Ameen Qudir

Published:
2019-08-14 12:02:45 BdST

প্রসঙ্গ চামড়া : পশুর না মানুষের ?


 

 


ডা সুরেশ তুলসান

---------------
না ভুল শুনছেন না।
পশু এবং মানুষ উভয়ের চামড়া নিয়েই কথা বলবো।

আগে পশুর চামড়া নিয়ে কিছু কথা।
অতীত শৈশবের কিছু কথা মনে পড়ে গেলো।।
কোরবানির ঈদের প্রায় মাসখানেক আগে থেকেই পাড়ায় মহল্লায়, রিকশার পিছনে, বাসে ট্রেনে, বিভিন্ন দোকান, অফিসে একধরনের পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে যেতো।
পোস্টারে লেখা থাকতো বিভিন্ন এতিমখানা, মাদ্রাসায় চামড়া দান করার আবেদন।
আবার এধরণের অনেক প্রতিষ্ঠান রোজার আগে থেকেই চামড়া দান করার জন্য আবেদন করতো সেহরি এবং ইফতারের ছাপানো সময়সূচি বিলি করার মাধ্যমে।
কোন কোন আবেদনে লেখা থাকতো চামড়া বহনকারীকে গাড়ি বা রিক্সা ভাড়া দিয়ে দেয়া হবে।
আবার গবাদিপশু মারা গেলে তাদেরকে যখন ভাগাড়ে ফেলে রাখা হতো তখন মুচি বা ডোমরা পঁচে যাওয়ার আগেই সেই পশুর চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে নিজেদের কাজে লাগাতো বা বিক্রি করে কিছু পয়সা আয় করতো।
রেল লাইন ছিলো আমার শৈশবের খেলার মাঠ, কোন গরু বা ছাগল ট্রেনের নিচে পরে মারা গেলে দেখতাম খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই মুচি বা ডোম এসে চামড়া ছিলে নিয়ে যেতো।
একটা গল্প শুনতাম ডোম বা মুচিদের মধ্যে কে ভাগাড়ের এই মৃত পশুর চামড়ার দাবিদার এটা নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা হতো। প্রতিযোগিতাটা নাকি এমন যে, আগে যে ঐ মৃত পশুটি দেখতে পাবে এবং সে ঐ মৃত পশুটির দিকে একটি চাকু ছুড়ে মারবে।সেই হবে ওই মৃত পশুটির চামড়ার দাবিদার।
চামড়ার উপর চোর- ডাকাতদের ও একটা ভালো নজর ছিল একসময়।
গোয়ালের পশু জোর করে বা বিষ খাইয়ে পশু হত্যা করেও অনেক সময় পশুর চামড়া চুরিডাকাতি হতো। চামড়ার জন্য বিষ খাইয়ে গরু হত্যার জন্য মুচিদেরও দায়ী করা হতো অনেক সময়।
একবারতো এমন খবরও শুনে ছিলাম, চুরি যাওয়া গরুর চামড়া ছিলে নেওয়ার পর সেই গরু চামড়া ছিলা অবস্থায় দৌড়াতে দৌড়াতে গৃহস্থের উঠানে এসে হাজির। তাই দেখে গৃহস্থ মুর্ছা যায়।
পুর্বে কোরবানির ঈদের আগে - পরে ভারত চামড়ার চোরাচালান ঠেকানোর জন্য বিশেষ ব্যাবস্থা নেয়া হতো, সড়কে সড়কে বসানো হতো চেকপোস্ট, এখন সেসব বালাইয়ের খবরও তেমন শুনি না।
আগে একজোড়া চামড়ার জুতার দাম ছিলো তিনশো টাকা, আর একটা গরুর চামড়ার দাম ছিলো তিন হাজার টাকা।
এখন একজোড়া ভালো চামড়ার জুতার দাম হয়েছে তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকা আর একটা ভালো গরুর চামড়ার দাম হয়েছে তিনশো টাকা।
( আমার পরিচিত একজন ডাক্তার তার নব্বই হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র তিনশো টাকায়)
কুষ্টিয়াতে আমার বাড়ির কাছেই চামড়া পট্টি। অন্যান্য বারের মতো এবারকার কোরবানি ঈদে কিন্তু তেমন সরগরম কিছু নজরে আসেনি।

ডা সুরেশ তুলসান।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়