Ameen Qudir

Published:
2017-12-31 17:11:14 BdST

মাছের গপ্পো


 

 

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়

___________________________


মাছের গপ্পো।
বেলুদা অনেক লিখেছে, আর তার স্বাদ ই আলাদা। আবার সচিত্র। তাই ভয়ে ভয়ে একটু লিখি এখন।

আমার বাল্যে আর শৈশবে, মাছ ছাড়া খাওয়া যাস্ট ভাবা যেত না। শুধু জলখাবার টা মাছের ছোঁয়া লাগে নি। দুপুর বেলা আমার মা - কাকিমা রা মাছের তেলঝোল বলে একটি রান্না করতেন -- মাম্মা বা ঠাকুমার তত্বাবধানে। সঅব মাছের। শুধু পেঁয়াজ দেওয়া হতো না। সেই সময়ের ভাত - তরকারি - মাছের তেলঝোল আর বাড়িতে পোষা মুরগী র ডিমসেদ্ধ খেয়েই স্কুলে গিয়েছি প্রতিদিন।


কেউ কেউ অবাক হচ্ছেন কি? আমি, আমাদের প্রজন্মে প্রায় চোদ্দ বছর একা ছিলেম। আমার দুই কাকা, নতুনকাকা আর ফুলকাকা, মাম্মার সামান্য বিরক্তি অগ্রাহ্য করেই ৬৬- ৬৭ সালে আমাদের বাড়ি র দোতলার ছাদে, বিলক্ষণ পোল্ট্রি খুলে ফেললেন। বাবা কিনে দিলেন ওদের থাকার ঘর। আ্যলুমিনিয়ামের ছাদ দিয়ে আর তারের জালের দেওয়াল ও দরজা সমেত দু কামরাওলা মুরগি দের বাড়ি তৈরী হলো। শীতে মোটা চট দিয়ে ঘিরে দেওয়া হতো ওদের। সংখ্যা বাড়তে বাড়তে একসময় দশ ছুঁলো ওদের।

 

 


আমার ভারি সখ্যতা ছিলো ওদের সঙ্গে। প্রত্যেকের আলাদা নাম দিলুম আমরা। তখনো ব্রয়লারের নাম সম্ভবত কেউ শোনেনি। আমাদের ছিলো সাদা লেগহর্ণ, আর কালো ও বাদামী রোড আইল্যান্ড নামের মুরগিরা। আরেকটু বড় হয়ে ওদের জন্যে সাইকেল করে মেশ বা খাদ্য আনতে যেতুম নিয়মিত। তাও তিনরকম -- বাচ্চাদের, বড় হচ্ছে যারা তাদের এবং ডিম পাড়ার মতো বড় যারা তাদের। মোঘল হারেমের মতো, পুরুষ মুরগি র প্রবেশাধিকার ছিলো না। তোমরা আমার স্বপ্ন বেলার ( সব্য, নামটা ধার নিলুম) সঙ্গী ছিলে গো।

 

 

মাছের কথায় ফিরি। রাতে হতো রুটি, তরকারি আর মাছের ডালনা। এই ডালনা পেঁয়াজ দিয়েই তয়ের হতো। প্রতিদিন ই। আমার মাম্মা নিরামিষাশী হলেও অতি উচ্চমার্গের মাছ রান্না করতেন। সে একবার ৭০ কি ৭১ সালে ইলিশ খুব সস্তা এবং লভ্য হয়ে গেলো বর্ষাকালে , আর প্রতিদিন ই আসতো। মাম্মা এমন ইলিশ মাছের তেলঝোল করতেন যে কাকারা, আমি এমনকি বাবাও কোন কোন দিন ডাল বা তরকারি দিয়ে ভাত খেতেন ই না। এতো স্বাদু ছিলো সেই ঝোল।

 


নতুনকাকা মাঝে মাঝে সন্ধ্যের মুখে কুচো চিংড়ি নিয়ে আসতেন। তার চমৎকার বড়া হতো।
তেলাপিয়া আর ভোলা মাছ আসতো না কখনো। আসতো না চাঁদা মাছ, যার এখন নাম পমফ্লেট। নাইলন টিগার নাকি, তখনো কেউ দেখেইনি। ভেটকি, রুই, কাতলা, ট্যাংরা, পার্সে আর মৌরলা মাছ আসতো মাঝে মাঝে। তবে মৌরলা ছিল আবশ্যিক ভাবেই আ্যড - অন মাছ।
আর প্রতি রবিবার পাঁঠার মাংস। দুপুরে, ভাতের সঙ্গে।


আত্মীয় -- অনেক দূরের হলেও, প্রয়াত হলে অশৌচ ও ১৩ দিনের নিরামিষ। খুব হাঁপিয়ে উঠতুম তখন।।
মাছের ডিমভাজা ও ভারি উপাদেয় ছিল ও আছে এখনো।।

_______________________

ডা. সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়

 

সুলেখক । কবি।

Diabetes & Endocrinology Consultant
M.D. at University of Madras । প্রাক্তন :
Calcutta National Medical College and Madras Medical College (MMC)

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়