SAHA ANTOR

Published:
2020-06-30 11:32:39 BdST

ডুবন্ত লঞ্চ থেকে ১৩ ঘন্টা পর জীবিত উদ্ধার: রহস্য ভেদ করলেন অধ্যক্ষ যাত্রী




মাসুদ আলম বাবুল
__________________


বুড়িগঙ্গায় ডুবে যাওয়া লঞ্চের ভেতর থেকে ১৩ ঘন্টা পর সুমন বেপারি নামের একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বিষয়টা বিস্ময়কর বটে। কোনো মানুষের পানির মধ্যে ১৩ ঘন্টা তো দূরের কথা ১৩ মিনিটও বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। মানুষের জীবন ধারনের প্রয়োজনীয় উপাদান ও প্রধান নিয়ামক অক্সিজেন সাথে থাকলে ১৩ মাস বেঁচে থাকাও বিস্ময়কর কিছুই নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারনা তিনি একটি কক্ষের মধ্যে ছিলেন, সেখানে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন থাকায় তিনি মৃত্যু না হওয়া অবধি বেঁচে ছিলেন।
অনেক আগে পত্রিকায় পড়েছিলাম, সঠিক তথ্য দিতে পারবো না। (কারো জানা থাকলে অবহিত করতে পারেন) সম্ভবত চাঁদপুরের অদূরে দুর্ঘটনা কবলিত একটি লঞ্চ উল্টে যায়। উদ্ধারকর্মীরা আহত নিহত যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। জেলা প্রশাসক লঞ্চের খোলে একধরনের কম্পন অনুভব করায় তিনি দ্রুত গ্যাস সিলিন্ডার আনার নির্দেশ দেন। অনেকেই বলেছেন, হামজা চলে আসতেছে পুরো লঞ্চই তো তুলে ফেলবো অযথা খোল কেটে লাভ কি? কিন্তু জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনড় সিদ্ধান্তে লঞ্চের খোল কেটে অর্ধমৃত তুলে আনা হলো ৭ জন যাত্রীকে, দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার পর তারা সাতজনই বেঁচে ছিলেন। তাদের বেঁচে থাকার বিস্ময়ের পেছনের কারন ছিলো উল্টে যাওয়া লঞ্চের খোলের ভেতরে মজুদ থাকা বাতাসে অক্সিজেন। আর একজন জেলা প্রশাসকের বুদ্ধিমত্তা।
২০১৩ সালে রানাপ্লাজা ট্রাজেডিতে দীর্ঘ ১৭ দিন পর রেশমা নামের ২২ বছরের একটি মেয়েকে বেজমেন্টের নিচ থেকে সম্পূর্ণ অক্ষত ও সুস্থ অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিলো। এই বিস্ময় বালিকাকে এক চোখ দেখা ও সাহস দেয়ার জন্যে সেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন।
রেশমার বেঁচে থাকার পেছনের গল্প হলো তার আটকে পড়া জায়গাটিতে প্রচুর ফাস্টফুডের খাবার ও জুস ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো, ছিলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন।
প্রতিটি বিস্ময়ের পেছনেই কোনো না কোনো কারন থাকে, কারন ছাড়া কর্ম হয়না। যেমন চাঁদপুর গামী ময়ূর-২ লঞ্চটি সোমবার মর্নিং এ মর্নিং বার্ড লঞ্চটিকে ধাক্কা না দিলে এতোগুলো লোকের জীবন সংহার হতো না।
দুর্বল নির্মান সামগ্রী ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মান না হলে সেদিন ঘটতনা হৃদয় বিদারক রানাপ্লাজা ট্রাজেডি।
প্রত্যেকটি ঘটনা দুর্ঘটনার পেছনেই কোনো না কোনো কারন লুকায়িত থাকে। আমাদের সচেতনতাই পারে সকল কারন তৈরি ও প্রতিরোধ করতে।
যেমন করোনা আক্রান্ত বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি, প্রতিটি মানুষ শতভাগ সচেতন হলে করোনা অপ্রতিরোধ্য ছিলো না।
আমরা প্রতিনিয়তই নানান ঘটনা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে একসময় তা বিশ্ব নিয়ন্তা কিংবা অদৃষ্টের উপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হই। কিন্তু খুঁজে দেখিনা তার পেছনের গল্প। যে গল্প গুলো জানা থাকলে সব মিরাকলকে বিকল করে আমরা অনেক বেশি সচেতন ও আত্মপ্রত্যয়ী হতে পারি।

-মাসুদ আলম বাবুল
৩০.৬.২০ পটুয়াখালী।

______INFORMATION_____________

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়