোদ্দুর সাথে শুধু অকথ্য গালিগালাজ জুড়ে দিয়েছেন। আর জুড়েছেন বীভৎস কিছু মুখভঙ্গি। আর বেছে বেছে জনপ্রিয় কিছু প্রতিবাদের থিম-কে ধার করে নিজের ফরম্যাটে ফেলে দিয়েছেন।কেন? কারণ, নাহলে আমার আপনার প্রতিবাদের থেকে তিনি আলাদা হতেন না। views বাড়তো না। রোজগার হতনা।

এর আগেও এক জিনিস করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে। গানের লাইনের মাঝে অশ্রাব্য শব্দ, বিশ্রী গলায় বিকৃত সুর। কিছু মানুষের সমর্থন পেয়েছেন। বেশীর ভাগেরই বিদ্রুপ বা বিরক্তির উদ্রেক ঘটেছে। কিন্তু, নিজের উদ্দেশ্যে রোদ্দুর সফল হয়েছেন। একটা ভিডিও দেখেছিলাম। একটা ববি প্রিন্টেড ল্যাঙট পরে সমুদ্রসৈকতে নাচছেন আর গাইছেন। পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে। আমাদের হালিসহরে অনেক মানুষকে ছোটবেলায় গান গাইতে শুনেছি অনুষ্ঠানে। সবাই সেরকম খ্যাতিমান যে ছিলেন তা নয়। কিন্তু এক ন্যাঙটো লোক, মানসিক ভারসাম্যহীন; সে বাচ্চাদের দেখলেই তেড়ে তেড়ে এসে "সমুন্দর মে নাহাকে অউর ভি, নমকিন হো গ্যায়ে" গানটি গাইতো। বাচ্চারা ভয়ে পালাতো। কিন্তু ওই করে তাকে সকলে চিনে গেছিল।

রোদ্দুর নামের এই শেয়ানা পাগলটি এই সারবুঝ টা বুঝতে পারেন।

শুনেছি রোদ্দুর রায় একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় চাকরি করেন। সেখানে, আমি নিশ্চিত, কোন ক্লায়েন্ট কলে এরকম মুখ ভেঙচে, নেচে গেয়ে গাঁজা সেবন করতে করতে তিনি কথা বলেন না। কিংবা ইনক্রিমেন্ট পছন্দ না হলে HR এর মা বাবা তুলে শ্রাদ্ধ করেন না। তাহলে চাকরি থাকতো না। অর্থাৎ উনি selectively পাগলামি করেন।

ওনাকে অনেকে প্রতিভাবান বলেন। মজার ব্যাপার হল, নিজের প্রতিভা দিয়ে কিন্তু তিনি কোথাও সফল হন নি। এর কারণ হল আমাদের দেশে প্রতিভাবান মানুষ অসংখ্য। বিখ্যাত হওয়ার জন্য প্রতিভার সাথে হয়তো ভাগ্যও লাগে। রোদ্দুরের সেই বোধ টুকু ছিল। ওঁর নিজের লেখা বই হাত গুণে অল্প কিছু ভক্ত পড়েছেন হয়তো। কিন্তু সেই বই তাঁকে কোথাও নিয়ে যেতে পারেনি। কিনে সেই বই পড়ে মানুষ তাঁকে খ্যাতিমান করেনি। তারপর তাঁর মনে হয়েছে স্থায়ী ভাবে কোন বিখ্যাত বা পবিত্র সৃষ্টিকে বিকৃত করতে পারলে অনেক মানুষের চোখে তিনি পড়বেন। তা-ই হয়েছে। তাই অসাধারণ কিছু রবীন্দ্রনাথের গান তিনি অমন করে বিকৃত করেছেন।

গালাগালি দেওয়া ভালো কি খারাপ সেই তর্কে যাওয়া অর্থহীন। কিন্তু গালাগালি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি অস্বাভাবিক একঘেয়ে। ওনার sympathiser দের উদ্দেশ্যে আমার প্রশ্ন হল, ওনার প্রতিবাদের ভাষা আপনাদের এতই iconic মনে হয় যখন, আপনারাও সামাজিক মাধ্যমে এরকম ভাবে প্রতিবাদ করেন না কেন? সবাইতো নিজের পছন্দের মানুষকে অনুসরণ করেন। আপনারা কেন সেই বেলা নিজের ইমেজ নষ্ট করেন না? সেই সময় একটা খ্যাপা লোককে উস্কে দিয়ে নিজেরা পিছনে থেকে "লোকটার সৎ সাহস আছে" বলে থেমে যান কেন? মোদি বা মমতা'র বিরুদ্ধে রোদ্দুর একা প্রতিবাদ করেছেন? তা তো নয়? তাহলে কোন "সত্যি "টা রোদ্দুর বলেন যেটা এতদিন অপ্রকাশিত ছিল?

রোদ্দুর নিজেও জানেন উনি সহজে জামিন পাবেন। কিন্তু আরো বিখ্যাত হতে ওনার এই গ্রেফতার হওয়া খুব জরুরী ছিল। সেই ট্র‍্যাপে যথারীতি পা দিয়েছে রাষ্ট্র। শুক্তোর মশলা দিয়ে যেমন বিরিয়ানি রান্না হয়না, গালাগালি দিতে পারলেই সেরকম নবারুণ ভট্টাচার্য হওয়া যায়না। দুই পাল্লাকে এক করবেন না।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়