Dr. Aminul Islam

Published:
2020-12-31 13:10:37 BdST

ওয়াজী বক্তারা প্রতিদিন কত আয় করেন, জানালেন বিএমএ নেতা ডা শাব্বির খান


ওয়াজী বক্তাদের আয়ের পোস্টমর্টেমঃ

ডা.শাব্বির হোসেন খান
সভাপতি, মৌলভীবাজার বিএমএ

------------------------------------

শীতের সিজনে আমাদের দেশের ব্যস্ত ওয়াজী হুজুররা ( ওয়াজের বাজারে বক্তা হিসেবে যাদের চাহিদা বেশী) গড়ে প্রতিদিন সর্বনিম্ন ১ টি করে ওয়াজ করছে। কারো কারো গড় এরচেয়েও বেশী; এদের অনেকেই হেলিকপ্টারে যাতায়াতের মাধ্যমে সময় বাঁচিয়ে থাকে। এরা সবাইই পার্সোন্যাল এসিস্টেন্ট রাখে এবং ওয়াজের জন্য তাদের অনেকেরই শিডিউল নিতে হয় এক থেকে দু'বছর আগে। শিডিউল দেয়ার সময় তারা কাছাকাছি এলাকাগুলোর জন্য কাছাকাছি তারিখের শিডিউল দিয়ে থাকে; তেমন সুযোগ হলে দুপুরে এক যায়গায় ওয়াজ করে ওইদিন রাতেই পার্শ্ববর্তী কোন জায়গায় ওয়াজের জন্য শিডিউল দেয়।

শীতের সিজন ছাড়াও প্রায় সারা বছরই কিন্তু ওয়াজ চলে আমাদের দেশে, শুধু বর্ষাকালের দুই মাস বাদ দিয়ে! তবে শীতের সিজনেই ওয়াজ বেশী (প্রায় ৮০%) হয়ে থাকে। শীতকালে ওয়াজের সময় থাকে কমপক্ষে ৯০-১০০ দিন (যেমন এ'বছর অক্টোবরের শেষদিকে শুরু হয়েছে, চলবে জানুয়ারীর শেষ/ ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি পর্যন্ত) । সেই হিসাবে অধিক চাহিদার ওয়াজী হুজুররা বছরে কমপক্ষে ৯০ টি ওয়াজ করে থাকে। কেউ কেউ আরো বেশী, ১০০-১২০ টি । যাদের বাজার চাহিদা কম/ সর্বনিম্ন, তারাও এই ৯০/১০০ দিনে কমপক্ষে ৫০-৬০ টি ওয়াজ করে। যাদের চাহিদা বেশী, তাদের রেট ও বেশী। এরা অনেকেই শুনেছি ইদানীং ঘন্টা হিসাবে ( কয় ঘন্টা বক্তব্য দেবে ) টাকা নেয় ওয়াজের জন্য।

ওয়াজের বাজারে বক্তা হিসাবে কম চাহিদাসম্পন্ন ওয়াজী'র সর্বনিম্ন রেইট ৩০-৫০ হাজার টাকা। আর বক্তা হিসাবে ওয়াজের বাজারে যাদের চাহিদা বেশী, তাদের রেইট ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা ( গড় ১ লাখ ৫০ হাজার) পর্যন্ত হয়ে থাকে। মাঝারী চাহিদার একটা গ্রুপ আছে, যাদের রেইট ৬০ হাজার থেকে শুরু করে ৮০/৯০ হাজার টাকা হয়ে থাকে।

হিসাবটা মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতই বটে! নীচের বিবরণে শুধু শীতের সিজনের ওয়াজকে ধর্ত্যব্যের মধ্যে আনা হয়েছে; বছরের বাদবাকী সময়ে করা ওয়াজগুলো এখানে হিসাব করা হয় নি।

★ওয়াজের বাজারে কম চাহিদা সম্পন্ন একজন ওয়াজী সিজনে সর্বনিম্ন ৫০ টি ওয়াজ করলে তার আয় হবে (৫০ x ৩০০০০/- = ১৫,০০,০০০/- = ১৫ লক্ষ টাকা)।

★বাজারে বেশী চাহিদা আছে এমন একজন ওয়াজী সিজনে সর্বনিম্ন ৯০ টি ওয়াজ করলে তার আয় হবে (৯০ x ১,০০,০০০/- = ৯০,০০,০০০/- = নব্বই লক্ষ টাকা)।

কি? মাথা ঘুরছে ওয়াজী হুজুরদের আয়ের হিসাব দেখে? বাই দ্যা ওয়ে, হুজুরদের যাতায়াতের খরচ কিন্তু আলাদা, সে হেলিকপ্টারই হোক কিংবা গাড়ি, তার ব্যায়টা আয়োজকদেরকেই বহন করতে হয়।

আসুন, এবার স্বঘোষিত স্বাধীনতাবিরোধী আজিজুল হক এর পুত্র মামুনুল হক এর আয়ের হিসাবটা দেখে নেইঃ

ক্যাটাগরিক্যালী সে মাঝারী চাহিদার বক্তা, যার রেট হচ্ছে ওয়াজ প্রতি ৫০-৭০ হাজার টাকা। বছরের বাদবাকী সময় হিসাবে না ধরে শুধু শীতের সিজনে সে কমপক্ষে (সর্বনিম্ন হিসাবে) ৮০ টি ওয়াজ করে থাকলে শুধু শীতের সিজনেই সে ইনকাম করবে (৮০ x ৬০০০০ = ৪৮,০০,০০০/-) = ৪৮ লক্ষ টাকা।

বিশ্বাস হচ্ছে না হিসাবটা? আমি বলবো, প্রকৃত টাকার অংকটা এর চেয়েও বেশী! ভিডিওটার শেষ অংশে দু'জন ওয়াজীর ( একজন মাঝারী চাহিদার আর আরেকজন বেশী চাহিদার বক্তা) শিডিউলের হিসাব দেখুনঃ বছরে মোটামুটি ৩০০ ওয়াজ করে থাকে তারা উভয়েই।

প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের এই ওয়াজী হুজুররা কি আয়কর দেয়? আমাদের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) কি হুজুরদের এই আয়ের ব্যাপারে ওয়াকেবহাল আছে?? এসব ওয়াজী হুজুরের প্রায় প্রত্যেকেরই গাড়ি আছে। গাড়ি যেহেতু আছে টিআইএন'ও আছে। ফোকটে আয় বলতে যদি কিছু বোঝাতে হয়, তাহলে তাদের আয়কেই বোঝাতে হবে। এদের সবাইকে যথাযথভাবে আয়করের আওতায় নিয়ে আসা উচিৎ নয় কি?

-ডা.শাব্বির হোসেন খান
সভাপতি, মৌলভীবাজার বিএমএ

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়