Ameen Qudir

Published:
2018-07-31 10:03:23 BdST

আসাম:যে ইতিহাস ভুলতে নেই


 

 


অধ্যাপক ডা.অনির্বাণ বিশ্বাস
_______________________________

অতঃপর চল্লিশ লক্ষ মানুষ আসামে অবৈধ অভিবাসী ! এরা বাঙালী এবং প্রধানত মুসলমান । উল্লেখ্য, আসামে ৩ কোটি ২০ লক্ষ লোকের বাস যার এক-তৃতীয়াংশ মুসলিম।

নাগরিকপঞ্জী (National Register of Citizenship) এ বলা হয়েছে, গত শতাব্দির একাত্তর সালের ২৪ মার্চ মধ্যরাতের পরে যারা আসাম গিয়েছে তারা 'বিদেশী'। তারা আসামের নাগরিক না, অতএব তাদের আসাম থেকে বের করে দিতে হবে। 'বিদেশী মানে তারা প্রধানত 'বাংলাদেশী'। (আর বাংলাদেশী মানে তারা 'মুসলমান'-এটি উহ্য)

আসামের মুসলমানরা কি বাংলাদেশ থেকেই গিয়েছে? অনেকাংশে।আবার অনেক মুসলমানকে চেহারার দিক থেকে আসামিদের থেকে আলাদা করে চেনা যায় না (এ মর্মে সৈয়দ মুজতবা আলীকে আমরা সাক্ষী মানতে পারি)। কাছাড় জেলায় যে মুসলমানের বাস তাদের পূর্বপুরুষ সেখানে গিয়েছিল সিলেট জেলা থেকে।তারপরে ক্রমাগত অনুপ্রবেশ ঘটেছে বাংলাদেশ থেকে।

১ অহমিয়াদের বাঙালী বিদ্বেষ...কারন ?

একটু অতীতে দেখলে দেখা যাবে,স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই অবিভক্ত বাংলা থেকে দলে দলে বাঙ্গালিরা আসামে যায়; সেখানে চাষবাস শুরু করে , ক্রমশ ব্যবসা আর চাকরিতে তারা অগ্রসর হয়ে ওঠে- যা মধ্যবিত্ত আর শিক্ষিত অহমিয়াদের ক্ষোভের কারণ হয়। তবে ব্যাপারটা এতো সরলও নয়। রাজধানী কলকাতা থেকে আসাম শাসনের শুরুতেই আসামের জন্য বাংলা ভাষাকেই স্থানীয় মূল ভাষা আর শিক্ষার মাধ্যম স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছিল বৃটিশরা। অথচ আসামের মাত্র উনিশ শতাংশ মানুষ তখন বাঙালি ছিল।

আসামে ব্রিটিশ শাসন শেষ হবার কিছুদিন পর ১৯৫০ সালে গোয়ালপাড়ায় আরম্ভ হয় ‘বঙ্গাল খেদা’ আন্দোলন। বাঙালি সংস্কৃতি আর ভাষার আধিপত্য আসামিদের মনোঃপুত হবার কথা নয়, হয়ও নি। ‘বঙ্গাল খেদা’ শুরু হয়েছিল বাঙালিদের দখলে যেন বিধানসভা চলে না যায় সেই আশঙ্কা থেকেই। আর রাজ্যভাষা নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল চাকুরি-সন্ধানীরা এবং নিহিত কারণ ছিল অর্থনৈতিক।

