Ameen Qudir

Published:
2020-03-20 09:27:58 BdST

দোহাই , আগামী ১৫ দিন যা করবেন : যা করবেন না


 

ডেস্ক ____________________

আগামী ১৫ দিনের কথা বলছি : শিরোনামে বিশিষ্ট চিকিৎসক
ডা আবদুর রহীম জনসচেতনতার জন্য অনন্য একটি লেখা লিখেছেন। ডাক্তার ও সচেতন সেলিব্রেটিরা এরকম লেখা লিখলে প্রতিরোধ শক্তিশালী হবে। মুর্খ ধর্মান্ধ নানা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত জনগনকে রক্ষায় সকলের এগিয়ে আসা দরকার।
জনস্বার্থে ডা আবদুর রহীম-এর লেখা প্রকাশ করা হল।

আগামী ১৫ দিনের কথা বলছি

কারনঃ

সবাই যাতেএকসাথে আক্রান্ত না হই।
চিকিৎসকরা যাতে আক্রান্ত না হয়।
প্রিয়জনদের চিকিৎসা ছাড়া যেন মরতে না দেখতে হয়। চলুন নিজের জায়গা থেকে প্রত্যেকে তৈরী হই।

* রোগটির শুরু বাংলাদেশে প্রবাসীদের মাধ্যমে। এবং এটি ছড়াবেও তাদের মাধ্যমে যারা এই প্রবাসীদের সাথে ক্লোজ কন্টাক্টে ছিলো বা আছে এবং কমিউনিটি ট্রান্সমিশন যাতে না হয়।

তাদের উদ্দেশ্যেঃ

জনগণের করনীয়ঃ

এলাকায় এলাকায় যেভাবে পারেন এদেরকে পুরাপুরি ঘরে রাখার ব্যবস্থা করুন।
প্রয়োজনে আইনের ব্যবস্থা নিন। তাদের পরিবারের কেউ যাতে বাইরে বের না হয়।
তাদেরকে প্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য জিনিসপাতি সরবরাহ করুন।
অনেক পরিবার আছে, যাদের বয়োবৃদ্ধদের বাড়ির বাহির হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এরকম প্রতিবেশী থাকলে তাদের খোঁজখবর নিন, তাদের কাজে সহায়তা করুন। কারো রোগের লক্ষণ দেখা দিলে, লক্ষণ যদি মৃদু হয় তাহলে প্রাথমিকভাবে বাসায় চিকিৎসা দেওয়াই শ্রেয় আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে। কোনটা মৃদু লক্ষণ আর কোনটা তীব্র সেটা IEDCR এর ওয়েবসাইটে গেলে পাওয়া যাবে।

সরকারকে অনুরোধ ঃ
অনুরোধ থাকবে এদের হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করতে কোন ছাড় দিবেন না।
আইন অমান্য করলে এদের ভিসা বাতিল করে দিন। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করুন।
আগামী ১৫ দিন প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাড়ির বের হতে দিবেন না।
সরকারকে বলবো সব টুরিস্ট স্পটগুলো বন্ধ করে দিন।
যেসব হোটেল, রেস্টুরেন্ট এই সময়ে বিভিন্ন অফার দিচ্ছে ( যেমনঃ কক্সবাজারে ৫০% ডিস্কাউন্ট, ১টি কিনলে ৪টি ফ্রি) তাদেরকে বলুন নিজের ব্যবসার লস ১৫ দিনের জন্য একটু কন্সিডার করুন। সারা পৃথিবীর কেউ ভালো নাই। একটু হলেও অন্যের কথা ভাবুন।
এখনো অনেক দেশ থেকে বিদেশিরা আসছেন। সবার কোয়ারান্টাইন কঠোরভাবে নিশ্চিত করুন।
দেশের সব পাবলিক ট্রান্সপোর্ট প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করুন।
জনসমাগম এড়াতে সেনাবাহিনীর সাহায্য নিন।
সৌদি আরব এবং কুয়েতের মতো মসজিদের জামাত বন্ধ করে বাসায় নামায পড়তে উৎসাহিত করুন। ওয়াজ-মাহফিল আপাতত বাতিল করা খুবই জরুরি। মন্দির, প্যাগোডা, চার্চে জমায়েত বন্ধ করুন।
মার্কেটে যতগুলো ভেন্টিলেটর আছে, সব কিনে ফেলুন।
আইসি ইউ বেড রেডি রাখুন। WHO(World Health Organization) এখন বার বার বলছে ‘TEST, TEST and TEST’. দয়া করে এই সময়ে কার্পণ্য করবেন না। পর্যাপ্ত টেস্ট করার ব্যবস্থা করুন। টেস্ট ল্যাব বানান।সামনে ১৯৭১ এর মতো বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।

