Dr. Aminul Islam

Published:
2020-11-24 19:09:58 BdST

ভারতসেরা জাদরেল অফিসার টি এন শেষন এক রাখালের কাছে যেভাবে হেরে গিয়েছিলেন


 

 

কমল বড়ুয়া
____________________

ভারতে একসময়ের জাঁদরেল আইসিএস অফিসার, পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন টি এন শেষন। এক ছুটির দিনে উত্তর প্রদেশের কোন এক এলাকায় পিকনিকে যোগ দেওয়ার জন্য সস্ত্রীক রওনা হয়েছেন। একটি আমবাগানের পাশ দিয়ে যাবার সময় চোখে পড়ল আমগাছে ঝুলছে অজস্র বাবুইপাখির বাসা। এমন ধরণের দৃশ্য তিনি আগে কখনো দেখেন নি। তাই মুগ্ধ নয়নে দেখছিলেন। তাঁর স্ত্রী আগ্রহ প্রকাশ করলেন, দুটি বাসা বাড়িতে নিয়ে যাবেন।
ওনাদের সাথের এসকর্টের লোকেরা ওখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক রাখাল তরুনকে দুটি পাখির বাসা পেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করল। কিন্তু সে রাজি হলো না। শেষন অনেক বড় অফিসার, কি তার ক্ষমতা, এসব কথা বলা সত্ত্বেও তরুনটিকে রাজি করানো গেলনা। শেষ পর্যন্ত শেষন নিজেই এগিয়ে গিয়ে তাকে ১০ টাকা বকশিস দিয়ে প্রলুব্ধ করতে চাইলেন, তবুও কাজ হলো না৷ এর পর ৫০ টাকা দিতে চাইলেন, কিন্তু সে অনড়।
পরে সে বলল, "সাহেব জি, এই বাসা গুলোর প্রতিটিতে একটি করে বাচ্চা রয়েছে। মা পাখিটা যখন বিকেলে খাবার নিয়ে এসে তার বাচ্চাটিকে পাবে না তখন তার কান্না আমি সহ্য করতে পারব না। কাজেই আপনি যত কিছুই আমাকে দিতে চান না কেন, কোন কিছুর বিনিময়েই আমি এ কাজ করতে পারব না।"
টি এন শেষন তাঁর আত্মজীবনী তে লিখেছেন, মুহূর্তে মনে হল আমার সমস্ত বিদ্যাবুদ্ধি, অভিজ্ঞতা, উচ্চ পদমর্যাদা সবকিছুই এই রাখাল তরুনটির চিন্তার কাছে একদানা শস্যেরও সমতুল্য নয়। শেষন বলেছেন এই অভিজ্ঞতা তিনি সারা জীবন বয়ে বেড়িয়েছেন।
যে বিদ্যা জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত করে না, বিবেক জাগ্রত করেনা তা অসার, অন্তঃসারশূন্য বোঝামাত্র।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়