ডাক্তার প্রতিদিন

Published:
2020-07-11 18:28:10 BdST

ছোট গল্পআপন-পর




ডা. নাহিদ ফারজানা
অপূর্ব ভাষার ছোটগল্প লেখক



______________________

ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পরে এক সপ্তাহের জন্য বড় আপার বাসায় থাকতে গিয়েছিলাম গত বছরে। আপাদের যৌথ পরিবার। বেড়াতে গিয়েছি অনেক তবে থাকার জন্য নয়। ঢাকার মধ্যেইতো।

চারতলা বিল্ডিং জুড়ে বিশাল একান্নবর্তী পরিবার। তিনতলা কমন,ওখানে শুধু অতিকায় অতিকায় ঘর। বিশাল লিভিং রুম,বিশাল টিভি, বিশাল ডাইনিং রুম, অামার শোওয়ার ঘরের মতো বড় একটা ডাইনিং টেবিল, বিশাল রান্নাঘর। সবই বিশাল।খাওয়া দাওয়া সব একসাথে।

খালু, মানে আপার শ্বশুর ইন্জিনিয়ার ছিলেন। চিফ ইন্জিনিয়ার। রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের। তিনিই এই বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি তাঁর জেলা শহরে একটা কলেজ অার একটা স্কুলেরও প্রতিষ্ঠাতা।কলেজ খালুর নামে,স্কুল খালাম্মার নামে। গ্রামে মসজিদ অার মাদ্রাসাও তৈরি করেছেন। তাঁকে দানবীর বলে ভালো মানুষ জন। আর মন্দ,খুঁতখু্ঁতে লোকজন,তাদের মধ্যে আমার আপন ভাইও পড়ে,শুধু টাকার উৎস নিয়ে কথা বলে।

"যতোই চীফ ইন্জিনিয়ার হোক,সরকারি চাকরি,এতো টাকা বানালো কিভাবে?বাপ বা শ্বশুরের জমিদারি তো ছিলো না। বরং ইন্জিনিয়ার সাহেবের বাবা অনেক কষ্টে ছেলেকে ইন্জিনিয়ার বানিয়েছিলেন। "

অাপার বিয়ের অাগে বড় ভাইয়া এই কথাগুলোই মিনমিন করে
অাব্বার সামনে বলতে গিয়েছিল। অাব্বা গম্ভীর হয়ে বলেছিলেন,"অরুর বিয়ে ওর স্বামীর সাথে হচ্ছে, শ্বশুরের সাথে নয়।কাজেই শ্বশুর সাধু নাকি চোর,তা দিয়ে অামার কিছু যায় অাসে না।"

অাপার বাসায় সারাক্ষণই এলাহি অায়োজন চলছে। তার উপর তিন ভাই অার এক বোনের গাদাখানিক বাচ্চা -কাচ্চা। অাপার ছেলে হয়তো বললো,সে কেএফসির চিকেন ফ্রাই খাবে, ওমনি অাপার শাশুড়ি মানে খালাম্মা চিৎকার করে ডাকবেন,"জীবইন্যা, কেএফ সি তে যা। ছত্রিশ পিস চিকেন ফ্রাই অানবি। যদি দোকানে অারও থাকে, তাহলে অাটচল্লিশ পিস।"

জীবন ছুটলো। অাটচল্লিশ পিস কোন বিষয় না,কারণ অনেক বাচ্চা,যার যতোটা খুশি ততোটা খাবে, বড়রাও খাবে,কাজেই অাটচল্লিশ পিস শুনে অামি যে ভিড়মি খেয়েছিলাম, বোকামি করেছিলাম।

খালাম্মা বলেছিলেন, "বুঝছো মা,শিশুদের কখনো 'না' করতে নেই। এতে ওদের অন্তর ছোট হয়। অার মা,অামার হাতে কখনো অল্প ওঠে না।"

জীবনকে হেঁটে যেতে হয়, প্রথমত চাকর মানুষ, দ্বিতীয়ত এ বাড়ির বেশির ভাগ গাড়ি সবসময় ব্যস্ত থাকে,স্কুল -কলেজ - অফিস - ব্যবসা প্রতিষ্ঠান -মার্কেট, দাওয়াত,অারও কতো কিছু। তৃতীয়ত ভিঅাইপি জায়গা,রিকশা চলেনা। অবশ্য চললেও জীবনের ভাগ্যে হাঁটাটাই ছিল।

কেএফসি থেকে ফেরার পরপরই অাবার অারেক বাচ্চার চিল চিৎকার, সে মিষ্টার বেকারের কেক খাবে। অতএব,অাবারও
জীবইন্যা। বাসার সবার জন্য কেক। কেউ শুধু ভ্যানিলা,কেউ ডার্ক চকোলেট, কেউ ব্ল্যাক ফরেস্ট।

অাপার ননাস ঐ দিন বললেন, "কি তরু মনি,কেমন লাগছে এখানে বেড়াতে এসে?"

