Ameen Qudir

Published:
2020-03-28 20:59:51 BdST

করোনা ধনী,গরীব, শিক্ষিত,অশিক্ষিত, রাজাপ্রজা চিনে না:চিনে শুধু স্বাস্থ্যগত অনিয়ম


ডা. অসিত মজুমদার
________________________


ফেসবুকে অনেকেই স্ট্যাটাস দিয়েছেন, মন্তব্য করেছেন যে আর কত ঘরে থাকা যায়? আসলেই তো প্রিয়ার বাঁশির সুরের টানে কি ঘরে থাকা যায় ? এ সুর যে মোহনীয় সুর, হৃদয় হরণ করা সুর। অপ্রাপ্তির আর বেদনাবিধূর সুর। এ কেবলি হাহাকার। হৃদয়ের হাহাকার, হারানোর হাহাকার। এ ঘরে থাকা যে শুধু সুমধুর আড্ডা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে হাজারো কষ্টের ইতিহাস। অপ্রাপ্তি আর আপনজন হারানোর মর্মান্তিক ইতিহাস। সেজন্যই তো আজ আসলেই ঘরে থাকা দায়।

তবে মন খারাপের কিছু নেই। আপনাকে যে ঘরে থাকতেই হবে আজ। এত বড় লম্বা ছুটি জীবনে কখনো প্রত্যাশাই করেননি অথচ মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। মনে হয় এ যে এক শঙ্কাময় জীবন। এরকম টেনশন, উত্তেজনা আর উদ্বিগ্ন দিয়ে ঘেরা জীবন ভাল লাগে কতক্ষণ! আসলেই কি বাসায় মন বসানো যায়? এরকম ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাসের ভয়ে আমরা আতঙ্কিত, ঘরে লুকায়িত। বন্দীজীবন। আসলেই মন কি বসানো যায়! কিন্তু মন বসাতেই হবে। উপায়হীন এক নাবালিকার চাপিয়ে দেয়া বিয়ের মতই। ঘরে থাকতেই হবে। কিসের বিরক্তি, কিসের কষ্ট। এ যে পাপমোচনের শামিল। কিন্তু না। কাউকে বুঝতে দেয়া যাবে না। আনন্দে কাটাতেই হবে। হ্যাঁ, খুব বিরক্তিকর ভাব যদি লেগেও থাকে তবুও সময়টাকে ইতিবাচকভাবেই কাজে লাগান। পুরনো বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে ফোনে, ফেসবুকে, মেসেঞ্জারে একটু যোগাযোগ করুন। কিছু পুরনো দিনের কথাবার্তা বলুন। মনটাকে হালকা করুন। আপনার বন্ধুত্বটা এই সুযোগে আরো গভীর হয়ে উঠবে।

এবার একবার ভেবে দেখুন তো ছোটবেলায় কোন শখটা আপনি পূরণ করতে পারেন নি? এবার সুযোগ বুঝে একটু রিহার্সেল দিয়ে নিন। প্রতিভা থাকলে তা প্রকাশের মোক্ষম এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে পারেন। মন ভাল করা কাজগুলো ভেবে দেখুন। গান করা, লেখালেখি, আবৃত্তি, ছবি আঁকা বা অন্য কোন সৃজনশীল কাজ আপনার প্রিয় ছিল? মনে করুন এবং ভাবতে থাকুন এবং লেগে যান এখনই। চিন্তাহীনভাবে মস্তিষ্ককে কাজে লাগান আর সরকার নির্দেশিত নিয়মগুলোও একই সঙ্গে পালন করে যান। এক কথায় রিলাক্স মুড কাটান। আপনার সৃজনশীলতা ফুটে উঠবেই। কিছু হালকা পাতলা ব্যায়াম করতে পারেন। শরীর ও মন ফ্রেশ থাকবে এসময়।

আপনি হয়তো ভাবছেন আপনি কোন ক্রিয়েটিভ কাজ জানেন না বা এই মুহূর্তে আপনি কর্মহীন বেকার। প্রথমত আপনার মধ্যে কোন না কোন প্রতিভা আছেই। সেটা আপনি প্রকাশ করার এই মোক্ষম সুযোগ নিতে মোটেই ভুলবেন না। তবে হ্যাঁ আপনি যদি নিতান্তই কর্মহীন হয়ে পড়েন তবে ভয় নেই। মনোবল হারাবেন না। আপনি এ সময়ের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কাজের সঙ্গে জড়িত হবার সুযোগ নিন। হয়তো আপনার জন্য আরও নতুন সুন্দর দিন অপেক্ষা করছে। সাধারণ কিছু প্রশিক্ষণ নিয়ে পরিচ্ছন্নতা আর নিয়ম কানুন মেনে চললে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন এসময়ের একজন চৌকষ স্বেচ্ছাসেবক।

মনে রাখবেন, হারানোর কিছু নেই। এরকম একটা নিস্তব্ধতা আর সুনসান নীরবতার মাঝেই জন্ম নেবে নতুন কোন পৃথিবী। যেখানে নতুনভাবে জন্ম নেবে মানবতার স্পর্শ। তাইতো বাংলাদেশে আকিজ গ্রুপ হাসপাতাল তৈরী করছে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেবার জন্য। শুধু আকিজ গ্রুপ কেন অনেকেই যার যার জায়গা থেকে গড়ে তুলছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম। তবে এদের কাজ দেখলেই চলবে না। নিজেকেও সাধ্যমত স্বেচ্ছা কাজে সহযোগিতা করা বা সক্রিয় অংশ নিতে হবে। তাছাড়া নিজেদের গৃহকর্মী, ড্রাইভার এবং পরিচিত অন্যান্য দিনমজুর বা নিম্ন আয়ের লোকদের খবর নিন। তাদের ক্ষুধা নিবারনের কিছুটা হলেও দায়িত্ব নিন। যারা অতিরিক্ত খাবার মজুদ করেছেন তারা অবশ্যই অবশ্যই খাবার নষ্ট না করে দীনহীনে অন্ন দিন।
ঘটে
পরিশেষে একই কথা সামাজিক দূরত্ব, নিয়মমত হাত ধোয়া, ঘরে থাকাসহ সরকার নির্দেশিত নিয়ম ১০০% সবাই মেনে তবেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গণসচেতনতা তৈরী করি। মনে রাখবেন ভাইরাস ধনী - গরীব, শিক্ষিত - অশিক্ষিত, নারী -পুরুষ, ক্ষমতা - অক্ষমতা কিছুই চিনে না। চিনে শুধু স্বাস্থ্যগত অনিয়ম। যেখানে অনিয়ম সেখানেই করোনা ভাইরাসের আগমন ঘটে।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়