SAHA ANTAR

Published:
2022-03-30 19:31:29 BdST

১০০ বছর ধরে লোক চিকিৎসা করে ১২৬ বছর বয়সে পদ্মশ্রী পেলেন সিলেটের জীবন্ত কিংবদন্তি শিবানন্দ


 


ডেস্ক
______________

১০০ বছর ধরে লোক চিকিৎসা করে ১২৬ বছর বয়সে জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে সিলেটের
স্বামী শিবানন্দ পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ ভারত সম্মান। ১২৬ বছর পেরিয়ে বয়স। যোগ ব‌্যায়ামে অবদান রাখায় ২১ মার্চ ২২ তাকে ভারতবর্ষের সম্মানসূচক পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

পুরস্কার গ্রহণের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দকে সামনে থেকে প্রণাম করেন স্বামী শিবানন্দ। এসময় উপস্থিত অতিথিরা করতালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তখন প্রধানমন্ত্রী মোদিও সঙ্গে সঙ্গে মাটি স্পর্শ করে শ্রদ্ধা গ্রহণ করেন। মঞ্চে পৌঁছানোর আগে ‘যোগ গুরু’ আবার হাঁটু গেড়ে বসেন। রাষ্ট্রপতি এগিয়ে গিয়ে শিবানন্দকে উঠতে সাহায্য করেন। এরপর তিনি পুরস্কার ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন যোগ গুরুর হাতে।

১৮৯৬ সালের ৮ আগস্ট অবিভক্ত ভারতবর্ষের সিলেট জেলায় (বর্তমানে বাংলাদেশে) জন্মগ্রহণ করেন স্বামী শিবানন্দ। ছয় বছর বয়সে মা-বাবাকে হারান। পরে আশ্রয় মেলে পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপে গুরুজীর আশ্রমে। গুরু ওমকারানন্দ গোস্বামী তাকে লালন-পালন করেন। সেখানেই যোগসহ সমস্ত ব্যবহারিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা পান স্বামী শিবানন্দ। শেখেন লোক চিকিৎসা সহ উচ্চতর চিকিৎসা বিজ্ঞান। এক জীবন্ত মহীরুহ। অবশেষে ভারত সম্মানে সম্মানিত হল মানবতা।

স্বামী শিবানন্দ মানব কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। যোগব্যায়াম, তেলমুক্ত সেদ্ধ খাবার এবং নিজস্ব উপায়ে মানবজাতির নিঃস্বার্থ সেবার সঙ্গে সুশৃঙ্খল-সুনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের সহজ উপায় তাকে রোগ ও দুশ্চিন্তামুক্ত দীর্ঘতম জীবন দিয়েছে। তিনি প্রচারের পরিবর্তে নিজেকে একটি অনুকরণীয় পাঠ হিসাবে প্রদর্শন করেছেন।

 

গত ৫০ বছর ধরে স্বামী শিবানন্দ পুরীতে অন্তত ৬০০ জন কুষ্ঠ আক্রান্ত ভিক্ষুককে ব্যক্তিগতভাবে সেবা করেছেন। ওই ব্যক্তিদের কাছে তিনি ‘জীবন্ত ঈশ্বর’ হিসেবে খ‌্যাত।

স্বামী শিবানন্দ ১২৬ বছর বয়সে করোনার টিকা গ্রহণের পর দেশবাসীকেও টিকা নিতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি ২০১৯ সালে বেঙ্গালুরুতে যোগরত্ন পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত হন।

 


কলকাতার সংবাদ প্রতিদিন এর
গৌতম ব্রহ্ম জানান মান্যতা পেল পদ্মশ্রী (Padma Shri) পাওয়া ১২৬ বছর! যাবতীয় বয়স বিতর্কে জল ঢেলে বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকার জানিয়ে দিল, স্বামী শিবানন্দের জন্ম ১৮৯৬-এর ৮ আগস্ট, স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার ঠিক তিন বছর পর। জন্মস্থান সিলেটের হবিগঞ্জ উপজেলার বাহুবল গ্রাম। সেই হিসেবে তিনি এখন ১২৬ পেরিয়ে ১২৭-এর পথে।

 


অর্থাৎ স্বামীজির পাসপোর্ট, আধার কার্ডে যে বয়সের উল্লেখ আছে তাতে একবর্ণও অসত্য নেই। তথ্যতালাশ করে সার্টিফিকেটও দিয়েছে হবিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুগ্ধতা কেড়ে নেওয়া স্বামী শিবানন্দর ভক্ত শুধু ভারতেই নয়, ছড়িয়ে রয়েছেন বাংলাদেশেও। তাঁরাই স্বামীজির জন্ম শংসাপত্রের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন।

 


তার ভিত্তিতেই হবিগঞ্জের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগের কর্তারা খোঁজখবর শুরু করেন। আবিষ্কার হয় বেশ কিছু প্রামাণ্য নথি। যার ভিত্তিতে স্বামী শিবানন্দর নামে ইস্যু করা হয় বার্থ সার্টিফিকেট।

শংসাপত্রে উল্লিখিত, স্বামীজির পিতা শ্রীনাথ দাস, মা ভগবতী দেবী। স্থায়ী ঠিকানা বেনারসের দুর্গাকুণ্ডের কবীর নগর। শংসাপত্রের নিচে হবিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহম্মদ আজমল হুসেন চৌধুরি ও সম্পাদক মহম্মদ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষর।

স্বামীজির অন্যতম সহচর ও ভক্ত সুব্রত ঘোষ জানিয়েছেন, “আমরা যাঁরা বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি তাঁদের মনে বাবার বয়স নিয়ে কোনও সংশয় নেই। কিন্তু অনেকের হয়তো আছে। আগামী ৮ আগস্ট স্বামীজি ১২৭ হবেন। এটা তো সত্যি একটা চলমান রূপকথা। বার্থ সার্টিফিকেট আশা করি সব সংশয় দূর করবে।” সুব্রতবাবু আরও জানালেন, স্বামীজি মে মাসের শেষে বাংলায় আসছেন। কলকাতা থেকে যাবেন নবদ্বীপে।


যোগের প্রচার ও প্রসারে দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠার জন্য ভারত সরকার স্বামীজিকে পদ্ম পুরস্কারে ভূষিত করেছে। দু’দিন আগেই ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে স্বামী শিবানন্দর প্রসঙ্গ টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই ১২৬ বছর বয়সি বাবা শিবানন্দকে দেখেছেন। সকলেই তাঁর শারীরিক ক্ষমতা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমানে গোটা দেশে ওঁর স্বাস্থ্যই অন্যতম চর্চার বিষয়। যোগাসনের মাধ্যমেই তিনি এত বয়সেও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পেরেছেন।”

সুস্বাস্থ‌্যই বটে। নেতাজির সঙ্গে ছেলেবেলা কাটানো এই যোগী এখনও অবলীলায় কঠিন যোগমুদ্রায় ধ‌্যনস্থ হতে পারেন। করতে পারেন চক্রাসন, শীর্ষাসনের মতো আসনও। তুখোড় ইংরেজি লিখতে, বলতে পারেন। গুরুর নির্দেশে ৪০টির বেশি দেশ পরিক্রমা করে ফিরে এসেছিলেন ভারতে। 

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়