"ভাল অাপা।"

"বুঝেছো তরুমনি,অামরা লাইফটাকে দারুণ এনজয় করি। বাসায় সারাক্ষণ পিকনিক। সবসময় উৎসব উৎসব ভাব।
অামাদের বাসায় কেউ বেড়াতে অাসলে অার যেতে চায় না, এতো মজা করি অামরা। এতে সবচেয়ে বড় উপকার কি জানো?বাচ্চাদের মেন্টাল হেলথ খুব ভাল থাকছে।"

এ বাড়ি থেকে কেউ সহজে যেতে চায়না,কথা সত্য। কিন্তু অামার প্রাণ ছটফট করে। অার ছটফট করে তাদের প্রাণ যারা মুখ বুঁজে উৎসবের আয়োজন করে যাচ্ছে।

এই যে জীবন,কোন বেরসিক ওর নাম জীবন রেখেছিল,অাসলে ওর নাম হওয়া উচিৎ ছিল মরণ। ভোর থেকে রাত এগারোটা -বারোটা পর্যন্ত শুধু দৌড়াচ্ছে অার দৌড়াচ্ছে। এমনও দেখেছি, অাপারা কেউ জীবনের খোঁজ করছে কিছু কিনতে পাঠাবে বলে,জানা গেলো জীবন মাত্র ভাত খেতে বসেছে বিকেল চারটায়,অাপারা বলে উঠলো,"তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করতে বল্। দশ মিনিটের মধ্যে ওকে বেরোতে হবে," কিংবা বড় ভাবী হুংকার দিলেন,"কতো খাওয়া লাগে?যতোবার ডাকি,ততোবার শুনি খাচ্ছে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে উঠতে বল্।"

ওইদিন খালুর সামনে পড়ে গেলাম। টুকটাক কথার পরে খালু বললেন," জানোতো অাম্মা,গতকাল যে লোক নতুন খনিজ সম্পদ মন্ত্রী হলেন, তিনি অামার ভাই, নিজের চাচাতো ভাই। অারও অাগেই মন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল, কতোগুলো বদের বদমায়েশির জন্য হতে পারছিলোনা। "

খালু অামাকে বসিয়ে তাঁর মন্ত্রী ভাইএর কথা বলতে থাকলেন। তাঁর সাথে কি পরিমাণ ঘনিষ্ঠতা, ছোটবেলায় দু'ভাই কি কি করতেন ইত্যাদি। সাথে খালাম্মা, অাপা অার দুলাভাই এর ছোট ভাইও যুক্ত হলেন। "খবির ভাই ", " খবির ভাইজান", "খবির চাচ্চু" শুনতে শুনতে জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে অাসলো। বহু বছর ধরেই মন্ত্রী -মিনিস্টার -এমপি এসব শব্দে অামার অভক্তি। কঠিন মিথ্যাবাদী,চামচা,তেলবাজ,মেরুদণ্ড হীন,ধূর্ত, নিষ্ঠুর,স্বার্থপর না হলে বর্তমানে এগুলো হওয়া যায়না বলেই অামার বিশ্বাস। বড়জোর দু' একজন ভালো থাকলেও থাকতে পারেন। অাবার অামার বিশ্বাসটাও ভুল হতে পারে,তবে সম্ভাবনা কম।

খালাম্মা বললেন,"খবির ভাইজানদের দাওয়াত দাও।ব্যস্ত মানুষ, তারপরও অাসতে হবে । অাত্মীয়তা সবার অাগে। "

অামি এই পরিবারের একটা বিশেষ ব্যাপার জানি। বড় ভাইয়া বলেছে। বোকা বড় অাপার অতি কথার দৌলতেও টের পেয়েছি মাঝে মাঝে।

অামি খালাম্মাকে বললাম,"খবির চাচার ওয়াইফ কি অাপনার থেকেও সুন্দর, খালাম্মা?"