১৯৫০ সাল থেকেই অহমিয়াকে রাজ্যভাষা বানাতে গণদাবী উঠে আসতে থাকে।
অসম রাজ্যের কাছাড় জেলার শিলচর, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দিতে হাজার হাজার বাঙালি থাকতেন৷ সে সময় অসমিয়ারা মনে করেছিলেন, বিপুল সংখ্যক বাঙালির বাস তাদের অধিকারকে খর্ব করছে৷ আর বাঙালিদের জন্য যখন আলাদা একটি রাজ্য রয়েছে, তখন আর অসমে থাকা কেন? জাতিবিদ্বেষী এই মনোভাব ক্রমশ দানা বাঁধতে থাকে, অসমে বাঙালিদের বহিষ্কারের আশঙ্কা বাড়তে থাকে৷ দুই ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির একটি সিদ্ধান্ত আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়৷ ১৯৬০-এর এপ্রিলে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, অসমিয়াই হবে রাজ্যের একমাত্র সরকারি ভাষা৷ অর্থাৎ, বাঙালিদেরও অসমিয়াতেই কাজ সারতে হবে৷ সে বছর জাতিবিদ্বেষের জিগির এতটাই বাড়তে থাকে যে, হাজার হাজার বাঙালি অসম ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যেতে থাকেন৷ বিভিন্ন জেলায় বাঙালিদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে লুঠপাট চালায় দুষ্কৃতীরা৷ জুন মাসে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বাঙালি বসতিগুলো আক্রান্ত হয়। এই আক্রমণ গৌহাটির কটন কলেজ থেকে শুরু হয়ে সাড়া রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে নৃশংস সহিংসতা সংঘটিত হয় কামরূপ জেলার গড়েশ্বরের পঁচিশটি গ্রামে। গৌহাটির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিসকে (যারা উভয়েই বাঙালি ছিলেন) হত্যা করা হয়। এক হিসাবে ৫০০,০০০ বাঙালি আসাম থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝে প্রায় ৫০,০০০ বাঙালি পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিল। অনেকের প্রাণ যায়৷ যখন পরিস্থিতি এমনই অগ্নিগর্ভ, তখন অসমের মুখ্যমন্ত্রী বিমলাপ্রসাদ চালিহা’র একটি সিদ্ধান্তে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাঙালি ঘুরে দাঁড়ায়৷ প্রদেশ কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক রূপ দিয়ে চালিহা ঘোষণা করেন, অসমিয়াই হবে রাজ্যের সরকারি কাজকর্মের ভাষা৷

বাঙালীরা আন্দোলন শুরু করেন আসামে অহমিয়ার পরে বাংলাকে ২য় সরকারি ভাষা করতে হবে। ১৯৬১ সালের ১৯ মে আসামের শিলচরে বিক্ষোভকারীদের উপর সরকার গুলি চালালে ১১ জন নিহত হন (গুলিতে শহিদ হন ১১ জন ভাষাসৈনিক কমলা ভট্টাচার্য, শচীন্দ্র পাল, বীরেন্দ্র সূত্রধর, কানাইলাল নিয়োগী, চণ্ডীচরণ সূত্রধর, সত্যেন্দ্র দেব, হীতেশ বিশ্বাস, কুমুদরঞ্জন দাস, তারিণী দেবনাথ, সুনীল সরকার ও সুকুমার পুরকায়স্থ) সরকার শেষ পর্যন্ত দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এরপর সত্তরের দশক ছিল ভাষা দাঙ্গার দশক। ১৯৭২ সালে বড় আকারে জাতিগত দাঙ্গা হয় যেখানে বাঙালিরাই মূলত আক্রান্ত হয়।

আসামের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সাধারণত ছাত্রসমাজকে সক্রিয় রাজনীতিতে জড়াতে নিরুৎসাহিত করতেন। কিন্তু ভাষার ইস্যুতে বাঙালিদের খেদাতে তারা ছাত্রদের ব্যবহার করেন।
আশির দশকে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে মেঘালয় রাজ্যেও। ১৯৮৩ সালের অভিবাসী-বিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্যবস্তু হয় বাঙালিরা।

২ বিজেপি ও আসাম

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি 'বাংলাদেশি কার্ড' খেলেছিল। স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি আসামের বিভিন্ন জনসভায় বলেছিলেন যে, তারা সরকার গঠন করলে 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' আসাম থেকে বহিষ্কৃত হবে। খুব সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার কারণে বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সরাসরি বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করেননি বটে, ঠারেঠুরে যা বলেছেন, তা লোকসভা নির্বাচনী প্রচারেরই পুনরাবৃত্তি। অবশ্য বিজেপির অন্য নেতারা বিষয়টি নিয়ে গলা ফাটাতে কসুর করেননি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তার দল থেকে প্রকাশিত ইশতেহারেও বলা হয়েছিল যে, বিজেপি রাজ্য সরকার গঠন করতে পারলে তিনটি কাজ করবে- 'অনুপ্রবেশ' বন্ধ, তাদের ভাষায় 'অবৈধ' অভিবাসীদের বের করে দেওয়া এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সিল করে দেওয়া। তাদের জোটসঙ্গী অসম গণপরিষদের রাজনীতির ভিত্তিও হচ্ছে অনুপ্রবেশকারী ইস্যু। অগপ মূলত অহমিয়া জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল। বিভিন্ন সময়ে আসামে 'বঙ্গাল খেদা' আন্দোলনে তারাই নেতৃত্ব দিয়েছে। এই ইস্যুকে পুঁজি করেই তারা ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে দুই মেয়াদের জন্য রাজ্য সরকার গঠন করেছিল। বোরোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্টও উজান আসাম এলাকায় তাদের জাতিগত অধিকার ক্ষুন্ন হওয়ার জন্য 'বহিরাগতদের' দায়ী করে থাকে।

