Ameen Qudir

Published:
2019-08-10 10:19:40 BdST

উৎসব বিশেষ রচনা কবিগুরুর ডাক্তারি




 

ডা. সুমিত চট্টোপাধ্যায়

_____________________________

ডাক্তারি এমন একটা জিনিস যা সর্বকালে সব সম্প্রদায়ের লোককে আকর্ষণ করেছে।

মানুষ কোনও অসুখে কষ্ট পাচ্ছে, ডাক্তারবাবু এলেন – রোগ ধরলেন, ওষুধ দিলেন, রোগী সেরে উঠে দুহাত ভরে আশীর্বাদ করল — এই ব্যাপারগুলোর মধ্যে যে অসম্ভব একটা তৃপ্তি ( এবং হয়ত কিছুটা গ্ল্যামারও) লুকিয়ে থাকে তার আবেদন অগ্রাহ্য করা কঠিন।
এবং এর প্রতি আকর্ষণ এড়াতে পারেন নি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও।
রবীন্দ্রনাথের যারা ঘনিষ্ঠ তারা বলতেন – কবিতার প্রশংসা শুনলে গুরুদেব যতটা না খুশি হতেন, তার থেকে অনেকগুণ বেশি খুশি হতেন যখন কেউ তার চিকিৎসার ব্যাপারে দুটো ভাল ভাল কথা বলত।
আপনারা অনিল চন্দের নাম ত অনেকেই শুনেছেন।
কবিগুরুর সেক্রেটারি।
খুবই কর্মদক্ষ মানুষ, কিন্তু ভয়ানক ভুলো মনের।
রবীন্দ্রনাথ এমনিতে মানিয়েগুছিয়ে নিতেন, তবে মাঝেমধ্যে প্রচন্ড রেগেও যেতেন। ভীষণ বকাবকিও করতেন। তা, এরকম সম্ভাবনা হলেই অনিল চন্দ ভালমানুষটির মত মুখ করে গিয়ে বলতেন – গুরুদেব, কাল থেকে গলায় খুব ব্যথা, ঢোঁক গিলতে পারছি না, যদি দু পুরিয়া ওষুধ দ্যান।
ব্যাস্।
কবির রাগ অর্ধেক হয়ে যেত।

রবীন্দ্রনাথ জীবনে তিনরকম চিকিৎসা করেছেন।
হোমিওপ্যাথি, কবিরাজি আর বায়োকেমিক। না, অ্যালোপ্যাথি নয়।
রীতিমত আন্ডারলাইন করে করে বই পড়ে সাবজেক্টগুলো শিখেছিলেন। প্রথমজীবনে হোমিও, পরে কবিরাজি আর একদম শেষে বায়োকেমিক।
বায়োকেমিক ব্যাপারটা আমরা অনেকেই তেমন জানি না – এই সাবজেক্টের মূল কথা হল আমাদের শরীরের গন্ডগোলের মূল কারণ হল বারো রকম খনিজ লবণের পরিমাণের গরমিল। রবীন্দ্রনাথ শেষদিকে এই বায়েকেমিকের সারল্যের আবেদনে বশীভূত হয়েছিলেন। হোমিওপ্যাথিকে আর অতটা পছন্দ করতেন না। বলতেন – বড্ড বেশি ওষুধ, আর বড্ড বেশি হাঙ্গাম । ( আমরা ত অনেকেই ঠাট্টা করে বলি – তোমার ছোটমাসির কোন মাসে বিয়ে হয়েছিল, সেটাও দরকার হলে হোমিও ডাক্তারেরা জিজ্ঞাসা করেন !)
বায়োকেমিক ওষুধ নিজে খাওয়া এবং খাওয়ানো রবীন্দ্রনাথের পরিণত বয়সের প্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই, তোমার মুখটা বড় বিবর্ণ লাগছে কেন ? বলেই দর্শনপ্রার্থীকে চার দানা ওষুধ খাইয়ে দিলেন। নিজেও সারাদিনে বহুবার বায়োকেমিকের দানা গলার্ধকরণ করতেন – শরীরটা কেমন যেন ম্যাজম্যাজ করছে, দাঁড়াও দু দানা খেয়ে নিই। বলেই টপাৎ করে মুখে বায়োকেমিকের মিষ্টি গুলি মুখে পুরে দিতেন।