সবাই হাসলেন, খালু বললেন,"এদিক থেকে কোন ভাই ব্রাদার অামাকে হারাতে পারেনি।তোমার খালাম্মার মতো সুন্দর অার কোন বৌ না।"

"খবির চাচার কয় ছেলেমেয়ে খালু?"

"খবিরের ছেলেমেয়ে... কয়টা যেন,অারে ধুরো,সময় মতো কাজের কথা মাথায় অাসেনা,দুটো না তিনটে, বুড়ো হয়ে যেয়ে নিজের নামটা ও মনে অাসেনা মাঝেমধ্যে। "

খবির সাহেবের কয় পুত্র -কন্যা,কেউ ই বলতে পারলেন না।

সবার একই উত্তর, "কয়জন যেন,কয়জন যেন, বড়টাতো মেয়ে,তাইনা? কি মুশকিল! স্মৃতি ভ্রষ্ট হয়ে যাচ্ছি। "

অামি অান্দাজ করি, খবির সাহেব খালুর কতো নিকটাত্মীয় হতে পারেন।

"খবির খালুর অাব্বার নাম কি? উনিও রাজনীতি করতেন?"

"না,না,সে রাজনীতি করতোনা। নামটা হচ্ছে গিয়ে.., দূর,মাথাটাই নষ্ট। বয়স হলে তোমারও এই অবস্থা হবে রে মা,বয়স ছাড় দেয়না কাউকে।"

অামি এই পরিবারের যে বিশেষত্বের কথা বলতে যাচ্ছিলাম,এরা অতি দূর সম্পর্কের অাত্মীয় বা পরিচিতকে
একান্ত অাপনার করে ফেলতে পারে যদি সে অামাদের এই মূর্খ জনতার চোখে বড় কিছু হয়, এই নামকরা রাজনীতিবিদ, বড় শিল্পপতি, নামকরা পত্রিকার সম্পাদক ইত্যাদি ইত্যাদি।
বড় অাপাকে পুত্রবধূ নির্বাচন করার অন্যতম কারণ, অামার বাবা চিকিৎসক, অধ্যাপক। কিন্তু অামিতো জানি,বাবা নিজের যোগ্যতায় অধ্যাপক হন নি, অনেকেরই পৃষ্ঠপোষকতা ছিলো। অনেককে তেল মেরে, একে ধরে ওকে ধরে,একে দিয়ে ওকে দিয়ে বাবা অধ্যাপক হন। জহির চাচা, মাসুদ চাচার মতো সহজ পথে নিজের জ্ঞানেগুণে বাবা প্রফেসর হন নি। নিজের বাবা,কি অার বলবো? সব রাজনৈতিক দলেই বাবার গুরু অাছেন,অাবার ভক্তও অাছেন। তাই কোন অামলেই বাবার কোন সমস্যা হয়না। কাজেই দুই বেয়াই সাহেবে মিলেছে ভালো।

খালাম্মার খালাতো ভাই পরিবারসহ অাজ রাতে এই বাসায় খাবেন। দুলাভাইদের এই মামা হলেন ভিসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বললাম না। প্রায়ই দুই পরিবারে অাসা যাওয়া হয়। অাপাকে একা পেয়ে বললাম,"তোমার এই মামা শ্বশুর মহা বিতর্কিত। মানুষ ব্যাপক হাসি তামাশা করে ইনাকে নিয়ে।মানুষ টা অাসলেই খুব খারাপ। অবশ্য এখনতো বেশির ভাগ ভার্সিটিতে ভিসি হতে হলে অাগে জায়গামতো কেঁচো হওয়া লাগে। অাগেকার অামলে একজন ভিসি কি মানের ছিলেন,অার এখন সব কি অবস্থা। অাপা,লোকটা ভালো না।তুমি কিন্তু মামা, মামা করে মুখে ফেনা তুলে ফেলবে না।এসব মানুষ সম্মানের যোগ্য না। "

অাপা কড়া গলায় বললো,"মামাশ্বশুরকে মামা,মামা কেন করবো না? উনি বাইরে কি তা দিয়ে অামার দরকার নেই, অামার কাছে তাঁর বড় পরিচয় তিনি অামার মামা শ্বশুর। "

অাপা অামার সরল নয়,তবে বোকা। বিভিন্ন সময়ে অামি অার ভাইয়া টোকা মেরে মেরে ওর পেট থেকে বহু কথা বের করে নিয়েছি।

"অাপা,উনিতো তোমার অাপন মামা শ্বশুর,তাই না?"

