DR. SULTANA ALGIN

Published:
2020-09-01 21:35:43 BdST

ইচ্ছে হল ওষুধ খাচ্ছেন, ইচ্ছে হল ছেড়ে দিলেন: বিপজ্জনক এই কাজটি করবেন না প্লিজ !


 

 

ডা সুলতানা আলগিন


সহযোগী অধ্যাপক, মনোরোগ বিদ্যা
কনসালটেন্ট ওসিডি ও জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক
,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
______________________


ইচ্ছে হল ওষুধ খাচ্ছেন, ইচ্ছে হল ছেড়ে দিলেন: বিপজ্জনক এই কাজটি করবেন না প্লিজ ! বিষয়টা খুলেই বলি তাহলে।

প্রবাসী বাংলাদেশী বয়স ৩০এর কোঠায়। ৯-১০ বছর থাকার পর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দেশে চলে আসেন। পরিবারে মানসিক রোগে ভুগছেন তারই বড় ভাই। তার চিকিৎসা ঠিকমত হয় নাই। ভদ্রলোক যেহেতু বিদেশে ছিলেন । তাই দেশে আসা যাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলছিলেন। কিন্তু কোন ডাক্তারের ওষুধই তিনি ঠিকমত খেতেন না। বড় জোর ৭-১০ দিন। তারপরই বিভিন্ন অজুহাতে ওষুধ বন্ধ করে দিতেন। গত ২-৩ বছর একবারে দেশে থিতু হলেন ।ব্যবসা বাণিজ্য করছেন। কিন্তু করোনা এসে রোজগারের পথে বাধা সৃষ্টি করল। এখন টেলিমেডিসিন বিশ্বব্যপী জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। রোগী সেভাবেই যুক্ত হয়েছেন।

সমস্যা কি ?
অনিদ্রা দীর্ঘদিনের,বুকে,পেটে ব্যথা,হজমে সমস্যা। মনে কোন ফুর্তি নাই। অফিসে যেতে মন চায় না। বাসায় বসেই ব্যবসার তদারকি করেন। ভুলে যাওয়া আর যৌন সমস্যা রয়েছে।
চিকিৎসা ২সপ্তাহের দেয়া হয়েছে আর সাথে বলা হয়েছে কোন রকম গাফিলতি করবেন না। নিয়ম মেনে ওষুধ ,খাবার খাবেন। সময়মত ফলোআপে আসলেন।
৬আনা উন্নতি হয়েছে। ব্যথা অনিদ্রার উন্নতি হয়েছে। ওষুধের রেসপন্স বুঝতে রোগী ও ডাক্তার দুজনেরই সময় প্রয়োজন। হুট করে বন্ধ করলে দুজনেরই ক্ষতি। এই ওষুধ তাকে এখন বেশ কয়েক মাস পর্যন্ত খেতে হবে। প্রয়োজনে বেশিদিনও খেতে হতে পারে।এরপর সেটা ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হবে। আর তখন এই ভুলে যাওয়া আর যৌন সমস্যা সেটাও ঠিক হয়ে যাবে । কারণ এই লক্ষণগুলো বিষন্নতা রোগেরই অংশ । বিষন্নতা রোগের ঠিকমত চিকিৎসা নিলে এই লক্ষণগুলো সেরে যাবে।

মানসিকরোগ একটি ক্রনিক রোগ। ডায়বেটিস,হাইপারটেনশন,থাইরয়েড সমস্যার মতই আপনাকে মানসিকরোগের জন্য বেশ কিছু দিন ওষুধ খেতে হবে। ফলোআপও করতে হবে। অনেকে এজন্যে বেদিশা হয়ে এই ডাক্তার , ওই ডাক্তার ছোটাছুটি করেন। কলকাতা, বেঙ্গালুরু ছুটে যান। ভাবেন, নিশ্চয়ই কোন ডাক্তারের কাছে যাদুর লাঠি আছে । সেটা ছুঁইয়ে রাতারাতি রোগীকে ভাল করে দেবেন।
মানুষ আশাবাদী বলেই জীবন বড় আনন্দময় । আশা দোষের নয়। প্রত্যাশা থাকবেই। কিন্তু এটা একটা বিজ্ঞান। ছুটাছুটি করলেই রাতারাতি রোগ ভাল হয়ে যাবে না। শেষে এই ডাক্তার , ওই ডাক্তার , ঢাকা বেঙ্গালুরু ছোটাছুটিই সার। সব পন্ড। শেষে পুরণো ডাক্তারেই ফিরে আসা।
আমরা ডাক্তাররা সবাই কায়মনোবাক্যে রোগীর সুস্থতা চাই। তাদের সেবা ও কল্যাণ সুস্থতাই আমাদের পরম ধর্ম। রোগী যত জলদি সুস্থ করে তোলা যায়, সেটাই ডাক্তারদের পরম প্রার্থনা।

ঘুমের ওষুধ কখনওই দীর্ঘদিন খাবেন না। আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন কোনটি ঘুমের ওষুধ এবং অন্যান্য প্রেসক্রাইবড ওষুধের কার্যকারিতা । ভাল থাকুন । নিশ্চিত মনে সুস্থজীবনের দিকে এগিয়ে চলুন।

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়