রবীন্দ্রনাথ খুবই স্বাস্থ্যবান ছয় দুই বাঙালি।
রোগেভোগে ভুগতেন কম।
পাইলসে একসময় খুব কষ্ট পেয়েছেন, লন্ডনে অনেক খরচাপাতি করে সার্জারি করে তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। নোবেল প্রাইজ পাওয়ার বছরখানেক পরে সিভিয়ার ডিপ্রেশানে ভুগেছেন। ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়াতে ভয়াবহ কষ্ট পেয়েছেন( যে রোগে সলমন খানও ভোগেন, মুখের একদিকে ইলেকট্রিকশকের মত তীব্র যন্ত্রণা হয় )।
কিন্তু সবমিলিয়ে , যেসময় ভারতীয় পুরুষের গড় আয়ু ছিল মেরেকেটে চল্লিশ - সেইসময়ের পরিপ্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথ অস্বাভাবিক সুস্থ এবং দীর্ঘায়ুই ছিলেন বলা যায়। রবীন্দ্রনাথ নিজে তার কিছু কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন – ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রম করার অভ্যাস ( এটা ত সত্যি দরকারি ) , দুপুরে না ঘুমানো - ঝিমুনি তাড়ানোর জন্য দুপুরে স্যানসক্রিট টু ইংলিশ ডিকশনারি পড়তেন ( এখন অবশ্য বলা হয় - দুপুরে কুড়ি পঁচিশ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ খুবই স্বাস্থ্যকর), নিজেকে পরিচর্যা - তাতে কোনও লজ্জা নেই ( তেল সাবান ব্যবহার করতেন না। মাথায় আধ বাটা সর্ষে, আর গায়ে মুসুর ডাল বাটা। রোজ সকালে নিমপাতার রস।) আর সারাজীবন অ্যালোপাথিকে কাছে আসতে না দেওয়া।
শেষ পয়েন্টটা নিয়ে কিছু ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে।
কবিগুরুর সময়ে অ্যালোপাথি ওষুধ খাওয়ার চল কমই ছিল। অনেককারণের মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ– সাবজেক্টটাই তখন ভাল করে ডেভেলপ করেনি। অ্যালোপাথির যেটা ব্রহ্মাস্ত্র সেইঅ্যান্টিবায়োটিকই তখন আবিষ্কার হয় নি ( পেনিসিলিন ত এল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর) । যেসব জিনিস অ্যালোপাথি ওষুধ বলে ইউজ হত ( যেমন মার্কারি, মানে পারদ) তা জেনে আমরা এখন আশ্চর্য হই। ফলে বুদ্ধিমান সংবেদনশীল মনের কাছে তখন অ্যালোপাথির আবেদন শূণ্যই বলা যায়।
তবে অন্য ওষুধে যে সাইড এফেক্ট হত না, তা কিন্তু নয়।
কবি নিজেই বলেছেন তার ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া সেরেছিল দীর্ঘকালের ইউনানি চিকিৎসায়, কিন্তু পরিবর্তে তিনি উপহার পেয়েছিলেন ডিপ্রেশান।
কথাটা মিথ্যে নয়। হোমিওপ্যাথিতে প্রেশারের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয় সর্পগন্ধা। অ্যালোতেও কয়েক দশক আগে ইউজ হত। সর্পগন্ধার সাইড এফেক্ট কি জানেন ?
ডিপ্রেশান। এমনকী, সুইসাইডাল টেনডেনসি।
যাই হোক, রবীন্দ্রনাথকে অ্যালোপাথির আশ্রয় নিতেই হয়েছিল জীবনের শেষ এক সপ্তাহ এবং তারপর ত তিনি মারাই গেলেন। মৃত্যুর জন্য অনেকেই বিধান চন্দ্র রায়কে দায়ী করেন, তবে পুরো ব্যাপারটা জানলে আপনারাও বলবেন - বিধান রায়ের কোনও দোষই ছিল না।
ব্যাপারটা একটু খোলসা করি।

