Dr. Aminul Islam

Published:
2020-10-17 10:04:19 BdST

ভিডিও কনসালটেশন এবং বাংলাদেশে টেলিমেডিসিনের ভবিষ্যৎ


 

ডা. অসিত মজুমদার

__________________________

টেলিমেডিসিন কি?
যখন কোন রোগী ফোন কিংবা এপপ্সের মাধ্যমে সরাসরি চিকিৎসকের সাথে কথা বলে তার আপ্পসেই প্রেসক্রিপশন পাবে, টেস্ট রেজাল্ট পাবে, টেস্ট রেজাল্ট চিকিৎসক ঘরে বসে লিখতে পারবেন এবং প্রয়োজনে রোগীর সেবা দিতে পারবেন , তখন সেটাকে বলা হচ্ছে টেলিমেডিসিন। এক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে যে কোনো ভৌগোলিক দূরত্বে অবস্থানরত রোগীকে চিকিৎসক, রোগ নির্ণয় কেন্দ্র ও বিশেষায়িত নেটওয়ার্ক ইত্যাদির সমন্বয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হযে থাকে। আর তাকেই বলা হচ্ছে টেলিমেডিসিন বা দূর চিকিৎসা।
সেবার ধরণঃ
টেলিমেডিসিন সেবা বিভিন্ন রকমের হতে পারে। কোনো সাধারণ রোগ বা প্রতিষেধক সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ফোন করে জেনে নেওয়া যায়। আবার এমনও রোগ বা লক্ষণ আছে, যা না দেখে প্রতিষেধক বা করণীয় ঠিক করা যাবে না—এমনটি হলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বা এপস এর চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হতে পারে। এ সেবায় উঁচু তলার মানুষ থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোও বেশি উপকৃত হতে পারে।
বাংলাদেশে টেলিমেডিসিনঃ
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের এই দুঃসময়ে চিকিৎসক সমাজ টেলিচিকিৎসার মাধ্যমে মানব সমাজের যে নিঃশর্ত উপকার করছে তা নিশ্চয় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকার মত। আমার মনে হয় সবাই টেলিহেলথ বা টেলিমেডিসিন বিষয়টিকে রোগী, চিকিৎসক আর এপস কর্তৃপক্ষসহ সবাই ইতিবাচকভাবে হাইলাইট করতে পারেন এবং টেলিহেলথ বিষয়টি বিশ্বের সর্বত্র সর্বজনগ্রহণযোগ্য একটা চিকিৎসা সার্ভিস। এ বিষয়টি সবাই বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশে টেলিমেডিসিন সেবার যথেষ্ট উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও টেলিমেডিসিন খুব জনপ্রিয় না হলেও অনেক আগে থেকেই এই টেলিমেডিসিন সেবা যথেষ্ট প্রচলিত। টেলিমেডিসিন খাতের এই শিল্পটির উন্নয়নে সবাই ইতিবাচকভাবে এগিয়ে আসবেন বলে আমি যথেষ্ট আশাবাদী।
সুবিধাঃ
মফস্বল শহর বা পল্লী অঞ্চলের একজন দরিদ্র অসহায় রোগী যার ঢাকা শহরে বা অন্য বড় শহরে যাবার সুযোগ কম বা সেখানে গিয়ে পয়সা খরচ করে চিকিৎসক দেখানোর সামর্থ নেই অথবা কোন জটিল রোগী যাকে অনেক দূর থেকে যানজটে অস্থির ঢাকা শহরে পাঠাতে গেলে চিকিৎসা শুরু করতে অনেক দেরি হয়ে যাবে- এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসার স্বার্থে স্ক্রিন এবং ক্যামেরার সামনে বসে দূর-দূরান্তের রোগীরা দূরে থেকেই চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে পারছেন। চিকিৎসাসেবার এ পদ্ধতিকেই বলা হয় টেলিমেডিসিন সেবা। সুখের খবর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখন ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারছেন এই টেলিমেডিসিনের বদৌলতে। টেলিমেডিসিনকে বাংলায় বলা হয় দূর চিকিৎসা। অর্থ্যাৎ প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার একজন রোগী ইউনিয়নে থাকা টেলিমেডিসিন উদ্যোক্তার কাছে গিয়ে বা নিজে নিজে কম্পিউটার বা মোবাইলের মাধ্যমে অন্য শহর বা বিশ্বের যে কোনো জায়গায় থাকা এমবিবিএস বা তারও বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকেখুব সহজেই চিকিৎসা-পরামর্শ নিতে পারেন।
আন্তর্জাতিক স্বীকতিঃ
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি-২০১৭’ এ ‘ই-স্বাস্থ্য’ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেছে এই টেলিমেডিসিন সেবা।
এখনই ব্যবহার শিখুনঃ
আজ চেক করে নিজের একাউন্ট খুলুন। আপনি প্রয়োজনে ঠিকই সুফল পাবেন। নিজেকে সুরক্ষিত রাখার আগাম প্রস্তুতি খুব প্রয়োজন। আসুন আমরা নিজেকে আগেভাগেই আগামীর জন্য তৈরি করি। এটা মোবাইলেও করা সম্ভব। ভবিষ্যতে হয়তো আজকের অনেকেই মোবাইল ফোন ব্যবহারই বন্ধ করে দিবে। এধরণের ভার্সুয়াল হাসপাতাল আসলেই তখন খুব কাজে দেবে।
বর্তমান প্রজন্মের এখন অনেকেই অত্যাধুনিক তথ্য প্রযুক্তিতে যথেষ্ট দক্ষ। আপনাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ভার্সুয়াল হাসপাতালের মাধ্যমে চিকিৎসার সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করুন।

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়