Dr.Liakat Ali

Published:
2021-09-11 05:42:01 BdST

ক্রাইম পেট্রল বাংলাদেশশরিয়াহ ব্যবসার নামে ১৭ হাজার কোটি টাকার চিটিং : মুফতি রাগিব হুজুরের পাল্লায় ঠকেছেন অনেক চিকিৎসক, প্রকৌশলীও


 

সংবাদ দাতা
_____________

মানুষের ধর্মীয় সরল বিশ্বাসেরকে পুঁজি করে প্রতারণা করতো এহসান গ্রুপ। শরিয়াহভিত্তিতে লভ্যাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৭ হাজার  কোটি টাকার প্রতারণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর তোপখানা রোড থেকে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগিব আহসান ও তার সহযোগী আবুল বাশারকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।
জানা যায়,আপাদমস্তক মুসল্লি মুফতি রাগিব হুজুরের পাল্লায় ঠকেছেন অনেক চিকিৎসক, প্রকৌশলীও। তারা সবাই প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ছিলেন। ইসলামি শরিয়া সম্মত আয় উপায়ের জন্য টাকা খাটিয়ে ছিলেন রাগিবের কাছে।
রাগিব হুজুর হায় হায় কোম্পানি হিসেবে ধরা পড়ায় নাম পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এই বিশিষ্ট জনরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

ওদিকে শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের কাছে রাগিব হুজুরের শরীয়া সম্মত ব্যবসার নানা কালো অধ্যায় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের টাকা দিতে পারছে না। এরইমধ্যে ১৫টির বেশি মামলা হয়েছে। জামিনও পেয়েছেন তারা। প্রতারণার কারণে রাগিব আরেকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন ২০১৯ সালে। কারাভোগও করেছেন।

রাগিব হাসানের অর্থ জালিয়াতি তদন্তের জন্য দুদক ও সিআইডিকে চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

গ্রাহকদের টাকা কী অবস্থায় আছে জানতে চাইলে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীদের যে অভিযোগ ও গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওই অর্থ জঙ্গি অর্থায়নে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা জরুরি হ'য়ে পড়েছে।

র‍্যাব এর বক্তব্যর সারসংক্ষেপ 


১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব হাসান ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।
সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান শুক্রবার সকালে এ তথ্য জানান।

সুদ ছাড়া ব্যবসার নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আছে এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে। এ ব্যবসায় চালাতে ‘এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’, ‘এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড’ খুলেছিল কোম্পানিটি। এ ছাড়া কয়েকটি মাদ্রাসাও খুলেছিল। এ গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে এর আগে দেশের বিভিন্ন জেলার মামলাও হয়েছে।

 

কে এই রাগিব আহসান?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৬ সাল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন রাগিব আহসান। হাটহাজারি মাদ্রাসাতেও পড়েছেন। পরে ২০০০ সালে খুলনার একটি মাদ্রাসা থেকে মুফতি করেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মাদ্রাসায় ইমামতি করেন। পাশাপাশি ২০০৭ পর্যন্ত একটি এমএলএম কোম্পানিতে চাকরিও করেন। ২০০৮ সালে এহসান মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেন নিজেই।

প্রাথমিকভাবে এহসান গ্রুপে লগ্নি হিসেবে ১০ হাজার সদস্যের কাছ থেকে ১১০ কোটি টাকা নেন তিনি। অর্থ সংগ্রহে শরিয়াহভিত্তিতে লভ্যাংশের কথা বলতেন। এ জন্য টার্গেট করতেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের। এমনকি এলাকায় ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেও বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করতেন তিনি। এভাবে একে একে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের মালিক বনে যান রাগিব।

আরো জানা যায়, তার অধীনে কাজ করতো ৩০০ মাঠকর্মী। তাদের নির্ধারিত বেতন ছিল না। তাদের কাজ ছিল বিনিয়োগ সংগ্রহ। বিনিয়োগ থেকে তাদের ২০ শতাংশ ‘কমিশন’ দেওয়া হতো। প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে দুটি বড় মার্কেটও কিনেছেন গ্রেফতার হওয়া রাগিব আহসান।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়