Desk

Published:
2022-06-23 08:58:56 BdST

নারী শক্তি ডাঃ তানজিনা নওরীণ: বিশুদ্ধ ও নিরাপদ খাদ্যপণ্যের সফল ব্যবসায়ী


ডাঃ তানজিনা নওরীণ, ফাউন্ডিং ডিরেক্টর, রিভারাইন ফার্মস লিমিটেড

 

সংবাদদাতা
____________________

 ডাঃ তানজিনা নওরীণ, ফাউন্ডিং ডিরেক্টর, রিভারাইন ফার্মস লিমিটেড(Riverine Farms Ltd. ) । চিকিৎসক এবং সফল উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী। এই সফল ব্যবসায়ী চিকিৎসকের বিভিন্ন পণ্যের সুনাম এখন অনেকের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। জানা যায়, চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়ে অর্জিত জ্ঞান তিনি মানুষের সেবায় কাজে লাগিয়েছেন। স্বাস্থ্য বিজ্ঞান সম্মত তার সকল পণ্য। এটিও তার লোকসেবী সফল ব্যবসায়ী হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি তার পণ্যের মান রক্ষায় সদা তৎপর। এক্ষেত্রে তিনি কোনরকম কমপ্রোমাইজ করেন না।

ডাঃ তানজিনা নওরীণ এক লেখায় তার ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার নানা চ্যালেঞ্জ ও তা সফল ভাবে মোকাবেলার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান ,
আমি ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের 08-09 ব্যাচের শিক্ষার্থী। রেগুলার ব্যাচেই পাশ করে গেছি। পড়াশোনায় ভালই ছিলাম। কিন্তু পারিবারিক দায়িত্বের কারণে আমার জন্য ক্লিনিকাল ক্যারীয়ার চালানোটা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। আমার মা বেঁচে নেই। তাই অনেকেই যে নিরাপদ আশ্রয়ে বাচ্চা রেখে চাকরী করেন সেই সুযোগ আমার নেই। আমি আর বাচ্চার বাবাই বাচ্চা লালণ পালণের সবটুকু করি।
কিন্তু এই বিশেষ জ্ঞান আর হাত পা নিয়ে একদম বসে তো থাকতে পারি না। তাই এম পি এইচ শুরু করলাম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানেই বুঝলাম যে শুধু চিকিৎসা সেবা দেয়াটাই মেডিকেল সাইন্স না বরং রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থতা বজায় রাখা মেডিকেল সাইন্সের বিশাল অংশ যা ice berg এর মত পানির নীচেই 90%, অদৃশ্য থাকে সাধারণ চোখে।


সব সময় আমি চেয়েছি নিজের আয়, নিজের পরিচয় থাকবে আমার। মা হওয়ার পাশাপাশি তাই কোন না কোন ব্যবসা সব সময় চলেছে আমার। "জীবণধারা মেডিকেল ইকুইপমেন্টস" এর নাম আপনারা অনেকেই শুনে থাকবেন করোনার সময় 100% অথেকন্টিক 3M মাস্ক, হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলা, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর এর জন্য। আলহামদুলিল্লাহ সেটা আমার নিজের একার প্রতিষ্ঠাণ। খুব ভাল লাগত ঐ সময়টায় ডাক্তার বন্ধুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরে আর সাধারণ মানুষকে মান সম্মত জেনুইন প্রডাক্ট দিতে পেরে।

 

এরপর আমি ও সমমনা আরো কিছু মানুষ মিলে শুরু করি "রিভারাইন ফার্মস লিমিটেড" । মূলত নিজেদের বাচ্চাদের জন্য সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ দুধ ও ফল নিশ্চিত করতে গিয়ে আমরা বুঝতে পারি যে এমন কোন নির্ভরযোগ্য সোর্স নেই বাংলাদেশে। শুধু দুধেই যেখানে এত ভেজাল সেখানে বাকী খাবারগুলোর অবস্থা চিন্তা করলেই ভয় লাগে বাচ্চাকে কী খাওয়াচ্ছি?
তাই নিজেরাই শুরু করি ফার্মিং। অনেক দিন ধরেই নিজেদের চাহিদা পূরণের পর গত বছর থেকে আমরা সবার জন্য আমাদের ফার্মের প্রোডাক্ট বিক্রি শুরু করি। আমাদের প্রথম প্রোডাক্ট ছিল কোরবানীর গরু। আস্তে আস্তে ভ্যাকুয়াম প্যাকড, এন্টিবায়োটিক ও এক্সটার্নাল হরমোণ ফ্রী গরুর মাংস, ঘী, আচার, কাবাব চালু হয়েছে। দুধ আপাতত শুধু কুমিল্লা শহরে বিক্রি হচ্ছে। কোরবানীর পর দেশী, অরগানিক মুরগী, ডিম, খাঁটি দুধ, পণির চালু হবে ঢাকায় ।


অনেক শখ ছিল আমার হাটে গিয়ে গরু কিনার। এখনও ব্যাপারটা অনেকটা ট্যাবু। এমন কী একজন মহিলা একা একটা গরু কোরবানী দিবে এটাও মানুষ একটু ঔদ্ধত্য হিসাবে দেখে- মহিলা মানুষ দিবে শুধু ছাগল অথবা এক ভাগ। কিন্তু অনেক মেয়েই আছেন যাদের ভাই নেই। গরু কিনতে যাবার লোক নেই। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক মুসলিম সম্প্রদায়ের মহিলা এখন অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী এবং গরু কোরবানী দেয়ার মত সামর্থ্যবান। তাদের মন থেকে ইচ্ছা গরু কোরবানী দেবার।
যখন আমি ফার্ম শুরু করি তখন খুব ইচ্ছা ছিল আমি পরিবেশ এমন রাখব যেন একজন মহিলা একা এসেও গরু কিনতে পারে, দামাদামি নাই, ঠকে যাবার ভয় নাই, মলেস্ট হবার ভয় নাই। আমি সফল এমন একটা পরিবেশ আমার রাখতে পেরেছি।
গত বছর কোরবানী করে সকাল দশটার মধ্যে মাংস বাসায় পৌছে দিয়েছি ক্লায়েন্টদের বাসায়।
এ বছরও আমরা এই সেবাগুলো দিয়ে যাব।

হয়ত খুব বড় বড় ডিগ্রী আমার নেই, কিন্তু আমি খুশী আমিও কাজ করতে পারছি মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করতে। আমার বাচ্চাদের সময় দিতে পারছি এটা আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।
আমি যেহেতু একজন ফিমেল ফিজিশিয়ান অনেক সময়ই পুরুষ ব্যবসায়ীদের ঈর্ষার শিকার হই। আশা করি প্রকৃত মানুষ যারা ; আপনারা আমার সাথে থাকবেন।
আসুন মেয়েরা যেমন মেয়েদের সবচেয়ে বড় সাপোর্ট হই। তেমনি যারা প্রকৃত ভাল মানুষ ; তারাও সকল ভাল ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়াই।

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়