ডেস্ক

Published:
2021-07-10 11:49:02 BdST

ডাক্তারদের গনবদলির আদেশ বাতিল ও আদেশ জারিতে জড়িত রাষ্ট্র, জনগণ- সরকারের স্বার্থবিরোধী কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি করেছে বিএমএ


 

সংবাদ সংস্থা
________________


বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং মহাসচিব
ডা. মোঃ ইহতেশামুল হক
চৌধুরী স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে কঠোর হুশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন,

সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের গণহারে বদলী
আদেশের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসকদের সুকৌশলে জনগণের
মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চায়।
বিএমএ অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত আদেশ বাতিল করার জোর দাবি জানাচ্ছে
এবং ভ্রান্ত আদেশ জারিতে জড়িত রাষ্ট্র, জনগণ ও সরকারের স্বার্থ বিরোধী
কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি করছে । বিএমএ’র সাথে পরামর্শ করে দ্রুততম সময়ের
মধ্যে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ কিংবা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সমস্যা
সমাধানের চেষ্টা করার অনুরোধ করছি ।
অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত আদেশ বাতিল করা না হলে বিএমএ এই আদেশ
বাতিলের প্রয়োজনে যে কোন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

নিচে বিস্তারিত পত্র টি প্রকাশ করা হল।


জনাব জাহিদ মালেক এমপি
মাননীয় মন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
বিষয়ঃ সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের গণহারে বদলী প্রসঙ্গে ।
জনাব,
বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রণালয়ের ভিন্ন ভিন্ন আদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন
মেডিকেল কলেজ থেকে প্রায় এক হাজার তিনশত চিকিৎসকের গণবদলী আমাদেরকে
বিস্মিত করেছে। চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল
এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের বিগত ০৭-০৭-২০২১ খ্রিঃ তারিখে
অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় নিম্ন লিখিত বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়েছে।
সকলেই অবগত আছে যে, করোনা মহামারী প্রকোপের শুরুতে এদেশের চিকিৎসক ও
অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের পি.পি.ই, মাস্ক ইত্যাদি বিষয়ে নানা কেলেঙ্কারি ও ¯স্বাস্থ্য
ব্যবস্থাপনায় প্রচুর ভুল ত্রæটির কারণে সারা দেশের ¯স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে
পড়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনায়
সেই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে আমরা সক্ষম হয়েছিলাম। বিগত প্রায় পনের মাসেরও
অধিক সময় থেকে বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে সকল চিকিৎসক ও
স্বাস্থ্যকর্মীগণ নিরলসভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করার কারণে মহামারী অনেকটা
নিয়ন্ত্রণে ছিল। ইত্যবসরে আমরা হারিয়েছি আমাদের একশত ষাট জনেরও অধিক
চিকিৎসক সহ অনেক সহযোগী ¯স্বাস্থ্যকর্মীকে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে
পরিলক্ষিত হয়েছে যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরেও আক্রান্ত
কিংবা মৃত্যুবরণকারী চিকিৎসকদের প্রণোদনা/সম্মানী যথাযথভাবে প্রদান করা
হয়নি। কয়েকজন সরকারী চিকিৎসককে প্রণোদনা প্রদান করা হলেও বেসরকারী
চিকিৎসকদের কিছুই দেওয়া হয়নি। অথচ করোনা রোগের চিকিৎসা দিতে গিয়ে
বেসরকারী চিকিৎসকদের অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনকি চিকিৎসক ও

 

