Ameen Qudir

Published:
2020-02-13 00:43:01 BdST

"আমার বাবা শহীদ বুদ্ধিজীবী ডাক্তার:নাম কোথাও আসে না": প্রবাসী মেধাবী ডাক্তার


ডেস্ক
____________________________

অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ । শহীদ সন্তান। তার শহীদ পিতা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত বাংলার শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক অধ্যাপক। তার নাম কেন স্মরিত হয় না মর্যাদায়। সেই কষ্টের কথা জানালেন এক লেখায়। তিনি এখন নিজেও বিশ্ব খ্যাত চিকিৎসক। আমেরিকায় চিকিৎসাবিদ্যার অধ্যাপক। তিনি DMC K-29
Professor, Department of Nephrology
Drexel University
Philadelphia, USA ।
তার লেখাটি প্রকাশ হল।

মেডিকেল এর প্রথম বর্ষে থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো। যোগ দিলাম মুক্তিবাহিনীতে। সদ্য তারুণ্যের টগবগে রক্তে বারুদেরিবিস্ফোরণ। । আমার বাবা ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী ডাক্তার। তিনি শহীদ হোন এপ্রিল মাসে। আমরা তো বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করি কেবল ডিসেম্বরেই। অথচ যুদ্ধের পুরো সময়টা জুড়ে যারা শহীদ হয়েছিলেন, তাদেরও কি ঐ একই মর্যাদাটুকু প্রাপ্য নয়! আমার বাবার নাম কোথাও আসেনা। অথচ তিনি ছিলেন সেই সময়কার শীর্ষস্থানীয় অধ্যাপক।

স্বাধীনতা তো অর্জন হলো। কিন্তু এরপর চলে এলো দেশকে একটু একটু করে গড়ে তোলার আরো বড় লক্ষ্য। ডাক্তার সমাজেও তখন বদলের হাওয়া। আমি যখন ইন্টার্নশীপ করছি তখন দেশে এক প্রতিকূল সময়। তৎকালীন সরকারের সাথে বিভিন্ন পেশাজীবীদের অধিকার রক্ষায় কিছুটা মনোমালিন্য চলছিল। এরই জের ধরে নেতৃস্থানীয় ডাক্তাররা তখন কারাগারে। ঘটনাচক্রে এই আন্দোলনের সম্মুখভাগে আমি চলে আসি। প্রকৌশলী আর কৃষিবিদদের সাথে একত্রিত হয়ে ‘প্রকৃচি’ গড়ে তুললাম আমরা। তখন সরকারি ডাক্তারদের বেতন অনেক কম ছিলো। ধরেই নেয়া হত তারা প্রাইভেট প্র‍্যাক্টিস করে চলতে পারবেন। ডাক্তারদের বিরুদ্ধে এমন আরো কিছু বৈষম্যমূলক আচরণ এর বিরুদ্ধেই তখন সোচ্চার হই। গ্রেপ্তার আর ধরপাকড় এর ভয়কে উপেক্ষা করে চলে আন্দোলন। এর ফলশ্রুতিই কিন্তু আজকের বিএমএ ভবন। একটা সময়ে এসে সরকার আমাদের তখনকার দাবিদাওয়া গুলোও বুঝতে সমর্থ হয়।

এই আন্দোলনের শেষে জীবনের ঘটনাপ্রবাহে পেশাগত কারণে আমেরিকা গমন করি। তবে দেশের প্রতি সুতোর টানটাকে একদম বিচ্ছিন্ন হতে দেইনি কখনো। মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে যে দেশের জন্য যুদ্ধ করলাম, তাকে ভুলি কি করে! দেশের বাইরে থেকে দেশের জন্য কিছু করা যায়না, এই অপবাদ ঘুচাতেই যেন পুরোদমে নামলাম। প্রথম প্রথম তৎকালীন পিজিতে আসতাম। বলতাম- আমিতো তোমাদের কাছে শিখতে এসেছি। একে অপরের সাথে মেডিকেল জ্ঞান বিনিময়ই ছিল উদ্দেশ্য। বহির্বিশ্বে মেডিকেল সাইন্স যে কতটা এগিয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে, সে সম্পর্কে আমাদের তরুণ ডাক্তারদের ওয়াকিবহাল করতে চাইতাম।

সরকারি সহযোগিতায় বেশ কয়েকটি সেমিনার করি আমরা। ক্রিটিক্যাল কেয়ার, ইমার্জেন্সি মেডিসিন- চিকিৎসা বিজ্ঞানের এসব শাখার গুরুত্ব নিয়ে এখানে সচেতনতা গড়ে তুলি। ডাক্তারদের এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণও দিই আমরা। এছাড়া ডাক্তার-নার্স উভয়ের জন্যই ইনফেকশন কন্ট্রোল এর বিষয়ে ওয়ার্কশপ এর আয়োজন করি। আমাদের দেশের শীর্ষস্থানীয় ডাক্তার আর সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এসব কখনোই সম্ভব ছিলনা।

