Ameen Qudir

Published:
2019-05-16 09:28:55 BdST

পাথরঘাটা উপজেলা হাসপাতালে ডাক্তারের হাতে কিশোর প্রহার নিয়ে ব্যাপক নিন্দা ও ভিন্ন মত



ডেস্ক
_____________________

বাংলাদেশের বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা হাসপাতালে অসুস্থ মায়ের সন্তানকে প্রহারের একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজ সোজা সাপ্টা ভাষায় বলেছেন , ঘটনা সত্য হলে এধরণের আচরণ কোনও ভাবেই কাম্য নয় । এ টা গ্রহনযোগ্য নয়। একজন চিকিৎসকের অচরণ হবে মার্জিত ও গ্রহনযোগ্য। নানা পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে সংযত রাখবেন সেটা প্রত্যাশিত। তার মেজাজা হারানো বা মাত্রা ছাড়ানো আচরণ পেশার অবমাননা। চিকিৎসকরা ঘটনার আইনি তদন্ত করে সকলেই এ ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা দাবি করেন। এ ব্যাপারে প্রচলিত বিভাগীয় আইন আছে। নিশ্চয়ই বিভাগীয় তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন অফিস বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ক্যাডারের উজ্জ্বল ও গ্রহনযোগ্য ব্যাক্তিত্ব
ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল লিখেছেন ,

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা হাসপাতালে অসুস্থ মায়ের সন্তানকে পেটালেন যে চিকিৎসক নামের বীরপুরুষ (!) তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

ভিডিও তে দেখলাম এই বীরপুঙ্গব ছেলেটিকে মারছে আর তাকে ঠেকাতে চেষ্টা করছে স্যালাইন হাতে অন্য এক রোগী। মায়ের জন্য চিকিৎসা চাইতে এসে মায়েরই সামনে প্রহারের শিকার হলো যে কিশোর সে সারাজীবন ডাক্তারদের ঘৃণা করবে। সেই মায়ের মনের অবস্থাটিও একবার ভাবুন।

কি লজ্জাজনক দৃশ্য!

সম্ভবত ছেলেটি দরিদ্র, সমাজের প্রভাবশালী অংশের কেউ নয়৷ এই ঘটনার প্রতিকার পাবার তেমন আশা নাই যদিনা বরগুনা স্বাস্থ্য প্রশাসন নিজে থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে।

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ। দু বাংলায় সমাদৃত সঙ্গীত শিল্পী।
__________________________


ওদিকে আরেকজন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ শিরীন সাবিহা তন্বী জানিয়েছেন ঘটনার আরেক দিক ও ব্যখ্যা। সেটাও পাঠকদের সমীপে পেশ করছি।

ডাঃ শিরীন সাবিহা তন্বী জানান তার ভাষায়:
"অসুস্থ মা কে বিছানায় তোলায় কিশোর কে ডাক্তারের প্রহার" এর নেপথ্যের সত্য।

সাফাই গাইছি না।
যে ওয়ার্ডে রুগী ভর্তি সেখানে বেড খালি না থাকাতে ফ্লোরে রাখা হয়েছে রুগী।
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র,ক্লাসে জায়গা না থাকলে অষ্টম শ্রেণির ফাঁকা বেঞ্চে বসতে পারবে?
বিছানা খালি থাকলে ও ওটা ঐ রুগীর বিছানা না।
কিশোর বয়সের ছেলে জোর করে মা কে বিছানায় তুলল। ডাক্তার, নার্স দের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিল।
নার্স গন যথারীতি ডাক্তার কে ডেকে জানালেন। ডাক্তার এসে ও ঐ কিশোর নিবৃত্ত করতে না পেরে রাগ করে মোবাইল ফোন বের করে ওর গালিগালাজ ভিডিও করতে যায়।
এতে বিব্রত হয়ে বেয়াদব ছেলেটি ডাক্তারের হাত থেকে ফোন কেড়ে নিতে গেলে ডাক্তার টেম্পার লস করতে বাধ্য হন।
ছেলেটিকে চড় থাপ্পর মারেন।
আবার ও বলছি, সাফাই গাইছি না।
তবে একজন প্রথম শ্রেণীর চিকিৎসা কর্মকর্তার কর্মস্থলে একটা বাচ্চা ছেলে এসে চরম অসভ্যতা, বেয়াদবী করবে। এসব সহ্য করে করে আর কতদিন?
এই পরিমাণ বেয়াদবী অন্য যে কোন ক্যাডারে কর্মকর্তার সাথে করলে ঐ ছেলে এতক্ষণ পুলিশ থানা হয়ে কিশোর নিরাময় কেন্দ্র তথা জেলের ভাত খাইত।
আর ডাক্তারের সাথে হলো বলেই রিপোর্ট হলো উল্টা।
বরশী মাছকে না, স্বাস্থ্য ক্যাডারে মাছ বর্শীকে তাড়া করে।
জানি সুশীল গন বলবেন, ধৈর্য্য ধরতে হবে। উত্তেজিত হওয়া যাবে না।
ডাক্তার রক্ত মাংসের মানুষ।
রোবট না। রমজানের তপ্ত দুপুরে কর্মস্থলে এসে কেউ নিয়ম বহির্ভূত হুল্লোড় হাঙ্গামা করলে ডাক্তার কাজ করবেন কিভাবে??
সব কিছুর পরে বলব এই ঘটনা আমাদের জন্য একটা শিক্ষা।প্রতিটি হাসপাতালে এন্ড্রয়েড ফোন নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ করতে হবে।আর এই সব একেবারেই মূর্খ আচরন করা লোকজনকে সামলাতে ব্রদার, MLSS রাখতে হবে। বেয়াদবী করলে যদি MLSS দুটো থাপ্পর দিত আজ এই সিচুয়েশন তৈরি হতো না।
ডাঃ শিরীন সাবিহা তন্বী
৩২ শেবাচিম
বরিশাল ।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়