Ameen Qudir

Published:
2018-01-16 05:19:12 BdST

দুদক কমিশনার সুন্দর বলেছেন: এখন আমাদের সমস্যার পাহাড়ের কথাও শুনবেন কি !


 




ডা. কামরুল হাসান সোহেল

__________________________

দুর্নীতি দমন কমিশনের সম্মানিত কমিশনার সাহেব ইউএইচএফপিওদের সাথে আজ ভিডিও কনফারেন্সে তাঁর বক্তব্যে বলেছেন,

১) প্রতিটি হাসপাতালের সামনে সাইনবোর্ডে সিটিজেন চার্টার লেখা থাকতে হবে । সেখানে কি কি সেবা দেয়া হয় তা যেন নাগরিকগণ জানতে পারেন ।

**সিটিজেন চার্টার তো লেখা থাকে,সেখানে কি কি সেবা দেয়া তা ও লিখা থাকে,তা পড়ে নাগরিকগণ তা জানতে পারে

২) হাসপাতালের ফার্মেসী হতে বিনামূল্যে প্রাপ্য ওষুধের তালিকা প্রকাশ্যে টানিয়ে রাখতে হবে, এবং প্রতিদিন তা আপডেট করতে হবে ।

**বিনামূল্যে প্রাপ্য ঔষধের তালিকা প্রকাশ্য স্থানেই টানানো থাকে এবং প্রতিদিন তা আপডেট করা হয়।

৩) প্রতি সপ্তাহে একবার হাসপাতাল স্টাফদেরকে সেবাপ্রার্থী জনগণের মুখোমুখি করতে হবে । জনগণ সেখানে মুক্ত ভাবে কথা বলবেন এবং মতামত প্রকাশ করবেন ।
প্রতিটি ব্যাপারে ট্রান্সপারেন্ট থাকতে হবে । প্রাপ্য ওষুধের তালিকা টানানো সেই ট্রান্সপারেন্সির অংশ ।

**সপ্তাহে ১ বার কেন প্রতিদিনই তো কয়েকবার সেবা প্রার্থী জনগণের মারের মুখোমুখি হয় ডাক্তার সহ হাসপাতালের স্টাফ।

** মারমুখী জনগণ কথা কম কাজ বেশি করতে পছন্দ করেন।এরা ডাইরেক্ট একশনে নেমে পড়েন, ডাক্তার পিটাও, হাসপাতাল ভাংচুর করায় বিশ্বাসী।

** প্রাপ্য ঔষধের তালিকায় নিজের চাহিদার ঔষধ না থাকলে বলে ডাক্তার ঔষধ চুরি করে,বাইরে বিক্রি করে দেয়।

#সম্পূরক প্রশ্ন দুদক কমিশনারের কাছে,
** ডাক্তার, হাসপাতাল স্টাফ নিগ্রহ কিভাবে প্রতিরোধ করবেন? তাদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব কার? যারা নিগ্রহের শিকার হয়েছে তাদের বিচার কে করবে? কখন করবে?

৪) দুর্নীতি দমন কমিশন প্রায়ই বিভিন্ন হাসপাতাল ভিজিট করে । এর উদ্দেশ্য হল একে অপরকে সাহায্য করা ।

** হাসপাতালে নানা দুর্নীতি হয় তা বলে সাধারণ পাবলিককে উত্তেজিত করে ডাক্তার,স্টাফদের মার খাওয়ার ব্যবস্থা করা যদি হয় একে অপরকে সাহায্য করা তাহলে এর চেয়ে বড় সাহায্য আর কি হতে পারে?

৫) হাসপাতালে বা এর আশেপাশে কোন দালাল এলাউ করা যাবে না । প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের সাহায্য নিয়ে হলেও দালাল দূর করতে হবে ।

**মোবাইল কোর্ট হাসপাতালের দালাল দূর করতে সাহায্য করলে তো ভালোই হতো।

৬) সেবাপ্রার্থী মানুষ আপনাদের সেবার সন্তুষ্ট কি না, সে ব্যাপারে তাদের কাছ থেকে লিখিতভাবে মতামত নিতে হবে । যদি সন্তুষ্ট হয়, তাহলে খুবই ভাল । আর যদি সন্তুষ্ট না-হন, তাহলে কেন তিনি সন্তুষ্ট নন, এবং সেবার মান উন্নয়নে তাঁর পরামর্শ কী, তা জানতে চাইতে হবে ।