রবীন্দ্রনাথের প্রস্টেট বড় হয়ে গেছিল। ফলে তার প্রস্রাবের স্বাভাবিক গতি বাধা পেত, এমনকি শেষদিকে তা হত না। ইউরিন ঠিকঠাক পাশ না হলে শরীরে ইউরিয়া ( এবং ক্রিয়েটিনিনের - তবে তখন ক্রিয়েটিনিনের নামও কেউ শোনে নি) জমতে থাকে।
একে পরিভাষায় বলে ইউরেমিয়া।
বিধানবাবু বলেছিলেন এর কোনও ওষুধ নেই ( এখন প্রস্টেটের রোগের ওষুধ এবং সার্জারি থাকলেও, ইউরেমিয়ার ওষুধ এখনও নেই), কাজেই একটা বাইপাশ সার্জারি করা দরকার , যার নাম - সুপ্রাপিউবিক সিস্টোস্টমি। রবীন্দ্রনাথ সেই অপারেশনটা করিয়েছিলেন, কিন্তু যখন অ্যাডভাইস করা হয়েছিল, তার দেড়বছর পরে ! এর মাঝে হোমিও, কবিরাজি এবং সেলফ মেডিকেশান বায়োকেমিক সবই চলেছিল।
ইংরেজীতে একটা কথা আছে – Justice delayed is justice denied.
চিকিৎসা শাস্ত্র সম্বন্ধেও কথাটা সমান সত্য।
রবীন্দ্র নাথ যদি কথা শুনতেন, কে বলতে পারে হয়ত তিনি শতায়ু হতেন।

যাকগে, এ তো গেল রোগী রবীন্দ্র নাথের কথা। এবার আবার ফিরি ডক্টর রবীন্দ্রনাথের কথায়।
এখনকার ভাষায় বলতেই হবে কবির ক্লিনিকাল আইও কিন্তু মন্দ ছিল না। বেশ কিছু জটিল রোগ তিনি সারিয়ে ছিলেন।
একটা গপ্পো বলি।
কুমায়ুনের রামগড়ে রবীন্দ্রনাথের পুত্র রথীন্দ্রনাথের একটা বাগানবাড়ি ছিল। কবি সেখানে গিয়ে কিছুদিন ছিলেন। খাওয়াদাওয়া গানবাজনা ভালই চলছিল । তা একদিন পোস্টমাস্টারমশাই এসেছেন। হাতে একটা বড় লেফাফা।
আচ্ছা, কলকাতার ডাক্তারবাবু কি এখানেই উঠেছেন ?
কে ডাক্তারবাবু? রবীন্দ্রনাথ আকাশ থেকে পড়লেন।
কেন? এই যে লেখা আছে - ডক্টর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পোস্ট মাস্টার খামটা বাড়িয়ে দিলেন।
রবীন্দ্রনাথ সব দেখে মনে মনে একচোট খুব হাসলেন। আসলে হয়েছিল কি, কদিন আগেই কবি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছিলেন। তাই প্রেরণকর্তা খামের ওপর বড় বড় হরফে লিখছিলেন - ড. রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর।
কবি ডাকবাবুর ভুল ভাঙাবেন কী, একটু দূর থেকে এল `গেল গেল’ রব।
কী হল আবার ?
এক ছুতোর মিস্ত্রি কাজ করছিল।
তার হঠাৎ মৃগীর ব্যামো হয়েছে। সে ছোটবেলা থেকেই ভোগে, রোজই কমবেশি অ্যাটাক হয়।
কবি দেখেশুনে বললেন - এ মৃগী নয়। এ তো সেন্ট ভিটাস্ ড্যান্স। ( পরবর্তী কালে এর নাম হয়েছে সিডেনহ্যামস্ কোরিয়া ।)
তারপর ওষুধ দিলেন। কদিনের মধ্যেই সে সেরে গেল !
ব্যাস্, আর যায় কোথা!
পোস্টমাস্টারবাবু সারা কুমায়ুন রাস্ট্র করে দিলেন - কলকাত্তা সে এক বড়া ডাগডারবাবু আয়া হ্যায়। সাক্ষাত ধন্বন্তরি !!
কবির গান বাজনা মাথায় উঠল।
রোজ বন্যার মতন রোগী আসতে থাকল।
এক একদিন ত মোট রোগীর সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়ে গেল।
সব্বাই তটস্থ, বিরক্ত।
ব্যতিক্রম স্বয়ং কবি।
নাওয়াখাওয়া ভুলে রোগী দেখছেন, মনে খুব আনন্দ।

