SAHA ANTAR

Published:
2020-11-24 18:47:49 BdST

জীবনরক্ষাকারী এই পতাকাটি চিনে রাখুন


 

জোবায়ের হোসেনের লেখা জীবনরক্ষা প্রতিবেদন
_______________________________

যারা ট্রাভেলার কিন্তু এই লাল হলুদ পতাকাটি চেনেন না তারা চিনে রাখুন। শুধু এই পতাকাটি চিনতে পারলেই আপনার, আপনার পরিবার ও পরিজনের জীবনটা বেঁচে যেতে পারে অনেকাংশে। এই বিষয়ে কিছু চমৎকার এবং গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন শেয়ার করতে চাই আপনাদের সাথে।
যে পতাকাটি ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন এটি হচ্ছে রেস্কিউ তথা উদ্ধারকর্মী দলের পতাকা। অনেক ধরনের রেস্কিউ টিম আছে সারা বিশ্বে। এই পতাকাটি স্পেসিফিক যারা সমুদ্র বা পানি থেকে মানুষদের উদ্ধার করে তাদের জন্য নির্ধারিত। সারা বিশ্বে ঠিক এই লাল হলুদ পতাকা দিয়ে এই রেস্কিউ/উদ্ধারকর্মীদের টিমকেই বোঝানো হয়।
আমাদের কক্সবাজারে এইরকম একটা ডেডিকেটেড রেস্কিউ টিম কাজ করছে সেই ২০১৪ সালের ৬ই মে থেকে একটি এন জি ও এর তত্ত্বাবধানে। যার নাম হল CIPRB এবং তাদের প্রজেক্ট এর নাম হল "SeaSafe Project"। যদিও এর মধ্যে অনেকেই এর আগে ২০১০ থেকে ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করে গিয়েছে সমুদ্রকেন্দ্রিক বিভিন্ন অকেসনে। পরে তাদের অনেকেই নিয়োগপ্রাপ্ত হয় CIPRB তে। তাদের মূল কাজ কিন্তু শুধু মানুষকে বাচানোই না। তাদের মূল কাজ হল মানুষকে যাতে উদ্ধার করার প্রয়োজনই না হয় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা। তারপরও যখন মানুষ সাগরে ডুবে যায় তখন তারা তাকে উদ্ধারের পরিপূর্ণ চেষ্টা করে।
তাদের কার্যক্রম এখন ৩ টি পয়েন্টে চলমান। লাবনি বিচ, সুগন্ধা বিচ ও কলাতলি বিচে। এই বীচগুলোতে নামার শুরুতেই আপনি দেখবেন এই লাল হলুদ পতাকা, যার অর্থ হল এখানে রেস্কিউ টিম একটিভ রয়েছে। এখান থেকে আপনি পানির দিকে ডানে এবং বায়ে দূরে তাকালে ৩০০ মিটার ব্যবধানে দেখবেন আরো ২ টি লাল হলুদ পতাকা। এটা হচ্ছে সেই সীমানা যা রেস্কিউ টিম প্রতিদিন সকালে এসে সকল ধরনের রিস্ক ফ্যাক্টর যেমন, অফসোরিং, অনসোরিং, গুপ্তখাল, চোরাবালি, হিংস্র প্রাণী, ইরেগুলার স্রোত গুলো এনালাইসিস করে নির্ধারণ করে থাকে। এর মধ্যে দিয়ে নামলে আপনি পুরোপুরি রেস্কিউ টিমের নজরদারিতে থাকবেন। অর্থাৎ যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পাশে পাবেন তাদের। এই পতাকার বাইরে কিছু লাল পতাকাও দেখতে পাবেন যা ডেঞ্জার জোন হিসেবে বিবেচিত হয়। এখান দিয়ে নামবেন না। তারা সকাল ৭ টা থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সেবা দিয়ে থাকে। এরা যেন-তেন উদ্ধারকর্মী নয়। এরা তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছে। যেমন, ট্রেনিং, দুর্দান্ত সাতার, আই কন্টাক্ট, সাইন ল্যাংগুয়েজ আর তার সাথে তো ইন্টারন্যাশনাল মানের ইকুইপমেন্ট তো আছেই। ৫০ মিটার এর ভিতরে এবং মানুষ ১ জন হলে তারা রেস্কিউ টিউব ব্যবহার করে। আর ৫০ মিটারের বাহিরে এবং ভিতরে যদি মানুষের সংখ্যা বেশি হয় তখন রেস্কিউ বোট ব্যবহার করে।