এছাড়া আমার বাবার নামে শহীদ শামসুদ্দিন ফাউন্ডেশন গড়ে তুলি। এর আওতায় সরকারি সহযোগিতায় সিলেটে একটি সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ কিডনি হাসপাতাল গড়ে তুলি। একজন দাতা এর সম্পূর্ণ জমিটি কোন বিনিময় ছাড়াই দান করেন। আমরা যারা দেশের বাইরে থাকি, দেশকে নিয়ে অনেক ভাবি। ভাবি যে, কিভাবে দেশের জন্য কিছু করতে পারি।

বর্তমানে আমেরিকার একটি প্রখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুলে অধ্যাপনার সুবাদে বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন সেমিনারে কথা বলার সুযোগ হয় আমার। সেখানে আমার দেশের কথা বলি, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলতে গেলে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। অনেক কথার ভিড়ে মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা তো অনেক ইতিহাস লিখিই নাই! সেসময় তো প্রত্যেকটা মানুষেরই কিছু না কিছু ভূমিকা ছিল। সবারই তো ছোট-বড় অনেক ত্যাগ ছিল। সেসবের কথা কি আমরা খুব বেশি বলি! আমরা অনেক শহীদের মায়েদের সাথে কথা বলেছিলাম। তখন দেখি সেই যুবক বয়সে শহীদ হওয়া সন্তানদের মায়েদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশই মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। আমরা কি কখনো এই মায়েদের কথা বলি! এরাও তো সেই গৌরবময় স্বাধীনতার অংশ।

এই দেশটা তো প্রত্যেকটা মানুষের ত্যাগ-তিতিক্ষায় পাওয়া। তাহলে যখন এই দেশটাকে গড়ার সময়, তখন কেন আমরা কেবল নিজের স্বার্থটাই ভাববো! যার যার অবস্থান থেকে একটুআধটু ত্যাগই দেশটাকে এখন সামনে নিয়ে যেতে পারে বহুদূর। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তো কেবল গর্বিত হওয়ার জন্যই নয়। সেই ইতিহাসে আছে আত্মোৎসর্গ, আছে নিজস্ব বলয় থেকে বেরিয়ে এসে জনমানুষের কাতারে এসে দাঁড়ানোর শিক্ষা। সোনার বাংলা তো কেবল একটা স্বপ্ন নয়, সোনার বাংলা হলো আত্মনিবেদন চর্চা।

The liberation war broke out in my first year at med school. I joined the liberation force. My blood boiled with rebellion. My father was an martyred intellectual. He was killed in April. We observe the martyred intellectual day only in December. But those who were murdered during the nine month timeline also deserve the honor. My father's name is mentioned nowhere despite being one of the top professors of medicine at that time.

We got independence. But the job to build our country anew was at hand. The doctor community was going through a change. When I was an intern, the country was facing a great crisis. A rift had been made between the government and the professionals on the issue of professional rights. The doctors who were in the frontline of the movement were all imprisoned. By twist of fate I somehow found myself leading the movement thereafter. With engineers and agriculturists, we formed "Prokichi". The government doctors were poorly paid back then. The general idea was that they would manage by doing private practice. We fought for these rights. The movement went on despite the constant risk of being imprisoned or harassed. The end result is the BMA building that stands today. After some time, the government too acknowledged our rights.

Years after these events, I moved to USA for my career. But that doesn't mean that I've cut ties with my county. How can I not remember my motherland for which I've fought in a war. A common misconception we face that it is difficult to do something for the country from abroad. I intended to change that belief. At first I used to visit PG hospital. I'd say that I've come to learn from you all. My mission was to exchange our medical knowledge. I wanted to make our young doctors acquainted with the advancements of medical science.

With the help of the government, we organized quite a few seminars. We emphasized on different branches of medical science like critical care and emergency medicine and raised awareness. We trained doctors too. We held a workshop on infection control for both doctors and nurses. It wouldn't have been possible without the help of the government and some of the top doctors of our country.

I've also established Shaheed Shamsuddin Foundation, named after my late father. Under its supervision, we've established a kidney hospital in Sylhet. Our donor left us the land for free and we didn't have to purchase it. We who are settled abroad think a lot about our country. We always try our best for the betterment of our nation.

As I'm currently posted at a renowned medical school, I get the opportunity to speak at various seminars. There I talk about my country, about the liberation war. Whenever I talk about the war, I can't help getting sentimental. Talking about it makes me wonder how much history we have skipped and how much of it has gone unwritten. At that time, each of us had a part to play. Everyone of us had to sacrifice something. But do we speak of it? We also worked with the mothers of the martyred war heroes. We've found out that a large number of these women have lost their sanity due to the loss they've suffered. But we never mention their sacrifices. They too are a glorious part of our independence.

We've achieved this country on the sacrifice of many. But for reasons unknown we always put our own interests in front rather than our country's. If we work from our own positions, no matter how little contribution we make, it will be enough to take our nation forward. The history of our liberation war isn't about pride only. It teaches us to put your motherland first, to break out from your own world and stand shoulder to shoulder with the mass. A prosperous Bangladesh is not only a dream, it's the practice of offering oneself to the service of the nation.

Professor Dr. Ziauddin Ahmed
DMC K-29
Professor, Department of Nephrology
Drexel University
Philadelphia, USA

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়