Ameen Qudir

Published:
2020-03-28 11:13:46 BdST

প্রশাসন যেখানে পারছে : প্রশাসন যেখানে পারছে না


ডা. সাবিনা ইয়াসমিন মিতু

____________________________

আমাদের গনপ্রজাতন্ত্রী সরকারের অফিসাররা কোয়রেন্টাইন সফল করতে কোথাও কোথাও পারছেন । আবার অনেক জায়গায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ১০০ পারসেন্ট ব্যর্থ।
তারা শ্রমিকদের সাথে পারছে । গরিবের সাথে পারছে। ডাক্তারদের সাথে পারছে । গরিব শ্রমিক , যারা নিত্য দরকারি কাজে পেটের তাগিদে বের হয়েছে , তাদেরকে কান ধরে উঠবস করাচ্ছে। ডাক্তার সাহেব সেবা দিতে যাচ্ছিল, তাকেও অপমান করতে পারছে । তাকেও পেটোচ্ছে দুয়েক জায়গায়। ডাক্তার নিরীহ । তার কেউ নেই। সে সেবা দেওয়ার মত অপরাধ করছে। তাই তাকে পেটাতে পারছে ।
কিন্তু ছবির এই লন্ডন ফেরত বৃদ্ধ মুরুব্বির সাথে কি পারছে । না, তার সঙ্গে পেরে উঠছে না প্রশাসন। অসহায়ের মত তার পেছন পেছন ঘুর ঘুর করছে। এই লোক লন্ডনে ৪৫ বছর থেকে এসেছেন। নিশ্চয়ই তিনি একজন ভিভিআইপি। লন্ডন থেকে ক্রাইসিস পিরিয়ডে দেশে এসেছেন। তাতে কি। নিজ দেশে তিনি দরবেশ রাজার মত মাস্ক না লাগিয়ে ঘুরবেন। তাতে কার কি ! তিনি মৃত্যু , করোনা ভাইরাসকে ভয় পান না। কেননা, হায়াত মৌত করোনার হাতে না। আল্লাহর হাতে। তিনি গনতন্ত্রের মা বাপ লন্ডনে এসব কথা বলতে পারেন নি। বললে পাগলা গারদে পুরতো। কিন্তু নিজের দেশে স্বাধীন ভাবে বলবেন। স্বাধীনভাবে ঘুরবেন। তাকে ঠেকাবে কোন প্রশাসন!
বরং প্রশাসন পারবে ওই গরিব চাষা ভুষো দিন মজুর ও ডাক্তারের সাথে। ওরা যে জনগনের সেবা দাস। সেবা দিয়ে খায় দায়। আর বাকি সবাই রাজা । তারা সবাই রাজা এই এই দেশে।
এখানে এই বাদশা লন্ডনীর ভিডিও দিলাম।

দেখুন, তার সঙ্গে একদম পারে নি প্রশাসন।


ভিডিও লিঙ্ক ::

https://web.facebook.com/mahammad.ali1/videos/3077411932268871/?t=0

অন্য দিকে গরিবের সঙ্গে কি ব্যবহার দেখুন !!
যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষ এক ছবিসহ প্রতিবেদনে জানায় এক সরকারি কর্মকর্তার কর্মকান্ডের বিষয়ে। দেখুন , প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই লন্ডনীর সঙ্গে না পারলেও সাধারণ খেটে খাওয়া দরিদ্র বৃদ্ধদের সঙ্গে কি আচরণ করে চলেছে। সেসব আবার সরকারি ওয়েবে ফলাও করে প্রচার করছে। তাদের বাহবা দিতাম, যদি তারা এই লন্ডন ফেরত বিলাতীকে বাগে আনতে পারতেন। তাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে পারতেন। কোরোনা ভাইরাস ওই শ্রমজীবিদের মাধ্যমে ছড়ায় না। ছড়ায় এইসব বিলাতফেরত ভিআইপি অন্ধ বিশ্বাসীদের জন্য। । পুরো প্রতিবেদন দিলাম।


বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে দাঁড় করে রাখার ছবি সরকারি ওয়েবসাইটে!
সারাদেশ | 28TH MARCH, 2020 12:38 AM :;যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষ

মাস্ক না পরার দায়ে কিনা তিন বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখলো ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুধু তাই নয়, সেই ছবি আবার আপলোড করা হয়েছে সরকারি ওয়েবসাইটে!