দেশের medicine and allied, infectious diseases সহ সকল বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের আরো বেশি করে অন্তর্ভুক্ত করুন পরামর্শ এর জন্য । সর্বোপরি দেশের ডাক্তার, নার্সদের শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। সামনের দিনটায় এরা না থাকলে, আপনারা নিজেরাও মারা যেতে পারেন। আইসিইউ, ভেন্টিলেটর এগুলা অপারেট করার লোকদেরও বেঁচে থাকতে হবে।

নিজের করনীয়ঃ
বাচ্চাকে কোচিং-এ পাঠাবেন না।
দাওয়াত-বিয়ে পরিহার করুন।
রেস্টুরেন্টে খাওয়া পরিহার করুন।
নিজের বাড়ির বয়স্ক এবং অসুস্থ সদস্যদের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সতর্কতা অবলম্বন করুন।
বাড়ির বাইরের কাজে তাদেরকে পাঠাবেন না। নিজেরাও তাদের সাথে বেশি মেলামেশা করবেন না। সম্ভব হলে তাদেরকে আলাদা ঘরে রাখার ব্যবস্থা করুন।
বাহিরের অতিথিদের তাদের ঘরে ঢুকতে দিবেন না। আপনি যদি বিদেশ ফেরত অথবা তার পরিবারের কারো কন্টাক্টে এসে থাকেন, নিজেকে দ্রুত আপনার পরিবারের সকল থেকে আইসোলেট করে ফেলুন। আপনার বাসায় আইসোলেশন সম্ভব না হলে, উপজেলা ভিত্তিক আইসোলেশনে যাওয়ার চেষ্টা করুন। দয়া করে কেউ তথ্য গোপন করে বন্ধুর মেস বা আত্মীয়ের বাসায় উঠবেন না।
অতিথিকে নিজ বাড়িতে স্থান দেওয়ার আগে আরেকবার ভাবুন এবং তার দেওয়া তথ্য যাচাই করুন

বিত্তবানরাঃ
বাসার হেল্পিং হ্যান্ড, ময়লাওয়ালা, বাজারের সবজিওয়ালা, রিকশাওয়ালা সবাইকে আগামী ১৫ দিনের জন্য সহযোগীতা ওসতর্ক থাকতে বলুন।
যাদের সামর্থ্য আছে, তারা প্লিজ বাড়ির কাজের লোকদের অগ্রিম কিছু টাকা দিয়ে দিন আগামী ১৫দিনের জন্য।
রিকশাওয়ালাকে পারলে ৫টা টাকা বেশি দিন ও কেন দিচ্ছেন সেটা বলুন। গারমেন্টস মালিকরা নিজের কর্মচারীদের সচেতন করুন, টেম্পারেচার মনিটরিং এর ব্যবস্থা করুন। পারলে ১৫ দিনের পেইড লিভ দিন, না পারলে ১৫ দিনের আনপেইড লিভ দিন। সমাজের বিত্তবানরা আশা করি যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসবেন এ সঙ্কট মোকাবেলায়।

শুধু আগামী ১৫ দিন সবাইকে কাজে আসতে নিরুৎসাহিত করুন। দয়া করে এই ১৫ দিন কেউ না আসলে, তাকে চাকরীচ্যুত করবেন না।
সবশেষে বলবো দুই ঘণ্টা পরপর হাত ধোয়ার কোন বিকল্প নাই। ভিড় আছে এমন জায়গায় অবশ্যই মাস্ক ইউজ করবেন। সামনের খারাপ সময়টা পার করার জন্য সবাই তৈরি থাকি।

আবার বলছি আবার শুধু ১৫ দিনের এই গ্যাপটাই পুরা বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারে।

ডা আবদুর রহীম
জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন ।
বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়