৩ সর্বানন্দ সানিয়াল

তথাকথিত অবৈধ অভিবাসী বা অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি ও মোদি মন্ত্রিসভার এক সময়ের সদস্য সর্বানন্দ সানিয়াল। আরও ভেঙে বললে, তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারই গড়ে উঠেছে এই একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে। তিনি ছিলেন অসম গণপরিষদের মূল শক্তি অসম ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে মূল দলের 'দোদুল্যমান্যতা' নিয়ে মতবিরোধের জেরেই তিনি অগপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং লোকসভায় নির্বাচিত ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন।বিধানসভা নির্বাচনী ফল প্রকাশের দিনও তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম কাজ হবে আসাম-বাংলাদেশ সীমান্ত 'সিল' করে দেওয়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা। নির্বাচনে বিপুল বিজয় এবং 'বহিরাগত' ইস্যুতে মারমুখী দুই জোটসঙ্গী নিয়ে তার এমন তুলকালাম কাণ্ড ঘটানো মোটেও কঠিন হবে না, হয়ও নি।

৩ 'বঙ্গাল খেদা' থেকে 'মুসলমান বিতাড়ন' ?

ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অব সিটিজেন ১৯৫১ আসামে একটি আইনী হাতিয়ার; যার দ্বারা কারা আসামের নাগরিক তা নির্ণয় করা হচ্ছে। নাগরিকপঞ্জির ভিত্তিতে কে আসামে থাকত পারবে আর কে পারবে না সেটাই নির্ণয় করা হচ্ছে। যারা নিবন্ধিত হতে ব্যর্থ হবে তাদের বিতাড়ন করা হবে। এই নিবন্ধন শুধু আসামেই, অন্য কোন রাজ্যে নয়। রাষ্ট্রের আইন মানুষের জন্মগত অধিকারও হরণ করতে পারে এবং অনায়াসে লক্ষ লক্ষ লোককে 'রাষ্ট্রহীন' বানিয়ে আইনী সুরক্ষা ও অধিকারের বাইরে ছুঁড়ে ফেলতে পারে। আসামের আইনী পরীক্ষা জাতিবাদ ও আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অসুখ, পুরা দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তাপ ছড়িয়ে এই অসুখ নিজেকে জনান দিচ্ছে।

ভারতীয় জাতীয়তাবাদ মূলত হিন্দুত্ববাদেরই নামান্তর। নরেন্দ্র মোদীর আমলে সেকুলার খোলসটুকু রাখা তাই বিজেপি দরকারী মনে করে না। রাখতে চাইছেও না। কী দরকার? হিন্দুত্ববাদ একই সঙ্গে ভারতের কর্পোরেট পুঁজির মতাদর্শ হয়ে উঠেছে। হিন্দুত্ববাদের সফলতা আদর্শগত কারণে নয়, অখণ্ড ভারতকে অখন্ড রাখা কর্পোরেট পুঁজির নিজেরই দায়। নইলে আভ্যন্তরীণ বাজার বড় পুঁজির অধীন রাখা যেমন কঠিন, তেমনি বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বীতা ও মেলা ঝামেলার। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আসামের জাতীয়তাবাদ রূপ নিচ্ছে হিন্দুত্ববাদে, প্রকট মুসলমান ঘৃণায় এবং আসাম থেকে মুসলমান বিতাড়নের রাজনীতিতে।
নাগরিক নিবন্ধনের ছুতোয় শৃংখলা ও শাস্তির মধ্য দিয়ে জনগণকে নিয়ন্ত্রণের কারিগরিগুলো একমাত্র আসামে হওয়াটাও অবাক হবার মতো কিছু নয়। হিন্দুত্ববাদ অহম জাতীয়তাবাদের চরিত্র বদলে দিচ্ছে। বলা যায়। এর উৎস 'বঙ্গাল খেদা' বা 'বাঙালি খেদা' আন্দোলন,যার জের এখনও ষোল আনা আসামে আছে। এর আগে আসামীরা যে বাঙ্গালিদের বিতাড়িত করেছে তারা প্রধানত হিন্দু, মুসলমান নয়। অতএব হিন্দু বাঙালিও বিতাড়নের শিকার হবে।