শুক্রবার বিকেলে যশোরের মনিরামপুরে ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েমা হাসানের ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনজন বৃদ্ধ নাগরিককে এ সাজা দেয়। শুধু তাই নয়, কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজে ওই চিত্র তার মোবাইলে ধারণ করেন। রাতে এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সামলোচনার ঝড় ওঠে।

জানা যায়, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় লোকসমাগম না করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানের নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চিনাটোলা বাজারে অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে পড়েন প্রথমে দুই বৃদ্ধ। এর মধ্যে, একজন বাইসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন। অপরজন রাস্তার পাশে বসে কাঁচা তরকারি বিক্রি করছিলেন। কিন্তু তাদের মুখে মাস্ক ছিল না।

এ সময়, পুলিশ ওই দুই বৃদ্ধকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাস্তি হিসেবে তাদেরকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। তিনি নিজে আবার মোবাইল ফোনে এ চিত্র ধারণ করেন। এরপর, একজন বৃদ্ধ ভ্যান চালককেও অনুরূপভাবে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকার সাজা দেন। এ ছবি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বয়স্ক নাগরিকদের এভাবে সাজা দেয়াটাকে মেনে নিতে পারেননি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন দণ্ড প্রদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। পাশাপাশি, এই ছবি সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোডের পর সংশ্লিষ্টদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিভাবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে, সরকারি ওয়েবসাইটে এই ছবি দেয়ার ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে ফোন দিলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। বয়স্ক নাগরিকদের এভাবে কান ধরিয়ে দাঁড় করার বিষয়টি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

 

বিক্ষুব্ধ প্রখ্যাত লেখক ডা. মোরশেদ হাসান লেখেন ,

এদেশের নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। সাধারণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত হয় এবং সে দেশটি প্রজার কল্যাণের তন্ত্র বা নিমিত্তে পরিচালিত হয়।

আমরা বুঝলাম জনগণ তাদের শাসক নির্বাচন করে তবে তার আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেওয়ার তরে। রাষ্ট্রের নিয়োগকৃত চাকর রাষ্ট্রের মালিককে কানে ধরে ওঠবস করায় এবং কাণ্ডজ্ঞান বিবর্জিত হয়ে জমিদারি আমেজে ছবি তুলে রাখে এখানে।


ডা. জোবায়ের আহমেদ লিখেছেন, আহমেদ জোবায়ের
9 hrs ·
মানুষের অপমানে কাঁদেনা অমানুষের প্রাণঃ

মেয়েরা তো বাবার রাজকন্যা।
হউক বাবা অশিক্ষিত,খেটে খাওয়া দিনমুজুর।
বাবাদের প্রতি মেয়েদের মায়ার টান অপরিসীম।
আমিও আল্লাহ এর কাছে চেয়েছি আল্লাহ আমাকে একটা সন্তান দিলে মেয়ে দাও।।
আল্লাহ কবুল করেছেন।

বাবাদের কাছেও মেয়ে হলো মা এর আরেক রুপ।
বাবা ও মেয়ের সম্পর্কে মমতার পরশ মাখা হৃদি অনুভব জড়িত।।

বাবার বয়সী সব বাবার প্রতিই মেয়েদের একটা মায়া ও শ্রদ্ধা কাজ করে।।
বাবারাও যেকোন মেয়ের মাঝে নিজ মেয়ের ছায়া দেখতে পান।।

মানুষের সমাজে এমনই কাম্য।

কিন্ত একি দেখলাম।

 

সাদিয়া আফরিন লিখেছেন, ·
করোনা আমাদের কে অনেক কিছুই দেখাল।সেই অনেক কিছুর প্রতিক্রিয়ায় কখনো নির্বাক,কখনো হতভম্ব,কখনো হতাশ হয়েছি।কিন্তু নিচের ছবি টা যা দেখাল তা নিয়ে আমার অনুভূতি আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। মানুষ কেন এরকম হবে? মানুষের কেন নূন্যতম কান্ডজ্ঞান থাকবে না? মানুষ কেন তার ক্ষমতা, শক্তি র সঠিক প্রয়োগ সম্পর্কে জানবে না? পৃথিবী যদি এখন এভাবেই চলে, তবে সব ধ্বংস হয়ে যাওয়াই শ্রেয়।এত অনাচার বোধকরি পৃথিবীও আর নিতে পারছে না!

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়