"অাপন না,তবে অাপনের মতোই। "

"তাহলে অাত্মীয় না?পরিচিত? "
"না,না,পরিচিত কি বলছিস? অামার শাশুড়ির কাজিন।"
"কেমন কাজিন?খালাম্মার কেমন ভাই? "
"তোর এতো দরকার কি রে?"
"বা রে,বাইরে ভাব নিতে হবেনা?অাব্বা-অাম্মার কত গল্প অার গর্ব তোমাকে নিয়ে! অামার অরুর চাচাশ্বশুর এই,অামার অরুর মামাতো ননদ এই।"

অাপা খুশি হয়ে বললো,"মামা অামার শাশুড়ির খালাতো ভাই। "
"অাপন খালাতো ভাই? "
অাপা বিরক্ত হয়ে বললো," তুই এতো অাপন -পর খুঁজিস কেন রে? "
"বলনা অাপা,প্লিজ।"
"অাপন খালাতো ভাই। "
"বাপরে বাপ! অাপা,তোমার অাপন খালাতো মামা শ্বশুর ভার্সিটির ভিসি,অাপন চাচাতো চাচাশ্বশুর খনিজসম্পদ মন্ত্রী, খালু -খালাম্মার কাজিনরাতো মহাতারকা। সেখানে অামার বিয়ে হবে সিম্পল একটা ফ্যামিলিতে। "

"বললেই হলো?অাব্বা কতো বড় ডাক্তার! অামরা সবাই অাছিনা?"

"তোর নানি শাশুড়িতো বেঁচে অাছেন।গ্রামে থাকেন। নিয়ে অাসিস না কেন অাপা?"

"অাসতে চান না গ্রাম ছেড়ে "।

" উনার ভাই -বোনরা কি একই গ্রামে থাকেন?"

"অারে, উনারতো কোন ভাইবোনই নাই।"

"তাহলে ভিসি মামা খালাম্মার অাপন খালাতো ভাই হয় কি করে?খালাম্মারতো কোন মামা-খালাই নাই।"

অাপা প্রচণ্ড রেগে গেল।

অামি ঘর থেকে বেরিয়েই খালাম্মার কাছে গেলাম।
"খালাম্মা,ভিসি মামা সত্যি অাপনার কাজিন?একেবারে অাপন কাজিন? "

"হ্যাঁ রে মা,অামার মায়ের অাপন খালাতো ভাই।"

অাপাকে একদিন বললাম,"অাপা,অভ্র-শুভ্র শুধু বার্গার,পিৎজা এসব ফাস্টফুড খায়,এটা কি ভালো?"

"তো কি করবো? বাসায় তো কম রান্না হয়না। এই বাড়িতে যেই পরিমাণ রান্না হয়,বাংলাদেশের কোন বাড়িতে তা হয়না। কখন কোন্ বাচ্চার কি খাওয়ার মর্জি হবে,কেউ জানেনা।গাদা চুক্তি পোলাও,কোরমা করে রাখা হয় অার দুদিন পরপর তা ফেলে দিতে হয়।"

"জীবন, দোলন এদের দিয়ে দাওনা কেন?"

"কাজের লোক কাজের লোকের মতোই থাকবে।তাদের কম দেওয়া-থোওয়া হয়না।"

এ বাড়িতে দারোয়ান অাক্কাস ভাই,মালী রহমত ভাই, চার ড্রাইভার কলিম,সলিম,অাজাদ,জামিল, গৃহকর্মী দোলন, কমলা, হেলেনা খালা, রাবেয়া খালা,সর্বকাজের কাজী জীবন
এই এগারোজনের জন্য অালাদা রান্না হয়। চাল অালাদা। তাদের জন্য সব কিছুই কেনা হয়খোলা বাজার থেকে,চুলের তেলটা পর্যন্ত। এদের জন্য বরাদ্দ হলো তেলাপিয়া,পাঙাস,সিলভার কার্প মাছ, সপ্তাহে একদিন গরুর গোশত, সব্জি হিসাবে মিষ্টি কুমড়া বা কাঁচা পেঁপের ঘ্যাঁট,নইলে
লাউ -খেসারীর ডালের লাবড়া, সপ্তাহে দু 'একদিন মুরগির মাথা,গলার হাড় অার ডাল দিয়ে করা লটপটি। সন্ধ্যার নাশতা
মাস হিসেবে কিনে দেওয়া হয়, মাস শেষ হওয়ার অাগে ফুরিয়ে গেলে কিছু করার নেই। যেমন,মুড়ি,গুড়,টোস্ট বিস্কিট চানাচুর।

