DR> SABIHA KHATUN

Published:
2020-08-15 13:06:33 BdST

রাশিয়ার ভ্যাকসিন 'স্পুটনিক ভি' বাংলাদেশীরা যেভাবে পেতে পারেন


 

 

ডা. সাবিহা খাতুন
_____________________

রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিন 'স্পুটনিক ভি' নিয়ে সারা বিশ্বেই তোলপাড়। ব্যাপক চাহিদা দেশে দেশে। বাংলাদেশে সর্বমহলে এ নিয়ে কৌতুহল কম নয় । ডাক্তারদের কাছে প্রতিদিন হাজারো রোগী ও সাধারণ মানুষ জানতে চান, তারা কিভাবে
রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিন 'স্পুটনিক ভি' পাবেন । কবে নাগাদ পাবেন।
এ বিষয়ে প্রতিদিনই মানুষের প্রশ্ন ও আকুতি দেখে আমরা ডাক্তার হিসেবে খুবই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। মানুষের এতো আকুতি , এতো আগ্রহ! ভুক্তভোগী মানুষ তো এরকম করবেই।
তাই বিভিন্ন ওষুধ কম্পানির কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা , মিডিয়ার খবর পড়ে এই লেখাটি লিখছি।

জানা গেছে রাশিয়ান ভ্যাকসিন ভারতেও তৈরী হবে।
ওপার বাংলার বিশ্বস্ত মিডিয়া এই সময় জানান, ভারত-সহ ২০ দেশ থেকে ১০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের অর্ডার পেল রাশিয়া
রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিন 'স্পুটনিক ভি' নিয়ে বিশ্বের ২০টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। তার মধ্যে ভারতও রয়েছে। রুশ সরকারের একটি সূত্রে খবর, ভারতে ওই ভ্যাকসিন ট্রায়ালের পাশাপাশি উত্‍পাদ‌নও হবে।

বাংলাদেশের ওষুধ কম্পানির সূত্রগুলো জানায়, তারাও বৈধভাবে এ বিষয়টি নিয়ে গভীর পরিকল্পনা করছেন। যাতে ভারতবর্ষে আসার পাশাপাশি তারাও বৈধভাবে ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশে উৎপাদন, বাজারজাতকরণ কিংবা বিপণন করতে পারেন।
শীর্ষ ওষুধ কম্পানিগুলো এই বানিজ্যিক লড়াইয়ে কোনরকম সস্তা সেনশেসন, স্টান্টবাজি করতে চাইছেন না। বরং বৈধভাবে ভ্যাকসিনটি যাতে জনগনের হাতে পৌছে দেয়া যায়, তারই পরিকল্পনা করছেন তারা। সেটা বাংলাদেশে উৎপাদন করে হোক, কিংবা ভারত বা রাশিয়া থেকে এনে মার্কেটিং করে হোক।
রাশিয়ার সূত্র ভ্যাকসিন সেদেশে উৎপাদন করে রপ্তানি করবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। তাই বাংলাদেশের শীর্ষ ওষুধ শিল্পের কর্তাদের ভরসা , ভারতে তৈরী রাশিয়ান ভ্যাকসিনের সঙ্গে কলাবরেশন। তারা অন্য দেশের সঙ্গেও কলাবরেশনের চেষ্টা করছেন।
সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশে করোনা নিয়ে নানা কেলেঙ্কারি হয়েছে। ভ্যাকসিন আবিস্কারের নামে নানা ছেলেমানুষী কান্ড ও গালগল্প গুজব রটনা হয়েছে্ তাই তারা খুবই সতর্ক। প্রকৃত রাশিয়ান ভ্যাকসিন নিয়ে তারা বৈধ আইনি প্রক্রিয়াকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।

এবার অন্যান্য খবর জানি আসুন।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্বে প্রথম করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সাফল্য ঘোষণার পরেই রাশিয়া বলেছে , ভারত-সহ ২০টি দেশ ভ্যাকসিন চেয়ে রেখেছে। আর তার পরিমাণ ১ বিলিয়ন মানে ১০০ কোটি ডোজ। ভারত ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং কিউবায় 'স্পুটনিক ভি' উত্‍পাদন হবে বলে দাবি করা হয়েছে রুশ সরকারের বিবৃতিতে।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেন, এই ভ্যাকসিন নিরাপদ।

