SAHA ANTAR

Published:
2021-01-20 21:51:25 BdST

উপেক্ষাকে কাজে লাগিয়ে মধুরা পণ্য আজ সকলের প্রিয়


 

 মধুরা প্রতিবেদন

_____________________

আমরা উপেক্ষাকে কাজে লাগিয়েছি...
মধুরা পণ্য আজ আস্থার জায়গা
হ্যাঁ আমরা একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম। মেয়ের নামে একটা কিছু তৈরি করবো যেটা যুগযুগ ধরে মানুষের মঙ্গল করে যাবে। মানুষের হাতে ভালো কিছু তুলে দেবে। ২০১৯ সালে প্রথম একটা দেশী পণ্যের অনলাইন শপ করে ফেসবুকে মধুরা পণ্য ডটকম নামে একটা পেইজ খুলি। মূলত: দেশি মোরগ-মুরগি, মসলা, সরিষার তেল, দই মিষ্টি ছিল আমাদের প্রধান পণ্য। কিন্তু খাঁটি পণ্য কিভাবে সংগ্রহ করতে হয় সেই অভিজ্ঞতা না থাকায় পরিচিত যাদের কাছে পণ্য বিক্রি করেছিলাম তেমন সাড়া পাইনি। একটা বছর ধরে আমাকে ভাবতে হয়েছে। ২০২০ সালে করোনা হানা দিলো। আমার বেকার অবস্থা। নিদারুণ কষ্ট, অভাব অনটন নিয়ে পুরোমাত্রায় হতাশার মধ্যে ডুবে যেতে লাগলাম। কি করি মাথায় কিছু আসছে না। বাসা ভাড়া বাকি পড়ছে মাসের পর মাস। তবে আমার মধ্যে অদভুত এক ইচ্ছা শক্তি ও ইতিবাচক চিন্তা কাজ করে যা আমাকে ঘুরে দাাঁড়াতে সহায়তা করে বিপদে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি গ্রামে চলে গেলাম। স্ত্রী-পুত্র -কন্যাসহ। এর আগে একটি ব্যাংকের ডিএমডির সঙ্গে আলোচনা করে গেলাম যে, আমি গ্রামের কৃষক ও উৎপাদকদের একত্রিত করবো। তাদের উৎপাদিত পণ্য আমি ঢাকায় বিক্রি করবো। আমি একটু খোঁজ খবর নিয়ে দেখলাম ঢাকায় দেশি মোরগ-মুরগি খুব একটা পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও সেটা ফার্ম করা। ব্যস্। গ্রামে গিয়ে এই একটি মাত্র চিন্তা মাথায় নিয়ে কাজ শুরু করলাম। চোখে পড়লো হাঁস। সেটাও নিলাম চিন্তার মধ্যে। ভাই-ভাবীর কাছ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা ধার করে যাত্রা শুরু করলো মধুরা। তারপর সে এক অভাবনীয় যাত্রা। প্রতি সপ্তাহে ক্রেতা বাড়তে লাগলো। নিজেই মার্কেটিং করি নিজেই বাসায় পৌছে দেই। মা কাঁদতে লাগলেন। ছেলে এতো পড়াশুনা করে, ভালো চাকরি করতো সেটা চলে যাওয়ার পর শহরে হাঁস-মুরগি বিক্রি করবে। মাকে বললাম, মা আমি তো কান বন্ধ করে দিয়েছি। কিছু শুনি না। আগামী তিন মাস আমি কিছু শুনবো না। এখনো কিছু শুনি না আমি। মধুরা পণ্যের শুভযাত্রার বয়স এখন ৪ মাস। এর মধ্যে হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, মধু, মাছ সবই বিক্রি করেছি। গত মাসে টাংগাইলের চমচম যুক্ত করেছি।

 

এখন ক্রেতারা গৃহপালিত গাভীর দুধ চাইছে, বগুড়ার কাটারি চাল চাইছে, খেঁজুরের গুড় চাইছে, লাল চিনি চাইছে। ধীরে-ধীরে সব যুক্ত করছি। একটা কথা না বললেই না আমার এই কাজটাকে সব সময় উৎসাহ দিয়েছে গায়ে খেটে পরিশ্রম করে পণ্য পাঠিয়েছেন আমার বড় ভাই, আমার স্ত্রীর বড় বোন, তার ছেলে, আমার ভাতিজারা, আমার ভাবী, আমার মা। গ্রামের অনেক কটু কথা শুনে তারা আমার এই কাজটাকে করতে সাহায্য করেছে। আজ মধুরা পণ্য খাঁটি পণ্যের নির্ভরযোগ্য জায়গা ও মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। ক্রেতার বাড়ছে। পণ্যের সংখ্যাও দিন দিন বাড়াতে হচ্ছে। লোক বাড়ছে।
আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম খাঁটিপণ্য মানুষের হাতে তুলে দেবো। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। কি কাঁটা বিছানো পথে আমাকে আর আমার স্ত্রী মনিরাকে হাঁটতে হয়েছে, হচ্ছে আমরা আর উপরওয়ালা জানেন। হাল ছাড়িনি। কিছু মানুষের উপেক্ষা আমরা কাজে লাগিয়ে অপেক্ষা করেছি। আমরা মানুষের জন্য একটা প্রতিষ্ঠান করবো। মানুষকে ঘিরেই আমাদের কাজ।

 

মধুরা পণ্যের  তথ্য পাবেন এই লিংকে 

ফেসবুক পেজ :মধুরা পণ্য ডটকম

মোবাইল ফোন 01944238317

https://www.facebook.com/798384100524374/posts/1318292798533499/

https://www.facebook.com/798384100524374/posts/1318292798533499/

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়