শিলাইদহে যখন জমিদারি করেছেন, তখনও ভাল রকমের চিকিৎসা করতে হয়েছে কবিকে। কবির বজরার যে মুখ্য মাঝি, ত্রিবেণী, তাকে ত কবি কলেরার সাক্ষাত ছোবল থেকে বাঁচিয়েছিলেন।
আরেকটা গল্প বলি।
কবির জীবনীকার ছিলেন প্রভাতকুমার।
তার ভাই, নামটা এখন আর মনে পড়ছে না, তার একবার এরিসিপেলাস হয়েছিল। এখনকার দিনে এটা কোন রোগই নয়, দু দাগ অ্যান্টিবায়োটিকেই এরিসিপেলাস হাওয়া হয়ে যাবে, তখন কিন্তু এটা একেবারে প্রাণঘাতী রোগ। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ একবার এই রোগের ধাক্কায় টানা আড়াইদিন সংজ্ঞাহীন ছিলেন।
তো , সুহৃদকুমার, হ্যাঁ প্রভাতকুমারের ভাইয়ের নাম ছিল সুহৃদকুমার, তো একদম গোঁ ধরে বসে আছে যে কিছুতেই সে কলকাতা যাবে না, যা হবে এখানেই হবে। প্রভাতবাবু ত রেগে অগ্নিশর্মা। কবি তখন তাকে শুধু আশ্বাসই দিলেন না, নিজেই হিসেব টিসেব করে ওষুধটষুধ দিয়ে সুহৃদকে সুস্থ করে তুললেন।
কবির এক জুনিয়র বন্ধু , পশুপতিবাবু, তিনি নিজে পাশ করা ডাক্তার, তিনি ত কান্ড দেখে স্তম্ভিত।
কী করে সম্ভব হল? পশুপতিবাবু অবাককণ্ঠে প্রশ্ন করলেন। এ তো অভাবনীয় ব্যাপার।
কবি খিলখিল করে হেসে বললেন – তবে! আর তোমরা কত কী বলছিলে। তাও ত আমি ফিজ নিই না, তাই আমার নামটাম তেমন হল না!