**বাংলাদেশের রুগীদের সেবা দিয়ে সন্তুষ্ট করা যাবে? এদের যদি ডাক্তার তার নিজের কলিজা ভাজি করে খাওয়ায় তখনো বলবে ভাল হয় নাই,লবণ কম দিসে ডাক্তার।

**অসন্তুষ্টির হাজার কারণ বের করবে। ডাক্তার হেসে কথা বলে নাই,ডাক্তার সময় দিয়ে রুগি দেখে নাই, ডাক্তার রুগির গায়ে হাত দেয় নাই আবার কেউ বলবে ডাক্তার রুগির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়েছে, ডাক্তার ঔষধ লিখে দিছে কিন্তু ঔষধ কিনে দেয় নাই, কোম্পানির কাছ থেকে টাকা হয়ে দামী ঔষধ লিখছে, ডাক্তার বিছানার চাদর পাল্টে দেয় নাই আরো কত শত অসন্তুষ্টির কথা লিখবে।

**পরামর্শ দেয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বে আমাদের জুড়ি নেই, বিশেষ করে ডাক্তারদের পরামর্শ আর মানবিকতা শিখানোতে সবাই এক্সপার্ট। মুটে, মজুর,কুলি, শ্রমিক, সাংবাদিক থেকে শুরু করে নেতা,পাতি নেতা সবাই পরামর্শ দিতে আসে।

৭) সকল ডাক্তার অবশ্যই এপ্রন পরবেন । এটা তার ডিস্টিংশন ( বিশেষভাবে চেনার উপায়) ।

** ডাক্তারদের মত বাকি সবার ড্রেস কোড আলাদা করে দেন, হোয়াইট কোট আর কেউ পরতে পারবেনা।

** অন্য পেশাজীবীদের ও ড্রেস কোড নির্দিষ্ট করে দেন, যেমন: ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক,কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, দুদক কর্মকর্তাদের, প্রশাসন ক্যাডারের, সাংবাদিকদের। তাহলে ড্রেস দেখেই সবাইকে চেনা সহজ হবে।

৮) সকল কর্মকর্তা কর্মচারী তাঁর পরিচয় পত্র ধারণ করবেন ।

**সরকারীভাবে পরিচয়পত্র প্রদান করা হোক।

৯) প্রতিটি হাসপাতালে সিটিজেন রিপোর্ট কার্ড প্রবর্তন করা উচিত ।

** শুধু হাসপাতালে কেন? ইউএনও অফিস, এসি ল্যান্ড অফিস, থানা সহ সকল সরকারী কার্যালয়ে সিটিজেন রিপোর্ট কার্ড করারা উচিৎ নয় কি?

১০) সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে লেখা আছে, দেশের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ । জনগণের মৌলিক চাহিদা ( খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা) মেটানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের ।

** চিকিৎসা ছাড়া বাকি মৌলিক চাহিদা মিটানো হচ্ছে কি না তা দেখবে কে? শিক্ষা খাতের অবস্থা শোচনীয় তা উদ্ধার করবে কে?

১১) স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে জনগণের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে ।

** স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে মিডিয়ার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, মাস মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমেই স্বাস্থ্য শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর জনগণের বাড়ি বাড়ি যেতে হবে না কি ডাক্তারদের?

১২) প্রতিটি হাসপাতালে হেল্প ডেস্ক থাকবে । সেই হেল্প ডেস্ক থেকে জনগণ তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিবেন ।

** হেল্প ডেস্ক ভাল উদ্যোগ, তাহলে তথ্য ঘাটতির জন্য বা তথ্য বিভ্রান্তির জন্য অযথা হয়রানির শিকার হতে হবেনা জনগণকে।

____________________________

ডা. কামরুল হাসান সোহেল

 

আজীবন সদস্য, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ , কুমিল্লা জেলা।
কার্যকরী সদস্য স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ
আজীবন সদস্য,বিএমএ কুমিল্লা।
সেন্ট্রাল কাউন্সিলর, বিএমএ কুমিল্লা


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়