SAHA ANTAR

Published:
2021-09-29 05:06:31 BdST

লাশের দুর্গন্ধে বাবার মৃত্যুর কথা জানল ছেলে': মনোরোগ নিয়ে সচেতনতা যত বাড়বে,এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ততই কম ঘটবে


 


অধ্যাপক ডা সুলতানা আলগিন
মনোরোগ বিভাগ
কনসালটেন্ট ওসিডি ক্লিনিক ও জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
_______________________

লাশের গন্ধে বাবার মৃত্যুর কথা জানল ছেলে: বুয়েটের অধ্যাপকের মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে কিছু মিডিয়া এবং নেটাগরিকরা তুমুল অন্ধবিশ্বাস ছড়িয়ে চলছেন। কোন মিডিয়া বলছে পল্লবীর অধ্যাপক সাহেবের বাড়িটা অদ্ভুত বাড়ি। কেউ বলছে, ভুতের বাড়ি, পরীর বাড়ি। ওয়াজ কারী ভাইরা জ্বীনের বাড়ি বলে সবাইকে সতর্ক করছে।
নেট নাগরিক সর্বাধিক অংশ দূষছেন উচ্চ শিক্ষাকে। ৮/৯ তলা বাড়ির মালিক হওয়াকে।সন্তানকে শিক্ষিত করাকে।
মিডিয়ার রিপোর্টে লেখকরা দারোয়ান / কেয়ারটেকার দের বক্তব্য জুড়ে তাদের মত প্রতিষ্ঠা করছে।

না রে ভাই। এখানে বুয়েটের ইন্জিনিয়ারিং পড়া / প্রফেসর হওয়ার কোন দোষ নেই। নারে ভাই, এখানে বুয়েট প্রফেসর রোকন স্যারের সন্তান রূপমের মেডিকেল কলেজে পড়ার কোন দোষ নেই।

অধ্যাপক প্রকৌশলী রোকন স্যার সারা জীবনের সঞ্চয়ে এক খন্ড জমি কেনেন পল্লবীতে। ডেভলপারকে দিয়ে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট পান। বোঝাই যাচ্ছে, সৎ জীবন যাপন করতেন। তার একটি সন্তান মারা গেছে। একটি মেডিকেলে ভর্তি হয়ে ৪০ বছর বয়সেও পাশ করা হয় নি। বিয়ে টেকে নি রুপমের।
রোকন স্যারের এই জীবন সাধারণ মধ্যবিত্ত সৎ শিক্ষক ও সৎ শিক্ষার জীবন।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মানসিক রোগ বিজ্ঞান চিকিৎসার শিক্ষার শিক্ষার্থী হিসেবে
আক্ষেপ হচ্ছে। খারাপ লাগছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নগন্য অধ্যাপক হিসেবে খুব আক্ষেপ হচ্ছে, প্রফেসর রোকন স্যার কেন মানসিক রোগ চিকিৎসা নেন নি পরিবার সদস্যদের জন্য ।

এধরণের পরিস্থিতিতে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার ছিল। নিয়মিত ফলোআপ কনসালটেশন নেওয়া দরকার ছিল।
মানসিক রোগ চিকিৎসাকেকে অবহেলা করলে এমন মর্মান্তিক পরিনতি আরও অনেক পরিবারে ঘটতে পারে। আশঙ্কার কথা বলছি। সতর্ক হতে বলছি।
মানসিক রোগকে পাগলের চিকিৎসা বলে ঠাট্টা মশকরা অবহেলা করবেন না। এসব করায় মানুষ সেই ঠাট্টা মশকরা অবহেলা র ভয়ে নিজেরা ঘরবন্দী জীবন যাপন শুরু করে একসময় মর্মান্তিক ট্রাজেডির জন্ম দেয়।
মিডিয়া কর্মীরা তখন জ্বীন-ভূত এর কাহিনি বানিয়ে অশিক্ষার সলতেয় তেল ঢালে। সাধারণ মানুষ উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষাকে দায়ী করে ভয়াবহ কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসে ডুবে যায়। তখন আরেকটি মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।


রিপোর্ট বলছে,
রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষক রোকনুদ্দিন আহমেদের (৮০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিজের বাড়িতে মারা গেলেও মরদেহ পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পরে ছেলে জানতে পারেন তারা বাবা মারা গেছেন।

ছেলেটি যে মানসিক রোগী হতে পারেন, তা মিডিয়া খতিয়ে দেখার দরকার মনে করে নি।

 

বাড়িটির নিরাপত্তা প্রহরী কবির হোসেন জানান, বাড়িটিতে প্রতি তলায় একটি করে মোট আটটি ফ্ল্যাট আছে। এর মধ্যে পাঁচটি ফ্ল্যাটের মালিক রোকনুদ্দিন আহমেদ। তিনি স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন ও ছেলে রূপমকে নিয়ে ওই বাড়িটিতে বসবাস করতেন। তিনি সপ্তাহে এক থেকে দুদিন ইন্টারকমে আমাকে তার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটের দরজায় ডাকতেন। বেশিরভাগ সময় তিনি পাউরুটি, দই, মিষ্টি, ফ্রাইড চিকেন, চানাচুর ও বিস্কুটের মতো খাবার কিনে আনতে বলতেন। এক থেকে দুই সপ্তাহ পর পর তিনি বাড়ি থেকে বের হতেন।


কবির হোসেন বলেন, 'তবে, রূপম বাড়ি থেকে বের হতেন খুবই কম। দেড় বছরে তাকে চার-পাঁচবারের বেশি দেখা পাইনি।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রূপম জানান, বাবার নির্দেশ অনুযায়ী তিনি ঘর থেকে বের হতেন না। গত কয়েক দিন তিনি চানাচুর আর বিস্কুট খেয়ে ছিলেন।

 

পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার শাহ কামাল বলেন, 'চল্লিশোর্ধ্ব রূপম একসময় মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। তবে, এমবিবিএস পাস করতে পারেননি। এরমধ্যে বিয়েও করেছিলেন কিন্তু সেই সংসার বেশিদিন টেকেনি।'

ওই ভবনের আরেক ফ্ল্যাটের গাড়িচালক নূরুল মিয়া বলেন, 'গত সাত বছর ধরে আমি এই ভবনের একটি পরিবারের গাড়ি চালাই। আমি কোনোদিন রোকনুদ্দিন আহমেদের স্ত্রীকে বাসা থেকে বের হতে দেখিনি। আশপাশের লোকজনের কাছে শুনেছি তিনি বাসা থেকে বের হন না।'

এসব ঘটনা জেনে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঠিকই আন্দাজ করেন, রুপমকে তার মানসিক রোগ গ্রস্থ বলে মনে হয়েছে।
ওসি সাহেবকে ধন্যবাদ দিই, মানসিক রোগ নিয়ে সচেতনতার জন্য।
এই সচেতনতা যত বাড়বে সকলের মধ্যে, এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ততই কম ঘটবে।

কোথায় পাবেন মানসিক রোগ এর চিকিৎসা ______

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের outdoor এবং ওসিডি ক্লিনিক, জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক এ ৩০টাকার টিকিট কেটে সেবা নিতে পারবেন নিয়মিত।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং সব মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগের outdoor ও ক্লিনিকে ৩০/৪০ টাকার টিকিট কেটে সেবা নিতে পারবেন।

২.
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে রোগী চিকিৎসা নিতে পারবেন।

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়