আর একবার।
সালটা বোধহয় ১৯১৮ বা ১৯। সারা দেশে ইনফ্লুয়েন্জা মহামারী, শান্তিনিকেতনেও তাই, কিন্তু অন্য জায়গার চেয়ে কম হল। কী ভাবে?
সেটা জানার আগে ইনফ্লুয়েন্জা মহামারী সম্পর্কে দুটো কথা বলি।
ইনফ্লুয়েন্জা ত ফ্লু। একটু বেশি সর্দিজ্বর । মোটামুটি নিরাপদ অসুখই বলা যায়, একদম পুঁচকে শিশু আর নড়বড়ে বুড়ো ছাড়া আর কাউকে বিশেষ কাবু করতে পারে না। কিন্তু দশ পনের বছর অন্তর অন্তর এই রোগ ভয়াবহ রূপ নিয়ে পৃথিবীকে অ্যাটাক কত। সে বড় সাংঘাতিক ব্যাপার। ইয়ং লোকেরাও মারা যেত। এত বেশী লোক আক্রান্ত হয় যে ইংরজিতে একে এপিডেমিকও বলে না। বলা হয় , আরো ভয়ংকর – প্যানডেমিক।
তো সেইরকম প্যানডেমিক চলছে।
শান্তিনিকেতনে সবে রোগটা ঢুকছে, কবি করলেন কী বিস্তর বইটই পড়ে একটা পাঁচন তৈরি করে সবাইকে একদম, বাংলায় যাকে বলে ঘাড় ধরে , খাওয়াতে থাকলেন। ও বাবা। সেবার শান্তিনিকেতনে সত্যিই ইনফ্লুয়েন্জা সেরকম ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারল না।
সুশীল ভন্জ মশাই ছিলেন এসব কাজে কবির অ্যাসিস্ট্যান্ট।
তিনিও কিন্তু যে সে লোক নন। সেতার বাজাতেন, শেখাতেন আর তার থেকেও বড় কথা, তিনি ছিলেন সংগীত ভবনের অধ্যক্ষ।
সবাই তাকে ধরে পড়ল।
কী ব্যাপার মশাই? আপনারা ত একদম মিরাকেল করে দিলেন ।
ভন্জবাবু হেঁ হেঁ করে বিনয়ে গলে গেলেন।
ওসব হেঁ হেঁ করলে হবে না, সিক্রেটটা বলুন।
সুশীলবাবু তখন বললেন – আরে, এ তো কবিরাজির পন্চতিক্ত পাঁচন। নিসিন্দা, থানকুনি, গুলন্চ, তেউড়ি আর নিম মিশিয়ে তৈরি। গুরুদেব খুঁজে পেতে এটাই সবাইকে খাইয়েছেন !

এবার শেষ গল্প।
এর বছর কয়েক পরের ঘটনা।
রাণী মহলানবীশের খুব বিশ্বাস ছিল কবির ডাক্তারির ওপর। কবি তার বাবার ইউরেমিয়ার হেঁচকি টিংচার আয়োডিন দিয়ে কমিয়ে দিয়েছিলেন ( বিধাতার পরিহাস দেখুন, জীবনের শেষ কদিন কবি নিজে হিক্কায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, কেউ কমাতে পারেন নি। নীলরতন সরকারও না, বিধান রায়ও না। বিধানবাবু ত অসহায় হয়ে বাড়ির মহিলাদের বলেছিলেন – তোমরা ত অনেক টোটকাটুটকি জান, দ্যাখো না একটু চেষ্টা করে। )
তো, রাণী মহলানবীশ একবার কবিকে ধরে পড়লেন ।
আমার এই গ্ল্যান্ডের অসুখটা কেউ সারাতে পারে না, আপনি একবার দেখুন।
রবীন্দ্র নাথ কুণ্ঠিত গলায় বললেন – ও হরি! কত বড় বড় ডাক্তার ফেল মেরে গেল। আমি কী পারব ?
যাই হোক। ওষুধ বিষুধ দিলেন।
এবং গল্পের হীরো যেহেতু কখনো ফেল করে না, কবির ওষুধে রাণী মহলানবীশ সেরেও গেলেন।
রাণী খুবই খুশি। একই সঙ্গে অবাকও।
কী করে করলেন ?
কবি ছদ্ম হতাশ কণ্ঠে বললেন - আর ত কোনও উপায়ও ছিল না।
কেন ?
কী করে থাকবে ? আমার একটা উপাধি ছিল - স্যার। তা, জালিওয়ানাবাগের পর ত নাইটহুড ছাড়লাম। ফলে সেটা গেল। এখন তো আমার একটাই উপাধি। সেটা হল - কবি রাজ। তোমায় না সারাতে পারলে সেটাও ত যেত। সেটা আমি কি করে হতে দিই বলো?
কবি এবং রাণী, দুজনেই অট্টহাস্যে ফেটে পড়লেন।
*কৃতজ্ঞতা - ১/ রবিঠাকুরের ডাক্তারি - ডা শ্যামল চক্রবর্তী ২/ রবিবাবুর ডাক্তারি - পিনাকী ভট্টাচার্য
____________________________

ডা. সুমিত চট্টোপাধ্যায়। লোকসেবী চিকিৎসক। সুলেখক। সহযোগী অধ্যাপক, ইএনটি। কেপিসি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়