Ameen Qudir

Published:
2019-06-04 16:31:19 BdST

শিশুদের ভিডিও গেইম আসক্তি একটি মানসিক রোগ


 


ডা. সাঈদ এনাম

__________________________

বর্তমানে প্রায় সকল অভিবাবকদের অভিযোগ তাদের বাচ্চারা ভিডিও গেমে আসক্ত। স্কুলের পর যত সময় বাসায় থাকে শিশুরা ভিডিও গেইম নিয়ে পড়ে থাকে।
শিশুদের ভিডিও গেইম আসক্তি নিয়ে বিশ্বের সব দেশেই অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন শিশুদের ভিডিও গেইম আসক্তি কে একটি মানসিক রোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ভিডিও গেইমের দৈহিক মানসিক উভয়ই রকমের ক্ষতিকারক প্রভাব আছে। ভিডিও গেইমে টিভি, বা নেটওয়ার্ক থেকে যে রেডিয়েশন বিচ্ছুরিত হয় তাতে বেশি ক্ষতি হয় চোখের। পূর্বে বাচ্চাদের দৃষ্টিতে ত্রুটি খুব একটা দেখা যেতোনা। ইদানিং প্রতিটি পরিবারের এক বা একাধিক শিশুতে দৃষ্টি শক্তিতে সমস্যা দেখা যায়। যার একটা কারন এই রেডিয়েশন।

এক স্থানে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা ভিডিও গেইম খেলায় ক্রমাগত ফিজিক্যাল ইমমোবিলিটি (এক স্থানে বসে থাকা) 'র জন্যে শিশুদের দৈহিক বিকাশে নানারকম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্থুলতা, মাথা ব্যাথা, চোখে ব্যাথা, অবসাদ, মাংসপেশি তে ব্যাথা, টেন্ডিনাইটিস, কারপাল টানেল সিনড্রোম ও দেখা যায়।

ভিডিও গেইমের মারাত্মক প্রভাব হচ্ছে মানসিক। কিছু কিছু ভিডিও গেইম ভয়াবহ হিংস্রতায় পরিপূর্ণ। শুটিং, চপিং দিয়ে হত্যাকাণ্ডের ভয়ানক দৃশ্যে পরিপূর্ণ থাকে পুরোটা গেইম। কিছু গেইম থাকে নগ্নতার ছড়াছড়ি, নোংরা, এডাল্টেরি দৃশ্যে পরিপূর্ণ। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশন এর মতে এগুলো শিশু মনে বিরুপ প্রভাব ফেলে। শিশু বয়স থেকেই তার মনে নানান পার্বাসন ( বিকৃত মন মানসিকতা/ যৌনাচার/ হিংস্রতা ) পেয়ে বসে।

ইউরোপ আমেরিকা জাপান জার্মান কানাডা অস্ট্রেলিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৭ হাজার শিশুদের উপর বেশ কয়েকটি গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে দেখা গেছে, যে সমস্ত শিশুরা অত্যাধিক ভিডিও গেইম খেলে তারা স্কুলে প্রায়ই সহপাঠী দের সাথে ঝগড়া করে। স্কুল কতৃপক্ষের কাছে প্রতিনিয়ত তাদের ব্যাপারে মারামারির অভিযোগ পড়ে। তাছাড়া এসব শিশুরা রা অভিবাবকদের কথাবার্তা অনুশাসনের তোয়াক্কা করেনা।
ইউরোপ আমেরিকার স্কুল গুলোতে বিভিন্ন সময় স্কুল শুটিং এ শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভিডিও গেইমের আসক্তি, ভায়োলেন্ট ভিডিও গেইমের সাথে এর প্রভাব রয়েছে। ভায়োলেন্ট ভিডিও গেইম শিশুদের আচার আচরনে ভায়োলেন্স নিয়ে আসে।

করনীয়ঃ

শিশুদের ভিডিও গেইম অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করা উচিত তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যে। এছাড়া অভিভাবক হিসেবে ভিডিও গেইমের দৃশ্য কনটেন্ট গুলো পরীক্ষানিরীক্ষা করা উচিত, এগুলো কি হিংস্রতা বা যৌনতায় পরিপূর্ণ কিনা। অভিবাবক হিসেবে এটা নৈতিক দায়িত্ব। কার্টুন ছবির ব্যাপারেও একই পরামর্শ। ভিডিও গেইম থেকে শিশুকে বের করে আনতে হলে বাবা মা তার শিশুটিকে পর্যাপ্ত আউট ডোর গেইমে ব্যস্ত রাখতে হবে। তার সাথে খেলতে হবে, তাকে কোয়ালিটি টাইম দিতে হবে।

ডা. সাঈদ এনাম
সাইকিয়াট্রিস্ট
মেম্বার, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন
মেম্বার, ইউরোপিয়ান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়