SAHA ANTOR

Published:
2020-07-05 11:16:04 BdST

ড:আসিফ বিদেশের নিরাপদ জীবন নেন নি এটা অপরাধ? অভিনন্দন তাদের প্রচেষ্টার জন্য


 


ডেস্ক
___________________

ড:আসিফ বিদেশের নিরাপদ জীবন নেন নি এটা অপরাধ? এ প্রশ্ন উঠেছে , গ্লোব বায়োটেক এর টিকা নিয়ে বাংলাদেশীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায়। স্বদেশী পণ্য কিনে হও ধন্য শ্লোগানমুখর এই জাতি আজ টিকা নিয়ে কেউ অভিনন্দন জানাচ্ছে। কেউ কেউ লিপ্ত ট্রলিং ও মজা করায়। বিষয়টি দু:খজনক।


বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ লেখক শিক্ষক ডা. জাহিদুর রহমান সাধুবাদ জানিয়ে লিখেছেন ,

করোনা ভ্যাকসিন উদ্ভাবন উপলক্ষে গ্লোব বায়োটেকের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট যতটুকু বক্তব্য দিয়েছেন, তার অধিকাংশই বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তাদের কাজে কোন দূর্বলতা থাকলে সেগুলো শুধরে নেয়ার সুযোগ আছে। কোন রোগের ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক উদ্ভাবন করা একটি জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। এতে অনেকগুলো ধাপ আছে, গ্লোব বায়োটেক কেবল প্রথম ধাপে আছে। তারা সফল হবে কি হবে না, সেটি সময়ই বলে দিবে। তবে বাংলাদেশি কোন গবেষক দল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন, এটিই আমার কাছে গর্বের বিষয়।

বিজ্ঞানের কাজই প্রশ্ন করা, কারণ এভাবেই নতুন কিছু তৈরি হয়, পুরোনো ভুলগুলো দূর হয়। এখানে আবেগের কোন স্থান নেই। এটিকে যারা ফেসবুকের অন্যান্য অর্থহীন সমালোচনা, ব্যক্তি বন্দনা, ট্রল, ইত্যাদির সাথে গুলিয়ে ফেলেন, তাদের প্রতি সমবেদনা।

বিশিষ্ট সাংবাদিক কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমান এক ফেসবুক লেখায় অভিনন্দন জানিয়ে বলেন , দেশের মেধাবী সন্তান ড:আসিফ বিদেশের নিরাপদ জীবন নেয়নি এটা অপরাধ?

বায়োটেকের গবেষক ড:আসিফ মাহমুদ করোনার ভ্যাকসিন আবিস্কারের ঘোষনা দিয়ে আমাদের গর্বিত করেছে।পৃথিবীর উন্নত কত ধনবান দেশ দাবি করেও এখনো দিতে পারেনি।আমাদের সোনার ছেলে আসিফ সফল হলে দেশের গর্বই নয় ইতিহাস হবে পৃথিবীর বুকে।নটরডেম কলেজের মেধাবী তরুন আসিফ আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসিতে ঢাকা বিভাগে মেধাতালিকায় ৭ম হয়েছিলো।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজিতে অনার্সে প্রথম শ্রেনীতে তৃতীয়,এমএসসিতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছিলো।জাপানের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছে।মানুষের কঠিন দু:সময়ে তার এই চেষ্টা মানবতার দায়বদ্ধতাই দেখায়না গভীর দেশ প্রেমের পরিচয় দেয়।তার আবেগ অনুভূতি আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে।
যারা তার উদ্যোগ নিয়ে বিদ্রুপ করছেন তাদের জন্য চরম করুনা হচ্ছে।কেনো করছেন?
দেশের গরিব জনগনের টাকায় বুয়েটে, মেডিকেলে পড়াশোনা করে অনেক অনেক প্রকৌশলী,ডাক্তার জীবিকার তাগিদে যেভাবে বিদেশে বসতি গড়েছে তাতে তাদের স্বার্থপরতাই বড় করেছে।তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন আছে।
ড:আসিফ চরম স্বার্থপর হয়নি, বিদেশের নিরাপদ জীবন নেয়নি,দেশপ্রেমে কাজ করছে এটা অন্যায়?এবার বিসিএসে দেখুন ডাক্তার হয়ে মেয়েটি কূটনীতিক হয়েছে।ময়মনসিংহে যাকে করোনায় অপমান অবেহেলা করেছেনন সেই ডাক্তার মেয়েটিও প্রশাসন ক্যাডারে চলে গেছে।কেনো যাচ্ছে?কারন সরকারি ডাক্তার প্রকৌশলীর চেয়ে আমলাদের দাপটে নত হওয়া স্বভাব আমাদের।মানবতার সেবকরা দিনরাত খাটলেও অপমান অসম্মান তাই।একদল সরকারি স্বাস্হ্য কর্মকর্তা, প্রকৌশলী,পাবলিক সার্ভেন্ট দূর্নীতি করেন।তাই বলে সবাই নন।কিন্তু আমাদের সমাজ নষ্ট,মানসিক রুচির অবক্ষয়ে জ্ঞান মেধা সৃজনশীলতা মুগ্ধ করেনা,তথাকতিথ ক্ষমতা নত করে একজন ওসি,বা একজন ইএনওর বারান্দায় বসে থাকা আনন্দের,জাতির মেধাবি সন্তানকে সম্মানদানে সূখ নেই!
দেশের সোনার ছেলে ড:আসিফকে নিয়ে আসুন গর্ব করি,অভিবাদন জানাই।সে আমাদের ভাই,আমাদের সন্তান।জনগনের সাথে বেইমানি করেনি।দেশপ্রেমের প্রমান দিয়েছে।সে জয়ী হলে আমরাই জয়ী হবো।দেশের মেধাবী সন্তানদের দেশের জন্য ধরে রাখতে হলে যোগ্য সৎ দেশপ্রেমিকদের সম্মান মর্যাদা দিতে হয়।আসিফ এখনো জয়ের পথে,সফল না হলেও দুঃখ নেই।সে লড়াই করেছে।

দুই লেখকের লেখা ফেসবুক থেকে নেয়া।

_________INFORMATION___________________

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়