Dr. Aminul Islam

Published:
2020-07-11 20:16:47 BdST

আমরা, আমাদের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক আর মারী



অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী
_____________________

জাতি সংঘ বলছে, আগামিতে আরও এরকম অতি মারী ঠেকাতে হলে প্রকৃতির , পরিবেশের সাথে আমদের সম্পর্ক পরিবর্তন করতে হবে । তা না হলে কো ভি ড ১৯ এর মত আরও এরকম ভাইরাস প্রাণী থেকে লাফিয়ে পড়বে মানুষের মধ্যে । জুনো টিক মারীর প্রধান কারন মানুষের কৃত কর্ম । প্রকৃতি ধ্বংস করলে নানা প্রাণী কুল আর প্রজাতি হয় ঘন সং বদ্ধ আর এদের মধ্যে হয় ভাইরাসএর হয় পরস্পর আনাগোনা , মিশ্রন । গোস্ত মাংসের ক্রম বর্ধমান চাহিদা একে বাড়িয়ে দেয় । এভাবে প্রাণীজ রোগ এসে যায় মানব দেহে । নতুন রোগের প্রাদুর্ভাবের ৬০ শতাংশ আসে প্রাণী থেকে । মানুষের পক্ষে এর ব্যয় ভার আর চাপ সহ্য করা দুঃসাধ্য / । কো ভি ড ১৯ এর আগেও জু নো টিক রোগে প্রতিবছর পৃথিবীতে প্রান হারাতেন ২ মিলিওন মানুষ । আর এতে ব্যয় হত ২ বছরে ৯ ট্রিলিয়ন ডলার । তাই বিনিয়োগ চাই ভবিষ্যৎ এমন মারী ঠেকানোর জন্য । জাতিসঙ্ঘের পরামর্শ one health approach । যেখানে আমরা মানুষ প্রানি আর প্রকৃতির স্বাস্থ্য দেখব এক ভাবে । এক সাথে । একই গুরুত্ব দিয়ে । এদেরকে দেখব পরস্পর সম্পর্কিত ভাবে । আরও নিরাপদ আর টেকসই খাদ্য ব্যবস্থায় । জোর দিতে হবে প্রাণী স্বাস্থ্যের ব্যাপারে । জৈব নিয়াপত্তা ব্যবস্থা হবে আরও শক্তিশালী ।
২.
সামগ্রিক বিচারে করোনা যত না শরীরের উপর প্রভাব ফেলেছে এর চেয়ে অনেক বেশী প্রভাব ফেলে মনের উপর, আমরা এই দিক টা অগ্রাহ্য কর ছি করোনা যত না মৃত্যু ঘটিয়েছে এর চেয়ে বেশী দিচ্ছে যন্ত্রণা আর ভয় আমাদের এদের জয় করতে হবে ।
৩.
করোনায় দেহে অক্সিজেন অবনতি নীরবে
চলমান করোনা অতি মারী দিন দিন ই বিস্ময়য়ের মারী হয়ে উঠছে । সবচেয়ে বেশি ধাঁধায় ফেলে একটি উপসর্গ নীরবে রক্তে অক্সিজেনের অবনতি (silent hypoxiemia) গন মাধ্যমে বলা হয় happy hypoxia
রক্তে অক্সিজেনের পারসিএল প্রেসার কমে গেলে বলে হাইপক্সিমিয়া ।
রক্তে অক্সিজেন মান কমে যেতে থাকে যখন তখন রোগীর হয় শ্বাস কষ্ট যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে dyspnea । রক্তের অক্সিজেন যদি অনবরত কমতে থাকে , দেহ যন্ত্র গুলো বিকল হতে থাকে আর প্রান সংশয় শঙ্কা বাড়ে । প্রাথমিক ভাবে একটি শ্বাস যন্ত্রের ব্যাধি , অক্সিজেন মান খুব কমে যায় কখনো ।
আবার দেখা যায় অক্সিজেন মান বেশ কমে গেলেও রোগী অনেক সময় স্বাভাবিক থাকে , শ্বাস কষ্ট তেমন হয়না । গবেষকরা বলেন এই পরিস্থিতি ডাক্তার দের কাছে বিস্ময়কর ।মৌলিক শারীর বিজ্ঞানকে অগ্রাহ্য করে এমন কেমন করে ঘটে /
ইলিনয়ের পাল মনারি আর ক্রি টি ক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মার টি ন যে টবিন মুখ্য গবেষক, বলেন ঃ রোগী আছে স্বস্তিতে অথচ তার ভেতর প্রবেশ করাতে হচ্ছে ব্রিদিং টিউব , যুক্ত করতে হচ্ছে যান্ত্রিক ভ্যানটিলেটার এর সাথে , জীবন বাঁচানোর জন্য ।
কি হতে পারে ব্যাখ্যা ? ট বিন বলেন প্রচলিত শ্বাস ক্রিয়া বিজ্ঞান দিয়ে খোঁজা যায় এর ব্যাখ্যা ।
ধরা যাক একজন স্বাস্থ্য সেবা কর্মী প্রথমে পালস অক্সিমি টার দিয়ে মাপ্ লেন অক্সিজেন মান । পালস অক্সি মিটার খুব নির্ভুল ফল দেয় যখন অক্সিজেন মান থাকে উচুতে তবে অক্সিজেন মান কমে গেলে এর ফলে অতিশয় ফলাফল পাওয়া যেতে পারে ।
অক্সিজেন মান কমে গেলে মগজ তৎক্ষণাৎ তা নাও চিহ্নিত করতে পারে । সাড়া নাও দিতে পারে ,। এমন মান হলে রোগীর হওয়া উচিত শ্বাস কষ্ট । রক্তে অক্সিজেন মান কমে যাওয়া অর্ধেক রোগীর থাকে কম কার্বন ডাই অক্সাইড মান । ট বিন আর সহ গবেষক রা বলেন হয়তো এ কারণে নিম্ন অক্সিজেন মানের প্রভাব অনেকটা অনুভূত হয়না । তাদের আরও ধারনা , করোনা ভাইরাস অদ্ভুত এক প্রভাব বিস্তার করে যাতে শরীরে রক্তে অক্সিজেন মানের অবনতি অনুভবের ধরন পাল্টে যায় ।করোনা রোগীদের গন্ধ চেতনার অনুভুতি র সাথে এর একটি সম্পর্ক তারা সন্ধান পেয়েছেন ।
করোনার প্রথম ঢেউ স্তিমিত হবার পর নতুন সংক্রমণ আবার দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর নানা দেশে । দ্বিতীয় ঢেউ । করোনার আকস্মিক প্রাদুর্ভাব আর দ্রুত বিস্তার হয়াতে এর জন্য কার্যকর চিকিৎসা বের করা সম্ভব হয়নি । যে সব তথ্য উপাত্ত সংগৃহীত হচ্ছে এসবকে ভিত্তি করে আগামিতে আসবে সফল চিকিতসা ।
ড টবিন আর সহকর্মীদের গবেষণা ফলাফল উপকারি হবে ক্রি টি কেল কেয়ার বিশেষজ্ঞদের জন্য , এন্ডো ট্রাকিয়েল টি উব ইনটুবে শন আর মেকানিকেল ভ্যানটি লেসন এর অনাবশ্যক ব্যবহার সীমিত হবে ।

_______________INFORMATION__________________

 

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়