৪ মোদী
মোদীর নীতি হচ্ছে হিন্দুত্ববাদী ভারত থেকে 'মুসলমান' তাড়াও, কিন্তু 'হিন্দু'রা থাকুক। এমনকি ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে 'হিন্দু' প্রবেশ বা 'অনুপ্রবেশ' করলেও মোদীর ভারত তাদের নাগরিকত্ব দেবে। নতুন কোন হিন্দু এলেও ভারতে নাগরিকত্ব পাবে। গোলকায়নের যুগে ভারতীয় জনতা পার্টির 'হিন্দু' একটি নতুন রাজনৈতিক বর্গ, নতুন রাজনৈতিক ফেনোমেনা। এর সঙ্গে সনাতন ধর্মের বিচিত্র ও বিভিন্ন অভিপ্রকাশ, উপাসনার বিবিধ প্রকার কিম্বা নিঃশর্ত আত্মসমর্পন বা ভক্তির ধারার কোন সম্পর্ক নেই।

বোঝা যাচ্ছে মুসলমানদের বিতাড়িত করা এবং ভারতে মুসলমানদের 'অনুপ্রবেশ' বন্ধ করা -- একান্তই নরেন্দ্র মোদীর হিন্দু ভারতের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। সেই লক্ষ্যে আসাম বিজেপির জন্য একটি রাজনৈতিক ও আইনী পরীক্ষাগার। দক্ষিণ এশিয়ার এটা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা। এর সফলতাই ভারতের আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিজেপির ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।

বলাবাহুল্য পুরা ভারত মুসলিম শূন্য করা অবাস্তব চিন্তা, তাই আসামে নাগরিকপঞ্জীর (National Register of Citizenship) নির্ণয়ের মধ্য দিয়ে কে ভারতীয় আর কে নয় নির্ণয় একটি পরীক্ষা বটে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সঙ্গে এর সাংঘর্ষিকতা কতোটুকু হিন্দুত্ববাদীরা তা দেখতে চায়। আরাকান থেকে মায়ানমার থেকে ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে হত্যা ধর্ষণ করে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেবার সাফল্য দিল্লিকে উৎসাহিত করেছে দারুন। বাংলাদেশ একটি দুর্বল দেশ। আঞ্চলিক কিম্বা আন্তর্জাতিক ভাবে তার কিছুই করবার ক্ষমতা নেই। ভারতের সংবিধান কতোটুকু আন্তর্জাতিক মানবিক অধিকারের বিধানগুলো মানে হিন্দুত্ববাদ সেটাও পরীক্ষা করতে চায়।মুসলমান নির্মূলকরণ প্রক্রিয়ার আরম্ভ তাই পরীক্ষামূলক ভাবে আসামেই শুরু হয়েছে। খুবই ভয়াবহ বটে, কিন্তু অতিশয় তাৎপর্যপূর্ণ প্রাথমিক হিন্দুত্ববাদী এক্সপেরিমেন্ট। আধুনিক রাষ্ট্রের আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে মানুষের জন্মগত মানবিক অধিকার অস্বীকার করবার জন্য।

মনে হচ্ছে, মায়ানমারের পর দক্ষিণ এশিয়া আরেকটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে দ্রুতবেগে ধেয়ে চলেছে।

( ইতিহাস সবার জানা দরকার।এত বিদ্বেষ নিয়ে বাঁচব কি করে ? তথ্যে কিছু ভুল থাকলে সংশোধন করলে/নতুন তথ্য দিলে সবাই সমৃদ্ধ হব । এক সাথে বাঁচি সবাই চলুন, অনেক হানাহানি হয়েছে...)


---------------------------

সূত্রঃ
Assam disturbance: 1 Bongal Kheda Again ( K C Chakrabarty)
Assam disturbance: 2 Tragedy Of Political Tactlessness ( P C Goswami)
3 আসামে মুসলমান (এবনে গোলাম সামাদ )
4 'চল মিনি আসাম যাব (গওহর নঈম ওয়ারা)


--------------------------------

অধ্যাপক ডা.অনির্বাণ বিশ্বাস । কবি। শুভচিন্তক। কলকাতার প্রখ্যাত লোকসেবী চিকিৎসক।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়