রাশিয়ার ডাইরেক্ট ইনভেসমেন্ট ফান্ডের (RDIF) প্রধান ক্যারিল দিমিত্রিভ একটি অনলাইন সাংবাদিক বৈঠকে জানান, এরই মধ্যে ২০টি দেশ থেকে রাশিয়ার গামালিয়া গবেষণা ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজির তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের এক বিলিয়ন ডোজ সরবরাহের আর্জি এসেছে।

তাঁর বক্তব্য, গামালিয়া গবেষণা ইনস্টিটিউট উৎপাদিত রুশ ভ্যাকসিনে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০টি দেশ থেকে ভ্যাকসিনের এক বিলিয়নের বেশি ডোজ কেনার আবেদন জমা পড়েছে। ৫০০ মিলিয়নেরও বেশি ভ্যাকসিনের ডোজ উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারবে, এমন পাঁচটি দেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব নিয়ে তাঁরা কথাও বলেছেন।

এই ভ্যাকসিনের উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।
রাশিয়ার লক্ষ্য, ২০২০ সালের মধ্যেই ২০ কোটি ডোজ উত্‍পাদন। এর মধ্যে শুধু রাশিয়ার জন্য ৩ কোটি ডোজ। রাশিয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করছে গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি।

আরডিআইএফ জানিয়েছে, এই ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ব্রাজিল, ফিলিপিন্স এবং ভারতে। এর পরে শুরু হবে উত্‍পাদন। তাতেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হাত মেলাবে রাশিয়া। সেই তালিকায় ভারত রয়েছে। ভারত ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং কিউবায় 'স্পুটনিক ভি' উত্‍পাদন হবে বলে দাবি করা হয়েছে রুশ সরকারের বিবৃতিতে।

 

ক্যারিল দিমিত্রিভ বলেন, আমরা জানি, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সমস্যায় পড়বে দরিদ্রতম দেশগুলো। ফলে আরডিআইএফ এবং তার অংশীদাররা কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি মানবিক সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে। তাঁর কথায়, 'আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্বজুড়ে সব মানুষের ভ্যাকসিন পাওয়ার অধিকার সমান হওয়া উচিত। আর্থিক পরিস্থিতি, ধর্ম, বাসস্থান এবং অন্যান্য কারণে যাতে বৈষম্য না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।'


ভ্যাকসিন নিয়ে বিদেশিদের উদ্বেগ ভিত্তিহীন: রাশিয়া
রাশিয়ার অনুমোদন করা করোনাভাইরাস টিকা নিয়ে বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ খারিজ করে দিয়েছে মস্কো। বুধবার রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে বলেছেন, যেসব উদ্বেগের কথা বলা হচ্ছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন। খুব শিগগিরই তাদের ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

করোনাভাইরাসের নিরাপদ টিকা উদ্ভাবনে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে ১১ আগস্ট বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে ‘স্পুটনিক ভি’ অনুমোদনের ঘোষণা দেয় রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান এই ভ্যাকসিন ইতোমধ্যে তার মেয়ের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে রাশিয়ার ভ্যাকসিন অনুমোদনের ঘোষণার পরই এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে বিভিন্ন দেশ। রাশিয়ার কাজের গতি এবং পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ ছাড়াই ভ্যাকসিন অনুমোদন হয়েছে বলে দাবি উদ্বিগ্নদের। জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা সবাইকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।


তবে এসব উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমাদের বিদেশি সহকর্মীরা রুশ ওষুধের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাপ্রাপ্তির কথাই বিবেচনা করছেন আর তা নিয়ে যেসব মতামত দেওয়ার চেষ্টা করছেন... সেগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন।’ খুব শিগগিরই ভ্যাকসিনটি সবার কাছে পৌঁছানো যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘মেডিক্যাল ভ্যাকসিনটির প্রথম প্যাকেজটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে, প্রাথমিকভাবে এগুলো ডাক্তারদের জন্য।’

রাশিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী অক্টোবরেই গণহারে ভ্যাকসিন তৈরি শুরুর পরিকল্পনা চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, ভ্যাকসিনটি পর্যালোচনা করে দেখতে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে ডব্লিউএইচও যে ছয়টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের তালিকা দিয়েছে তাতে নেই রাশিয়ার অনুমোদনকৃত ভ্যাকসিনটি। ওই ছয়টি ভ্যাকসিনের তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়ে মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

 

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়