Ameen Qudir

Published:
2020-04-07 09:10:22 BdST

সম্মুখ সমরে এক স্বাস্থ্য সৈনিকের কথা




ডাঃ পি, কে, বালা
_____________________

সকালে নাস্তা সেরে হাসপাতালে গেলাম রোগী দেখতে। ভয়, কষ্ট নিয়ে রোগী দেখে বাসায় ঢুকলাম জুতা বাহিরে রেখে। তারপর তাড়াতাড়ি ওয়াসরুমে পরিধেয় সমস্ত কাপড় সব ধুইয়ে নিলাম কাপড় কাঁচার সাবান দিয়ে। খসখস হাতে আবার আরেক সেট পরিধান করে আবারো গ্লাভস, মাস্ক লাগিয়ে বের হই। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। দেখে ভালো লাগছিলো কোন রকম শান্ত নগরী নেই কোনো কোলাহল, শুধু টেনশান ছাড়া।

দ্বিতীয় মূরাদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অনেক নারীপুরুষের গাদাগাদি করা লাইন রিলিফ রিক্সাঔয়ালা বলল মনে হয় রিলিফ কিংবা ১০ টাকা সের দরে চালটাল হবে ।রিলিফ বড় না জীবন ।টেনশান বেড়ে গেলো ।যদি একজনও করোনা পজিটিভ থাকে অনেকে মানুষ ই তো আক্রান্ত হবে। কেউ কেউ মাস্ক পরিহিত কিন্তু নিরাপদ দূরত্বের বালাই নাই। পরক্ষনে শান্তনা পেলাম এই ভেবে যে রোগী দেখার সময়ে ও তো নিরাপদ দূরত্ব ছিলো না। আমি যতো তাড়াতাড়ি পারি সটকে পড়ি।কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শুনি করোনা সন্দিহান দুইজন কে আইসোলেশান এ ভর্তি করা হয়েছে ।নমুনা পাঠানো হয়েছে । ডিরেক্টর স্যারের সাথে দেখা করে বললাম আউট ডোর এবং অবস্ ওটির সামনে অযাচিত জটলা থাকে ।নিরাপদ দূরত্ব বৃত্ত চিহ্নিত মার্কিং করে দিলে ভালো হয় । স্যর চিন্তা করতে করতে বললেন ।দোকান সব বন্ধ রং যোগার করা কঠিন হবে,তবুও ব্যবস্থা করতে হবে। এদিকে ওটিতে একটি সেন্ট্রাল প্ললসেন্টা প্রভিয়ার রোগী নেগেটিভ ব্লাড রোগীর লোকদের মোটিভেট করতে লাগলাম পরে রক্ত জোগাড় হল । রোগীর অপারেশন করলেন ডাঃ সরতাজ আপা তার টিম সহ।আমি অবজারভার ।আবার সেই পুরনো প্রসঙ্গ নিরাপদ দূরত্ব কিংবা সঠিক পিপিই কোনো টাই মানতে পারিনি। কত ঝুকিতে চিকিত্সক শ্রেণী ।দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি ।জানিনা কতক্ষণ পারবো।

এবার বাসায় ফিরে আবার কাপড় ধুয়া মুছার পালা। আমার কাছে মনে হচ্ছিলো এটাই তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। বাবা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অগ্রভাগের সার্টিফিকেট বিহীন সৈনিক।আর পুরস্কৃত হয়েছিলেন তার সারা জীবনের সখে গড়ে তোলা সৌখিন বৃহৎ দোতলা বাড়ি সবার আগে ধ্বংস করেছিল ওরা ।কারন ঐ বাড়িতে ই ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানা আর বড় ভাই ছিলেন দেরাদুনে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত তরুণ মুক্তিযোদ্ধা । আজ আমি আগ্নেয়াস্ত্র বিহীন যুদ্ধে সামিল নিজেই অরক্ষিত এক দুর্বল অসহায় চিকিত্সক সৈনিক যোদ্ধা যার জয়ের কোন স্বীকৃতি থাকবে না থাকবে শুধু দ্বায়িত্বহীনতার গ্লাণি যা তার কখনো ই প্রাপ্য ছিল না ।বড় বাবা ভাইয়ের মুখে শতশত যুদ্ধবিমানের উঠানামা, বোমা ফেলার গল্প শুনেছি। বেঁচে থাকলে নাতিদের কত গল্প শোনাত । আমরা শোনাবো শত শত টাউট বাটপার, মুনাফাখোর আর ডাকাতের গল্প । আর যারা আমাকে, আমার ডাক্তার সমাজকে কসাই বলে অন্য সময়ে। আর এখন বলে কাপুরুষ তাদের গল্প বলবো। অযোগ্য লোকদের গল্প শোনাবো। এ যেন প্রতিদিনের বিরামহীন গল্প ।

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়