|

ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক একদম নয়


Published: 2016-12-09 11:40:37 BdST, Updated: 2017-11-24 13:30:36 BdST

              

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ
___________________________

এন্টিবায়োটিকের সাত কাহন--
১।এন্টিবায়োটিক কি ?

ব্যাক্টেরিয়া নামক অণুজীবের বংশ বিস্তার রোধ বা ধ্বংশ করতে যে ওষুধ ব্যবহার করা হয় তাকে এন্টিবায়োটিক বলা হয় ।

২।ইতিহাস -
---------
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং Penicillium notatam নামক ছত্রাক থেকে প্রথম এন্টিবায়োটিক আবিস্কার করেন ।প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আহত রোগীদের চিকিৎসা ,বিশেষত শল্য চিকিৎসায় যথাযত ওষুধ না থাকায় ব্যক্টটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরী ওষুধের তীব্র প্রয়োজনীয়তা থেকেই তিনি এন্টিবায়োটিক আবিস্কারে ব্রতী হন ।

৩।কতিপয় বহল ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক -
--------------------------
পেনিসিলিন ,এজিথ্রোমাইসিন ,সিপ্রোসিন ,ক্লোরামফেনিকল,সেফালোস্পেরিন

৪।প্রয়োগ
---------
মূলত মুখে সেবন যোগ্য ।প্রয়োজনে শিরাপথে ইঞ্জেকশন আকারে ।দরকারে ক্ষতস্থানে মলম বা পাউডার হিসেবে ,চোখে -কানে ড্রপ ইত্যাদি হিসেবে ।

৫।এন্টিবায়োটিক সেবনের নিয়মাবলী -
-----------------------
অবশ্য -অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন যোগ্য ।চিকিৎসক এন্টিবায়োটিকের দরকার আসলে আছে কি না নিশ্চিত হয়েই সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন ।সেবনকালে সঠিক ডোজ ,সঠিক সময় , কি ভাবে ,কতদিন সেবন করতে হবে এই ব্যবহারবিধি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে ।

৬। যা কখনই করা যাবে না ?
-------------------------
নিজের ইচ্ছায় ,ওষুধের দোকানী,বন্ধু ,আত্মীয়,পরিচিতজনের পরামর্শে কখনই এন্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না ।ভাইরাস ,ফাঙ্গাস ,প্রটোজোয়া জাতীয় অণুজীবের সংক্রমণের চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিকের কোনই ভূমিকা নাই ।অথচ এই অণুজীবগুলির আক্রমণে অনেক ক্ষেত্রেই একই জাতীয় উপসর্গ দেখা দিতে পারে ।এন্টিবায়োটিক সেবনের দুই -একদিনের মধ্যেই লক্ষণ চাপা পড়ে ।আপাতভাবে অসুখ ভালো হয়েছে মনে করে এই ওষুধ সেবন বন্ধের কোন সুযোগ নাই । ইচ্ছা অনুযায়ী সময়ে ,কখনো কম বা বেশী মাত্রায় ওষুধ সেবন কখনই করা যাবে না ।সেবনবিধির ব্যতিক্রম ,এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছা ব্যবহার কখনই করা যাবে না ।

৭। ভাংগনের ডাক শুনি -
-------------
এন্টিবায়োটিকের আবিস্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিপ্লব এনেছিল ।আবার ,এর যথেচ্ছা অপপ্রয়োগ এই জাতীয় ওষুধকে মানুষের জন্য চিরদিনের জন্য রেজিস্ট্যান্স 'Resistance ' করে দিতে পারে ।অর্থাৎ এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ দরকার ,রোগীকে দেয়াও হচ্ছে ,কিন্তু কোনভাবেই কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না ।ফলে রোগের চিকিৎসা নিরাময় তো হবেই না ফলে অনিরাময়যোগ্য জটিল কোন অসুখ জটিলতর হবে ,এমন কি মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে ।

তাই আসুন প্রতিজ্ঞা করি ,আমরা কখনই নিজের ইচ্ছায় এন্টিবায়োটিক সেবন করব না ।সঠিক ডোজ ,মাত্রা ,সময়সূচী ,ব্যবহারবিধি অবশ্য -অবশ্যই মেনে চলবো ।

___________________________

 

 

লেখক :

মেজর  ডা. খোশরোজ সামাদ ,
ওয়েস্টার্ন সাহারা

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।