তারা এখন পর্যন্ত ৩০০+ মানুষের জীবন বাচাতে সহায়তা করেছে যারা এই উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা ছাড়া মারা যেতে পারত। যদিও ফায়সালা উপরওয়ালার। আর গড়পড়তা হিসেবে সাহায্য করেছে ৫০০০+ (এর মধ্যে একবার আমিও ছিলাম, খুবই ভীতিকর অভিজ্ঞতা) মানুষকে যাদের বিপদ হলেও হতে পারত।
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে তারা থাকার পরেও কি দুর্ঘটনা ঘটছে না???
উত্তর হল, অবশ্যই ঘটছে!
এর কারণ হল অনেক মানুষ নির্দিষ্ট সীমানা দিয়ে সমুদ্রে নামে না। ফলে এই রেস্কিউ টিমের আওতাধীন থাকে না। আর এই ধরণের ঘটনা ঘটতে সময় নেয় মাত্র ১ মিনিট। ততক্ষণে আর বাচানো সম্ভব হতে উঠে না।
আমি আপনাদেরকে উল্লেখযোগ্য কিছু জায়গার নাম বলছি যেখানে বিপদের সম্ভাবনা বেশি যেমন, সীগাল বিচ, শৈবাল বিচ, কবিতা চত্ত্বর, ডায়াবেটিস পয়েন্ট এবং রেস্কিউ টিম এর অন্তর্ভুক্ত নয় এমন জায়গা। এইসব জায়গা দিয়ে সমুদ্রে নামা রিস্কি। আমি ২ টি উল্লেখযোগ্য কারণ শেয়ার করছি যা আমাদের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণ হতে পারে,
১) টিউবে করে ভেসে বেড়ানো। কারণ আপনি গভীরতা বুঝবেন না আর যেহেতু টিউব ভাসমান তাই অফসোরিং হলে আপনি সাগরে দিকে চলে যেতে থাকেবেন। টিউব হাত থেকে ছুটলো তো আপনি জাস্ট হারায় যাবেন সমুদ্রে।
২) আমাদের ভ্রান্ত ধারনা, যে জোয়ারের সময় রিস্ক কম আর ভাটার সময় রিস্ক বেশি। মোটেও এটা সত্য নয়। ২ সময়েই রিস্ক বেশি। কিন্তু তুলনামূলকভাবে জোয়ারের সময় রিস্ক বেশি থাকে কারণ আপনি জানেন না যে পানির নিচের কি অবস্থা অর্থাৎ চোরাবালি বা গুপ্তখাল যা এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর অন্যতম কারণ। পানি থেকে উঠার সময়ও পাবেন না। যা ঘটার পানির নিচেই ঘটে যাবে। ভেসে উঠে শুধু লাশ।
এই ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করতে রেস্কিউ টিম কাজ করছে মানুষদের সচেতন করার মাধ্যমে। তবে আমাদের আরও অংশগ্রহণ দরকার।
তাহলে কি সমুদ্রে নামব না???
উত্তর হল, অবশ্যই নামবেন! তবে,
সর্বপ্রথম আপনি যখন সমুদ্রে নামার প্লান করবেন তখন আগে দেখবেন রেস্কিউ টিম এক্টিভেট আছে কোন জায়গায়। তাদের সাথে কথা বলবেন প্রয়োজনে। তারপরে দেখবেন তাদের সীমানা কতটুকু। এর মধ্যে দিয়ে আপনি সাগরে নামবেন। আশা করা যায় আপনি আগের থেকে অধিক নিরাপদ থাকবেন।
আপনার করনীয়ঃ
১) এই তথ্য আপনি পুরোপুরিভাবে ক্লিয়ার হয়ে নিবেন।
২) আপনার পরিবার পরিজনদের বলে দিবেন।
৩) আপনার কাছে যারা সাজেশন নিয়ে থাকে তাদের জানিয়ে দিবেন।
৪) (অপশনাল) এই পোষ্টটা পারলে শেয়ার করে প্রতিটি ট্রাভেলারের কানে পৌছে দিয়েন।
পরিশেষে যারা এই ধরনের উদ্ধার কাজের সাথে জড়িত তাদের প্রত্যেকের জন্য রইল শুভ কামনা
ভাল থাকুক ওরা, ভাল থাকুন আপনি, আপনার পরিবার ও পরিজনেরা। Let's keep our environment clean
#beautifulbangladesh
#coxsbazar

মূল লেখক জোবায়ের হোসেন

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়