SAHA ANTAR

Published:
2021-04-26 09:07:56 BdST

"৩ সপ্তাহে সঙ্ক্রমণ পাঁচ শতাংশের নীচে নামিয়ে আনা সম্ভব"


 

ডেস্ক 

ভারত বর্ষের শীর্ষ চিকিৎসালয় অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেস : এইমস এবং বাংলাদেশের শীর্ষ চিকিৎসালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: বিএসএমএমইউ র দুই প্রাজ্ঞ প্রফেসর ডা নভনীত উইগ ও ডা সুলতানা আলগিন অতি মারী কালে মানুষের জীবনরক্ষায় আবশ্যিক করণীয় বলছেন। কোভিডের যাবতীয় নিয়মনীতি মেনে চললে, পরিস্থিতি সামলাতে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব দেশবাসী নিলে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে গোটা দেশের সংক্রমণের হার মাত্র পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব। এমনটাই জানালেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস)-র মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক নভনীত উইগ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ সেবার প্রফেসর ডা সুলতানা আলগিনও জোর দিয়েছেন সতর্কতার ওপর।
তিনি বলেন, সতর্কতা, সতর্কতা সতর্কতা।
তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যাচার্য অধ্যাপক ডা শুভাগত চৌধুরী র উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য বিধি পালন করে কোভিড মোকাবেলায় সাফল্য আনা সম্ভব। মাস্ক পরা অতি অবশ্যই পালন করতে হবে। টিকা কর্মসূচি যে কোন মূল্যে সফল করতে হবে। গুজব অপপ্রচার রটনাকারীদের প্রতিহত করতে হবে।

তিনি মানসিক রোগীর জন্য টিকা অগ্রাধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।
বিস্তারিত নীচে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রফেসর ডা নভনীত উইগ

প্রধান, মেডিসিন বিভাগ, এইমস

রবিবার ভারতখ্যাত চিকিৎসক নভনীত উইগ বলেন, 'ভারতের সংক্রমণের হার পাঁচ শতাংশের নীচে নামিয়ে আনা সম্ভব। আগামী তিন সপ্তাহ যদি প্রয়োজনীয় সমস্ত কোভিড নিয়মনীতি মেনে চলা হয় তাহলেই সেটা সম্ভব।' তিনি জোড়েন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া উচিত জেলাভিত্তিক সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করার দিকে। সেটাকে এক থেকে পাঁচ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নিতে হবে। একসময় মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় ২৬ শতাংশ হারে শংক্রমণ ছাড়াচ্ছিল। কড়া কার্ফুর জেরে যা নেমে এসেছে ১৪ শতাংশে। এই মুহূর্তে দিল্লিতে সংক্রমণের হারটা ৩০ শতাংশ।'

ভারত বর্ষের ও বাংলা দেশের
চিকিৎসকরা সকলেই তাদের যৌথ মঞ্চ থেকে এই পরিস্থিতিতে থেকে পরিত্রাণ পেতে স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার বিষয়টিতে বাড়তি জোর দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, করোনাকে হারাতে হলে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যের দিকটায় সবথেকে বেশি নজর রাখতে হবে। প্রচুর স্বাস্থ্যকর্মী করোনার সংক্রমণে পড়ছেন। তাদের যদি না রক্ষা করা যায় তাহলে রোগীদের কে বাঁচাবে। আর তেমনটা হলেই তবে দেশের অর্থনীতি বাঁচবে।


এমনিতে এই মুহূর্তে দেশজোড়া ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে করোনা সংক্রমণ। সুনামির মতো তা গোটা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এই মুহূর্তে দেশে দৈনিক সংক্রমণ সাড়ে তিন লক্ষ ছুঁইছুঁই। গত পাঁচদিন টানা ২ হাজারের বেশি ভারতীয়কে হারিয়েছি আমরা। বলেন ডা নভনীত।


মানসিক রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে কোভিড-১৯ টিকাদান জরুরী : ৫ পয়েন্ট


অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন
মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ
কনসালটেন্ট , ওসিডি ক্লিনিক ও জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
_____________________________

 

মানসিকরোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনা জরুরী কেন ? শুধু জরুরি নয়; অতি জরুরি।
পয়েন্ট ধরে কারণগুলো বলছি।
১.
ওয়ার্ল্ড মেন্টাল হেল্থ সার্ভে অনুযায়ী বিশ্বে সিরিয়াস মানসিক রোগীর প্রিভেলেন্স ০.৪%-৭.৭ %। আর বাংলাদেশে মানসিকরোগীর প্রিভেলেন্স ১৬.৮%। সিজোফ্রেনিয়া,বাইপোলার,ডিপ্রেশন রোগকে আমরা মানসিকরোগ হিসেবে জানি। বর্তমানে যে কোন মানসিক রোগ বা মানসিক সমস্যায় কারও যদি আর্থসামাজিক পেশাগত কাজে ইমপেয়ারমেন্ট/ প্রতিবন্ধকতার কারণ হয় ;তাকেই সিরিয়াস মানসিকরোগী হিসেবে ধরা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
২.
বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে মানসিকরোগীদের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশী। এর কারণে হাসপাতালে ভর্তি, ভোগান্তি এবং মৃত্যুর আশঙ্কাও বেশী। রিপোর্টে জানা যায় যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ৩০% এরও বেশী মানুষ উদ্বিগ্নতা রোগ, বিষন্নতাবোধ, আত্মহত্যার প্রবণতা ,পিটিএসডি,কগনিটিভ ইমপেয়ারমেন্ট, ভুলে যাওয়া ইত্যাদি নানারকম মানসিক রোগে ভুগছেন।
৩.
মানসিক রোগীদের ইমিউন সিস্টেম শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ণ থাকে। ফলে যে কোন রোগে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কাও বেশী থাকে। কোভিড-১৯ এত ছোঁয়াচে যে এদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়াটা জরুরী। কোভিড-১৯ ভাইরাস মানুষের হার্ট, শ্বাসতন্ত্র, কিডনী, ব্লাডার আক্রান্ত করে বেশী। সাধারণ মানুষের তুলনায় মানসিক রোগীদের মৃত্যুর হার ২-৩ গুণ বেশী। ধূমপানের হারও সাধারণ মানুষের তুলনায় ২-৩ গুণ বেশী। তাছাড়া এদের বিভিন্ন শারীরিক রোগ যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ,শ্বাসতন্ত্রের রোগ, স্থুলতাও বেশী দেখা যায়।
৪.

প্রতিটি মানসিক রোগী মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। তাছাড়া সমাজে ক্রমশ একঘরে হয়ে যাওয়াটাও তাদের বড় একটা চাপের সম্মুখীন করে। এদের পুষ্টিহীনতাও বেশ প্রকট। এসব মিলিয়ে মানসিক রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। বর্তমানে কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা এদের মধ্যে অনেক বেশী । এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়াটা জরুরী।
৫.
রিপোর্টে জানা যায় যে এখন কোভিড-১৯ এর প্রথম ডোজ টীকা দিলেই সংক্রমণের হার ৬৫%কমে যায় । অন্যান্যদের মতই মানসিক রোগীরা নিজেদের অজান্তেই এই রোগ হয়তো আরও বেশী ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাই যত দ্রুত সম্ভব মানসিক রোগদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টীকাদান কর্মসূচীর আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়