Dr.Liakat Ali

Published:
2022-10-01 20:41:25 BdST

এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন ঢাকা মেডিকেলের প্রাক্তন ডা.রায়ান সাদী


ডা. রায়ান সাদী

 

ডেস্ক

চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন ঢাকা মেডিকেলের প্রাক্তন ডা.রায়ান সাদী। এ বছর এ
জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) কে-৪০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন রায়ান।

 

শনিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফেসবুক পোস্টে ডা. দীপু মনি লিখেছেন, ‘আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৪০ ব্যাচের বন্ধু রায়ান সাদী এমডি, এমপিএইচ, চেয়ারম্যান ও সিইও Tevogen Bio, এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। আমরা গর্বিত। সাদীর প্রতি প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। সাদী ও তার পরিবারের প্রতি নিরন্তর শুভকামনা।’

 

 

এ বছর ২৫১ জন ব্যক্তি এবং ৯২টি সংস্থা নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য আবেদন করেছেন। আগামী ৩ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন নোবেল প্রাপকের নাম ঘোষণা করা হবে।

ডা. রায়ান সাদী বর্তমানে টেভোজেন বায়ো নামে একটি কোম্পানির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

 

তিনি ১৯৬৪ সালে ৬ ডিসেম্বর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম তৈয়ব হোসেন ও মায়ের নাম আসমা বেগম। ১ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে তিনি বড়। তার সহধর্মিনীর নাম ডা. জুডি আক্তার। এই বাংলাদেশি চিকিৎসক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়ায় ঢাকা মেডিকেলের প্রাক্তন ডা.রায়ান সাদীকে বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ডাক্তার প্রতিদিন সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিভাগের প্রফেসর ডা সুলতানা আলগিন।
তিনি বলেন, এই মনোনয়ন যেন তাঁকে চুড়ান্ত বিজয়ী করে, এই প্রত্যাশা করি। তাঁর অনন্য কর্ম তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।


কে এই
ড. রায়ান সাদী

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র
জানান,

 

সারাবিশ্বে কোটি কোটি ক্যান্সার রোগীসহ নানা ধরনের ভাইরাসে আক্রান্তদের নিরাময়ে বিশেষ একটি চিকিৎসা পদ্ধতির আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশি আমেরিকান ড. রায়ান সাদীর মালিকানাধীন ‘টেভোজেন বায়ো’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান।

নিউজার্সিতে অবস্থানরত ‘টেভোজেন বায়ো’র এই সাফল্যের সংবাদ জানার পরই সোমবার একই স্টেটের ‘এইচএমপি’ নামক বিখ্যাত আরেকটি সংস্থা এগিয়ে এসেছে আবিষ্কৃত টি-সেল এবং জিন থেরাপির উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে। এইচএমপি রীতিমত পার্টনার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হবার সাথে সাথে ড. রায়ানের মালিকানাধীন ‘টেভোজেন’র মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন মুল্লুকের চিকিৎসা-আবিষ্কার-বাণিজ্য নিয়ে কর্মরত গণমাধ্যমে ১৬ মার্চ এ সংবাদ ফলাও করে প্রচার ও প্রকাশ পেয়েছে।



এ প্রসঙ্গে পাবনার সন্তান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করার পর যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা-বিজ্ঞানে লিডারশিপ এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে হেলথ পলিসি এবং অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণকারি ড. রায়ান সাদী এ সংবাদদাতাকে বলেন, এটি মানবতার কল্যাণে বিস্ময়কর একটি অধ্যায় ছিল। এটাকে এক ধরণের ম্যাজিক হিসেবেও ভাবতে পারেন।

কারণ, ক্যান্সারের মত জটিল রোগ সারাতে আমাদের এই পদ্ধতিতে কোন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে না। এমনকি, অন্য চিকিৎসা-ব্যবস্থার মত আক্রান্ত রোগীর শরীরের সুস্থ সেলগুলোকেও মারতে হবে না।


এই পন্থায় শুধুমাত্র ভাইরাসে আক্রান্ত সেলগুলোই ধ্বংস হয়ে যাবে। অন্য সুস্থ সেলগুলোর কোন ক্ষতি হবে না।
ড. রায়ান উল্লেখ করেন, ক’বছর থেকেই চালাচ্ছিলাম এই গবেষণা। তারই মধ্যে করোনার প্রকোপ চরমে উঠায় একই গবেষণায় করোনার চিকিৎসাকেও যুক্ত করেছিলাম।


সেটিও বহাল রয়েছে। টেভোজেনের সিইও এবং চেয়ারম্যান ড. রায়ান অত্যন্ত আনন্দের সাথে আরো বলেন, জীবন বিজ্ঞান বিনিয়োগ সংস্থা ‘এইচএমপি পার্টনার’ এগিয়ে আসায় আমাদের উদ্দেশ্য দ্রুত সফল হবে বলে মনে করছি।
এইচএমপি পার্টনারের ম্যানেজিং ডিরেক্টরর হেমা পাটেল উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ ১৮ মাসের গবেষণায় টেভোজেনের বিজ্ঞানীগণের টিম ওয়ার্ক সফল হলো এবং আশা করছি রোগীরাও শীঘ্রই এর সুফল পাবেন।

উল্লেখ্য, টেভোজেনের পরবর্তি প্রজন্মের নির্ভূল টি সেল প্ল্যাটফর্মটি ম্যালিগন্যান্ট এবং ভাইরালে সংক্রমিত কোষগুলিকে নির্মূল করার লক্ষ্যে এই ডিজাইন করা হয়েছে-যা হান্ড্রেড পার্সেন্ট ফলপ্রসূ হবে।

 

 

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়