অামার ভারি অবাক লাগে,ওরা নিয়মিত পোলাও রান্না করে,কিন্তু ঈদ বা বড় কোন উৎসব ছাড়া ভুলেও ওদের পোলাও-কোর্মা দেওয়া হয়না, রোষ্ট কখনোই দেওয়া হয়না, প্রতি বিকেলে ওরা চপ ভাজে, চাইনিজ অাইটেম বানায়, কাস্টার্ড -পুডিং তৈরি করে,দফায় দফায় জীবন চিকেন ফ্রাই, গ্রীল্ড চিকেন, বার্গার,স্যান্ডউইচ, দই,রসগোল্লা কিনে অানে,অথচ নিজেরা খায় মুড়ি চানাচুর নইলে টোস্ট। চা এদের জন্য নিষিদ্ধ। যে পুরুষের চা খেতে মন চাইবে,সে তার বেতনের টাকা দিয়ে চা খাবে,দোকানে যেয়ে। ওরা এগারোজন মিলে বড় ফ্লাস্ক কিনেছে, দুইবেলা ফ্লাস্কে চা অানা হয় ওদের টাকায়, সত্যি ভারি দুঃখজনক।

অনেক বাড়িতেই এমন হয়,তবে ড্রাইভার একটু অালাদা মর্যাদা
পায়। এ বাড়িতে সেই রকম কোন বিষয় নেই। এই কারণটাও অামি জানি।

এগারো জনই এই পরিবারের ঘনিষ্ঠ অাত্মীয়। ভাইয়া অার অামি বহুদিন ধরেই অাপাকে নানা কথার জালে জড়িয়ে সব অাসল ঘটনা বের করে ফেলেছি।

অাক্কাস ভাই খালুর অাপন চাচাতো ভাই এর ছেলে, রহমত ভাই
ফুপাতো ভাই এর পুত্র। দুই অাপন ভাই কলিম-সলিম খালুর নিজের খালাতো বোনের ছেলে,অাজাদ সলিমের ভগ্নিপতি, তারমানে খালুর ভাগ্নীজামাই, জামিল হলো খালাম্মার অাপন ফুপাতো বোনের ছেলে।
জীবন খালুর সৎ ভাই এর ছেলে। দোলনসহ মেয়েগুলোও খালুর নিকট অাত্মীয়। খালুদের পুরো পরিবারই চরম দরিদ্র, শুধু খালুদের অবস্হা মন্দের ভালো ছিলো। অসম্ভব মেধা,পরিশ্রমের জোরে,গ্রামের স্কুলের শিক্ষকদের সাহায্যে, খালুর বাবার সর্বস্ব ছেলের পিছনে ব্যয় করার কল্যাণে খালু ইন্জিনিয়ার হন। তারপর কর্মনৈপুণ্য,মেধা এবং সেই সাথে বিশেষ প্রতিভা কাজে লাগিয়ে অাজ এই অবস্থায়। অাত্মীয়-স্বজন এতোটুকু সাহায্য পায়নি এই দম্পতির কাছ থেকে। খালুর বাবা অার সৎ মা বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যান অথচ শিশুকালে মা হারা এই ছেলেকে বাবা অার ছোট মা অশেষ স্নেহে বড় করেছিলেন।

এই পরিবারে কাজের লোকের অভাব হয় না। গ্রামের অাত্মীয়দের অার্থিক অবস্হা এতোটাই মন্দ যে সব জেনে
শুনেও তারা এখানে কাজ করতে অাসে। তাছাড়া খালুকে অসম্ভব ভয়ও পায় গ্রামের মানুষ। তাঁর ক্ষমতা অনেক। সুতরাং, বলতে গেলে অল্প বেতনেই অাত্মীয়রা কাজের লোক হয়ে অাসে,তাদের চাচাকে স্যার অার চাচীকে ম্যাডাম বলে ডাকে।
অার এই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে মানুষ জনের সামনে গলা ফাটিয়ে বর্ণনা দেয় গ্রামবাসীদের কল্যাণে তারা কতোটা নিবেদিত, এ পর্যন্ত গ্রামের কতোজনের কর্মসংস্থান করেছে তারা।

সমাপ্ত

_____________INFORMATION______________________

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়