রাতুল সেন

Published:
2020-06-23 11:08:37 BdST

রোগী দেখে আয়ের থেকে রোগীর জন্য যে ডাক্তারের ব্যয় বেশী


 

ডেস্ক
__________________

অধ্যাপক ডাক্তার তাহমিনা বানুর সম্পর্কে নাফিজ মিনহাজ লিখেছেন , ১৫ বছর যাবৎ ওনার মানব সেবা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি চেম্বারে যতগুলো রুগী দেখতেন তার বেশীরভাগই রুগীর কাছ থেকে কোন টাকা নেন না। ওনার চেম্বারে আসে অধিকাংশ গরীব রুগী। যাদের অপারেশন লাগত তাদেরকে ওনি আর ওনার এক বান্ধবী আছেন দুই জনে মিলে বিনা টাকায় অপারেশনগুলো করেন। বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে অপারেশনগুলো করতেন। অপারেশন করতে হাসপাতালের খরচ গুলো আবার ওনার নিজের থেকে দিতেন। এক সময় ওই সব খরচের হিসাব আমি রাখতাম। প্রত্যেক মাসে ওই খরচের সামারি করতাম। ওখানে দেখা যেত রুগী দেখে ওনার আয় থেকে রুগী জন্য ওনার ব্যয় বেশী।


নাফিজ মিনহাজ লিখেছেন এমনই একজন মানবিক চিকিৎসককে নিয়ে। তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা চেয়ে।
তার লেখা প্রকাশ হল।

নাফিজ মিনহাজ:
বাংলাদেশের প্রথম মহিলা শিশু সার্জন চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান অধ্যাপক ডাক্তার তাহমিনা_বানু ম্যাডাম করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। অসহায় গরীব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনা টাকায় চিকিৎসা দেওয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকে আল্লাহ দ্রুত সুস্থতা দান করুক।

আজ থেকে ১৫ বছর পূর্বে আমি ছাত্র অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলের শিশু সার্জারী বিভাগে ম্যাডামের অধীনে রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট হিসেবে ডাটা এন্ট্রির পার্টটাইম কাজ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করি। বলতে গেলে আমার কাজ শেখার হাতে কলমে শিক্ষা ম্যাডামের মাধ্যমেই। ওখানে ২বছর কাজ করার পর আমি নতুন চাকরি নিয়ে অন্যত্র চলেগেলেও এখন পর্যন্ত ম্যাডামের প্রায় প্রতিটি কাজের সাথে আমাকে থাকার সুযোগ করে দেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর চিল্ড্রেন সার্জারি নামক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী হিসেবে তিনি আমাকে সংযুক্ত রেখেছেন। তিনি আমার মত অনেক কর্মী যেমন তৈরী করেছেন তেমনি তৈরী করেছেন অনেক শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

তিনি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্র্যাক প্রধান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের বোন। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর গত কয়েকদিন তিনি পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার নিজ বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে অধ্যাপক হিসাবে অবসর গ্রহনকারী বাংলাদেশের প্রথম মহিলা শিশু সার্জন ডা. তাহমিনা বানুর হাত দিয়ে ১৯৯৩ সালে যাত্রা করে চট্টগ্রাম মেডিকেলের শিশু সার্জারি বিভাগ। দেশে অসংখ্য শিশুর ক্রিটিক্যাল অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে ‘শিশুবন্ধু’ খ্যাত এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে। অবিরাম চালিয়ে যাচ্ছেন শিশু সার্জারিসহ চিকিৎসা নিয়ে নানা গবেষণা। শিশু সার্জারি জগতে আন্তর্জাতিক আঙিনায় ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন নিজের সর্বোচ্চ অবস্থান। দেশি ৬৯টি এবং আন্তর্জাতিক ৪১টি চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ।
বিশ্বে প্রথম তিনি জন্মগত ত্রুটির ওপর গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন ২০১৩ সালে। এর আগে বিষয়টি ভারতে আলোচনা হলেও লিখিতভাবে প্রথম আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ হয়। তাছাড়া, বর্তমানে দেশের একমাত্র চিকিৎসক তিনি, যিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অক্সফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে ক্লাস নেন।
তাঁর ‘লো কস্ট কোলাবোরেট’ ফান্ড ২০১৭ সালে যাত্রা করা এ ফান্ডের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ২৫০ জন রোগীর সেবা দেওয়া হয়েছে। যেখানে কোটি টাকার চিকিৎসা খরচ হয় শিশুদের এমন জটিল রোগ বিনা পয়সায় অথবা সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতে করা হয়।

১৫ বছর যাবৎ ওনার মানব সেবা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি চেম্বারে যতগুলো রুগী দেখতেন তার বেশীরভাগই রুগীর কাছ থেকে কোন টাকা নেননা। ওনার চেম্বারে আসে অধিকাংশ গরীব রুগী। যাদের অপারেশন লাগত তাদেরকে ওনি আর ওনার এক বান্ধবী আছেন দুই জনে মিলে বিনা টাকায় অপারেশনগুলো করেন। বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে অপারেশনগুলো করতেন। অপারেশন করতে হাসপাতালের খারচ গুলো আবার ওনার নিজের থেকে দিতেন। এক সময় ওই সব খরচের হিসাব আমি রাখতাম। প্রত্যেক মাসে ওই খরচের সামারি করতাম। ওখানে দেখা যেত রুগী দেখে ওনার আয় থেকে রুগী জন্য ওনার ব্যয় বেশী।

_________________INFORMATION___________________

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়