|

একের পর এক ডাক্তার নির্যাতন : এক সুতোয় গাঁথা !


Published: 2016-12-30 11:26:06 BdST, Updated: 2017-04-25 10:39:26 BdST



 

ডা. শিরিন সাবিহা তন্বী
___________________________

অতি উৎসাহ,উদ্দীপনার সাথে ২২ ডিসেম্বর চিকিৎসকদের প্রানের সংগঠন বিএমএ র নির্বাচন শেষ হলো।নবনির্বাচিত প্যানেল এখনো দায়িত্ব ও বুঝে নেয়নি।২৮ ডিসেম্বর শেষ না হতেই এই ৬ দিনে সারাদেশে একের পর এক ঘটে গেছে চিকিৎসক নির্যাতনের ঘটনা।


রাজশাহী মেডিকেলের ইন্টার্ন ডাঃ পরাগ কিংবা নেত্রকোনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইমার্জেন্সী মেডিকেল অফিসার,শেবাচিমের প্রাক্তন ছাত্র ডাঃ রজনকে একদল কুলাঙ্গার,বর্বর,সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলা হওয়ার,রক্তাক্ত হওয়ার,লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা যেন একই সুতোয় গাঁথা!

একি ঘটনার পুনরাবৃত্তি!!
আমরা চিকিৎসকরা এতদিনে এটুকু তো জেনে গেছি যে রাষ্ট্র এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ ই শুধু না,সরকারের কর্তা ব্যক্তিগন ভোট বানিজ্যের অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশে ডাক্তারদেরকে তাদের জনপ্রিয়তা অর্জনে গুটি হিসেবে ব্যবহার করে পরোক্ষ ভাবে ভূমিকা রাখে কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসক নির্যাতনে!

 

এটাও জেনে গেছি যে বিএমএ র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুধু নিজেদের স্বার্থ আর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধাটুকু ত্যাগ করবার সৎ সাহস রাখলে চিকিৎসকদের উপর কর্মক্ষেত্রে সন্ত্রাসী হামলা রোধ করা কেবল তিনদিনের ব্যাপার!কিন্তু তারা স্বার্থত্যাগে অক্ষম!


আর আমরা এও জানি যে সরকার,বিএমএ সবাইকে বাদ দিয়ে দেশের সকল চিকিৎসক যদি একযোগে,একমতে একতাবদ্ধ হবার মত যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতে পারত - তবে সাতদিনে বন্ধ হতো কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকের উপর হামলা এবং লাঞ্জনা।কিন্তু এই নির্বোধ,চেতনাহীন,অমেরুদন্ডী চিকিৎসকশ্রেনী তা পারবে না।।

 

তাই আমার এই প্রস্তাবনা।যাতে একক ভাবে কাউকে স্বার্থ হারাতে হবে না।
*দেশের সকল সচেতন চিকিৎসক যার যার কর্মস্থলে সর্বস্তরের চিকিৎসক স্বমন্বয়ে একটি টিম গঠন করবে।
*জেলার সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগন মাসে একদিন ঐ জেলার মেডিকেল কলেজ বা সদর হাসপাতালে একত্রিত হয়ে মত বিনিময় সভা করবে।*এই কমিটিতে ঐ জেলার কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর অন্তর্ভূক্ত থাকবে।এই কমিটি সরাসরি জেলা বিএমএ র সাথে সংযুক্ত থাকবে।
*কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে এবং জেলা স্থানীয় বিএমএ একটিভ হবে।
*একটি অনলাইন গ্রুপ থাকবে ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রিত।সব বিভাগ থেকে এডমিন থাকবে।জেলার ইভেন্ট গুলো সাথে সাথে ঐ পেজে শেয়ার করবে জেলা প্রতিনিধি।বিভাগীয় প্রতিনিধি বিভাগকে একটিভ করবে সেই সাথে কেন্দ্রীয় কমিটি।।
*প্রতিটি ঘটনায় কেন্দ্র ইনভলভড হবে এবং কেন্দ্রীয় কার্যক্রম থাকবে।
*যদি ঘটনা সহ্যের সীমা অতিক্রম করে,এক সাথে সারা দেশের সব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গর্জে উঠবে।

 

একবার ভাবুন সকলে।একজন বঙ্গবন্ধু এত বড় শক্তিশালী সেনাবাহিনী সম্বলিত পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে কেবল বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে সব বঞ্চিতদের সারা দেশে বাঁশের লাঠি হাতে প্রস্তুত করেছিলেন।
তবে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে দেশের সবথেকে মেধাবী,সহনশীল,আন্তরিক এবং দেশপ্রেমিক প্রজাতি আজ পেশার এই দুর্দিনে এই স্বাধীনতা হননের সময়ে, এই অত্যাচার,লাঞ্ছনা র সময়ে এমন একটা দুর্বার নেটওয়ার্ক গড়ে এই বিশ্রী সময়টাকে অতিক্রম করতে পারবে না?


অন্যদের কথা জানি না।আমি বিশ্বাস করি,কর্মক্ষেত্রে দিনের পর দিন,কারনে অকারনে চিকিৎসকের গায়ে হাত,লাঞ্ছনা আর একটি দিন ও সহ্য করা উচিত না।তাতে যদি সারাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একযোগে কলাপ্স করতে হয় - তবে তাই করা উচিত।।
তবু নিরাপদ কর্মস্থলের প্রশ্নে আমরা হব বদ্ধ পরিকর।

_________________________________

 

ডা. শিরিন সাবিহা তন্বী । জনপ্রিয় কলামিস্ট। কথাশিল্পী। মেডিকেল অফিসার, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।