রাতুল সেন

Published:
2020-07-08 12:58:43 BdST

কমরেড হায়দার আকবর খান রনোকে নিয়ে লিখেছেন অধ্যাপক ডা.হারুন উর রশিদ



ডেস্ক / লেখা সংগ্রহ সূত্র : আবদুল্লাহ আল কাফি 
________________________


কমরেড হায়দার আকবর খান রনোকে নিয়ে লিখেছেন কমরেডের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা.হারুন উর রশিদ । শ্রদ্ধার্ঘ্য লেখাটি প্রকাশ হল।

"বরিশাল মেডিকেল কলেজে জাতীয় ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতির হাতেখড়ি, সহযোদ্ধা ফয়জুল হাকিম লালার মাধ্যমে জানতে পাই গনতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন তাত্ত্বিক নেতা হায়দর আকবর খান রনোর নাম। দু একটা সভা-সমাবেশে দেখলেও সামনাসামনি কথা অনেক পরে। ১৯৯৬ সালে কোন একদিন ঢাকা মেডিকেলে রেজিস্ট্রার থাকাকালে একদিন উনি আমার অফিসে আসেন,বেশ হাসিখুশি সদালাপী মানুষ। ঠিক কোনো ভারিক্কি চেহারা নয়। পরে আরও বহ যায়গায় দেখা। পরবর্তীতে সম্পর্কের গভীরতা আরো বাড়ে,কখনও রাজনৈতিক আড্ডা আবার কখনো রোগী হিসেবে। নিজে যেমন রেগী হিসেবে আসতেন, তেমনি যারা বাসায় কাজ করতেন তাঁদরও নিয়ে আসতেন। বাড়ির ড্রাইভার বা কাজের লোকদের যখন নিয়ে এসেছেন যেন বাড়ির সদস্য, কখনো প্রভুর মত আচরন করতে দেখেনি। কখনো তার বই উপহার হিসেবে দিতেন। কখন এসে সবাইকে বাদ দিয়ে ঢুকতে দেখিনি বরং চুপ করে বসে থাকতেন কখন সময় হয়। আলাপে জেনেছি পদার্থ বিদ্যার ছাত্র ছিলেন,রাজনীতির কারনে পড়ালেখা শেষ হয়নি। পাকিস্তান আমলের সব আলোচিত ঘটনায় ছিলেন। ৬২'র শিক্ষা আন্দোলনে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন ; ৬৯'র গণ অভ্যুত্থান,মুক্তিযুদ্ধে সরব উপস্থিতি। লেনিনবাদী পার্টি গঠন,গনতান্ত্রিক আন্দোলন বা ওয়ার্কার্স পার্টি সবকিছুতেই সামনে থেকে নেতৃত্ব প্রদান।এরসাদ বিরোধী লড়াইয়ে লিখেছেন ' চাই সাহস আরও সাহস'। জেল খেটেছেন, বহু প্রবন্ধ ও বই লিখেছেন , এমপি,মন্ত্রী হতে চাননি। এককথায় নায়কের মত বর্নাঢ্য জীবন। তার পরেও অতৃপ্তিই । করতে চেয়েছিলেন বিপ্লব, শ্রমিক কৃষকের রাজত্ব তৈরি করা, পারেননি। এমনকি ঐ অর্থে কোনো গণভিত্তি সম্পন্ন পার্টিও গড়ে তুলতে পারেনি ; অজুহাত আছে ওটা কোনো একক কাজ’ও নয়,তবে উনি কখনো কোন অজুহাত দিতে চাননি, সিপিবিতে যোগদান করেছেন অনেকটা আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে। এই সব নিয়েও তার মধ্যে ঐ অর্থে কোনো লুকোচুরি নেই। নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারেন। তাই সহজেই বলা সম্ভব আমাদের এই অভাগা দেশে রনো ভাইয়ের মত মানুষ বিরল।
তিনি বয়স,ধুমপান সিওপিডি ও বার্ধক্য জনিত কারনে ভুগছিলেন, তাই কখনো সামনাসামনি বা ফোনে প্রায়ই কথা হত। করোনা আসার পর ফোন করলেই জানতে চাইতেন করোনা কবে শেষ হবে। চাওয়াটা রনো ভাই নিজের উদ্বেগ থেকেই হয়ত করতেন, তবে এটাত ঠিক প্রশ্নটা সকল মানুষের। যাইহোক, রনোভাই করোনা আক্রান্ত। ২৯ জুন থেকে উনি থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি, আসিইউতে ভর্তি। ওখানে হাসপাতালের ডাইরেক্টর, কলেজের অধ্যক্ষ ডা: খান আবুল কালাম আজাদ, মেডিসিনের হেড ডা: মুজিব ও আইসিইউ'র ডাক্তাররা বিশেষ যত্ন নিচ্ছে; ওনাদের সাথে পরপর দুদিন মেডিকেল বোর্ডেও ছিলাম।এজন্য ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তারদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ; কারন এই সময় রনো ভাইয়ের কোনো কাজে লাগতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি যখন হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি তখন রনোভাই ও জুনোভাই আমায় দেখতে গিয়েছে,কোনো আর্থিক সাহায্য লাগবে কিনা জানতে চেয়েছে, এটা ভোলার নয়। হাসপাতালে ওনার বাসার সহকারী নাসির সারাক্ষণ আগলে রাখছে। তাছাড়া কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী -নেতারা সারাক্ষণ দেখভাল করছেন;বিশেষ ভাবে জলি তালুকদার, কাফি রতন,মইন ইত্যাদি; ডা: ফজলু ভাই সবকিছুই পরিচালনা করছেন নেতৃত্বের অবস্থায় থেকে; ভালো টিম ওয়ার্ক। রনো ভাইয়ের বয়স ও সিওপিডি,হার্টের অবস্হা ইত্যাদি কোনটাই তার পক্ষে না; কিন্তু এখনও কনশাস, প্রতিটা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্যে করেন এজন্য আশাবাদী হতেই পারি। রনোভাই সাহসী, বীর ও দেশপ্রেমিক - আমরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।"

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়