Razik hasan

Published:
2021-08-28 05:23:00 BdST

নিরেট বিজ্ঞান ভালবাসার সঙ্গে হৃদয়ের কোন সম্পর্কই নেই, আছে মস্তিস্কের


লেখক

 

রাজিক হাসান
___________________

গত তিনদিন ধরে ঝরে চলেছে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। শুধু বৃষ্টি আর বৃষ্টি। বহুবছর এমন বর্ষা দেখা হয় নি আমার। লন্ডনের বৃষ্টি খুব বিশ্রী টাইপের, সূঁচালো বৃষ্টির কণা, প্রচন্ড ঠান্ডা। শীতকালেই মূলত ঝরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। খুবই বিরক্তিকর। বৈশেখী ঝড় বা শ্রাবনের ধারা সেখানে নেই। নেই আশ্বিনের মেঘের গর্জন ও বিদ্যুৎ ঝলকানি। গান শুনে ও কিছু বিজ্ঞান বিষয়ক বই পড়ে বর্ষাটা বেশ উপভোগ করছি এবার।

আজ সকালে অলসভাবে গান শুনছিলাম নেটে আর চোখের সামনে বিজ্ঞানের একটি ম্যাগাজিন, হঠাৎ ভুপেন হাজারিকার একটি গান বেজে উঠলো, আগে শুনেছি কি না মনে করতে পারলাম না, তবে শুনতে বেশ লাগলো তাঁর গানটি -

"প্রেম আমার শত শ্রাবণের
অবিরাম বৃষ্টির বন্যা আনে
যৌবন বাসনার রিক্ত দুকূল
পূর্ণ করে মত্ত প্লাবনে

নির্জন স্তব্ধ তিমিরের পার ভেঙে
উচ্ছল জীবনের জোয়ার আনে
অপরূপ বরষার অনন্ত বরিষণ
নাচে নব সৃষ্টির গানে"

ম্যাগাজিনের পাতা ওল্টাচ্ছি আর গান শুনছি। চোখ আটকে গেল একটি পাতায়। সেখানে লেখা --

"This is the chemical formula for love:
C8H11NO2+C10H12N2O+C43H66N12O12S2
dopamine, seratonin, oxytocin.
It can be easily manufactured in a lab, but overdosing on any of them can cause schizophrenia, extreme paranoia, and insanity."

অর্থাৎ ভালোবাসা হৃদয়বৃত্তির কাজ নয়, দেহের ভেতরে ঘটা chemical reaction মাত্র। তাই Oxytocin হরমোনটির নামই হয়ে গেছে ' love hormone '

এই লাভ হরমোনের ডোজ একটু বেশি হলেই কেউ মানসিক রোগী এমনকি পাগলও হয়ে যেতে পারে।

বাবা-মা, সন্তানের প্রতি যে অনুভুতি কাজ করে সেটাও oxytocin নামক হরমোনের প্রভাবে।

অর্থাৎ সাইন্স অনুসারে ভালবাসার সঙ্গে হৃদয়ের কোন সম্পর্কই নেই, আছে মস্তিস্কের।

তাহলে বিজ্ঞান অনুসারে oxytocin নামক হরমোনের প্রভাবেই রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘ শ্যামা ‘ নাটকে “ প্রেমের জোয়ারে ভাসাবে দোঁহারে, বাঁধন খুলে দাও “ বলে আহবানটা জানিয়েছিলেন, তাই কি নয়? কিন্তু দেখাই যাচ্ছে সে আহবান সফল হয়নি। প্রেম সর্বব্যাপ্ত হতে পারেনি, বাঁধন খুলে দেয়া হয়নি তার। সমাজের অদ্ভুৎ সব অনুশাসন প্রেমকে মুক্তি দেয়নি মোটেও।

হয়তো বিজ্ঞান দিতে পারবে এর উত্তর।

অথচ যুগে যুগে মানুষ তার সুকুমার বৃত্তির সবটা উজাড় করে প্রেম-বন্দনা করেছে। অবশ্য বিরোধীতাও যে হয়নি তা নয়।

বিদ্রুপ করে এ কথাও বলা হয়েছে , প্রেমের কাছে বাস্তব জীবন যত ঋণী, নাট্যমঞ্চ ঋণী তারচে বেশি। অর্থাৎ প্রেমে যে নাটকীয়তা তা নাটকে , সিনেমায় , সাহিত্যে , সংস্কৃতিতে যতটা মানায় বাস্তব জীবনে ততটা মানায়না।

প্রেমের বিরুদ্ধে আরেকটা অভিযোগ, একমাত্র এই সম্পর্কে লাগাতার অতিশয় ভাষনের চল প্রেম ভিন্ন কোথাও নেই।

যাঁরা আবেগটিকে (love hormone) প্রশ্রয় না দিয়ে পারে না তাঁদের জন্য সবচে বুদ্ধিমানের কাজ হবে, একে জীবনের সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে আলাদা করে ফেলা। একবার যদি এ জিনিষ বিষয়কর্মের মধ্যে এসে দাঁড়াতে পারে , ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। নানান জিনিস হারাতে হবে এমনকি নিজেকেও হারিয়ে ফেলার ঝুঁকি আছে। এ যেন আনন্দের মুদ্রা দিয়ে ঝুঁকির মূল্য শোধ।

তাই বলে মানুষ ভালোবাসবে না? বাসবে।

রবীন্দ্রনাথ তো বলেই দিয়েছেন --

আরো প্রেমে আরো প্রেমে ,
মোর আমি ডুবে যাক নেমে।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়