সহযোগী স্বাস্থ্য কর্মীদের সংগনিরোধ ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া হয়।
যার ফলে চিকিৎসক কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যদের রোগ আক্রান্তের হার
অনেকাংশে বেড়ে যায়। কোন কোন চিকিৎসক দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত
হয়েছেন। দীর্ঘদিনের বিরতিহীন সেবা ও তাদের কারণে পরিবারের সদস্যদের আক্রান্ত
হওয়া ইত্যাদি নিয়ে দেশের সকল চিকিৎসক চুড়ান্ত মানসিক যন্ত্রণায় সময় পার
করছেন। অধিকন্তু ইদানিং ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব মরার ওপর খাড়ার ঘা রূপে
আবির্ভুত হয়েছে । এতকিছুর পর ও চিকিৎসকরা ক্লান্তিহীন ভাবে মহামারী সহ
সকল চিকিৎসায় নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন।
অকস্মাৎ বিগত দুইদিনে আপনার মন্ত্রণালয় থেকে চিকিৎসকদের গণবদলির আদেশ
সকলকে অবাক করে দিয়েছে। এই আদেশের ফলে মন্ত্রণালয়ের অস্থিরতা, বেহালদশা ও
অযোগ্যতা প্রকট আকারে পরিস্ফুটিত হয়েছে। যে মন্ত্রণালয় একটি সুনির্দিষ্ট ও
কল্যাণকামী আদেশ করতে পারেনা সেই মন্ত্রণালয় সারা দেশে কি ভাবে মহামারী
নিয়ন্ত্রণ করবে। আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যখনই মহামারী চিকিৎসায়
মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার বিষয়ে সর্বমহলে আলোচিত হয় তখনই ব্যবস্থাপনার বিষয় গুলো
আড়াল করার জন্য সুকৌশলে মন্ত্রণালয় চিকিৎসকদের ঘাড়ে সকল দায়দায়িত্ব
চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে ।

এই আদেশে মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকদেরকেও বদলী করে হাস্যকর পরিস্থিতির
সৃষ্টি করা হয়েছে। যে সকল চিকিৎসক দীর্ঘদিন রোগী দেখেন না বিশেষ করে
বেসিক সাবজেষ্ট ও রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক, তাদেরকেও করোনা
রোগী দেখার জন্য বদলী করা হয়েছে। এমনকি দন্ত চিকিৎসক, নিউরো সার্জনসহ
অন্যান্য বিশেষায়িত বিভাগের বিশেষজ্ঞগণকে বদলী করা হয়েছে যারা করোনা রোগী
দেখায় কিভাবে ভূমিকা রাখবে তা আমাদের বোধগম্য নয়। মাইক্রোবায়োলজী
বিভাগ কিংবা করোনা ল্যাবে কর্মরত চিকিৎসকগণকে বদলী করে দেওয়ায়
আরটিপিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম মারাতœকভাবে ব্যহত হবে।
আমাদের জানামতে মহামারী নিয়ন্ত্রণ একটি সমন্বিত কার্যক্রম, যেখানে
আবশ্যিক ভাবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অপরিহার্য। সেখানে শুধু আমলাতন্ত্র
এতটা বেপরোয়া হয়ে পড়েছে যে তারা যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে । রাষ্ট্রীয়
কাঠামোর অভ্যন্তরে যে উপনিবেশিক আমলাতন্ত্র বিরাজ করছে তারই প্রতিফলন ভিন্ন
ক্যাডার দিয়ে দিকভ্রান্তের মতো ¯স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা। যখন
সারাদেশে করোনা প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যখন হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা
অনবরত বেড়েই চলেছে এবং যখন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীগণ দিনরাত পরিশ্রম করে

 

কাজ করে যাচ্ছেন তখন এ রকম একটি হাস্যকর ও অসাড় আদেশের মাধ্যমে
চিকিৎসকদের মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি করা ও সরকারকে বিভ্রান্ত করার জন্য স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা একটি অসাধু চক্র নিরন্তর অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে ।
এই আদেশের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসকদের সুকৌশলে জনগণের
মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চায়।
বিএমএ অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত আদেশ বাতিল করার জোর দাবি জানাচ্ছে
এবং ভ্রান্ত আদেশ জারিতে জড়িত রাষ্ট্র, জনগণ ও সরকারের স্বার্থ বিরোধী
কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি করছে । বিএমএ’র সাথে পরামর্শ করে দ্রুততম সময়ের
মধ্যে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ কিংবা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সমস্যা
সমাধানের চেষ্টা করার অনুরোধ করছি ।
অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত আদেশ বাতিল করা না হলে বিএমএ এই আদেশ
বাতিলের প্রয়োজনে যে কোন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
বিষয়টি আপনার সদয় অবগতি ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ
করা হলো।

ধন্যবাদসহ-

ডা. মোস্তফা জালাল
মহিউদ্দিন
সভাপতি
বাংলাদেশ মেডিক্যাল
এসোসিয়েশন

ডা. মোঃ ইহতেশামুল হক

চৌধুরী
মহাসচিব
বাংলাদেশ মেডিক্যাল
এসোসিয়েশন

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়