Ameen Qudir

Published:
2020-01-07 12:10:00 BdST

স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইনের খসড়া : সতর্কতার নানা পয়েন্ট জানালেন সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবি : শেষাংশ


 

ডেস্ক
___________________

স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন, ২০১৮ (খসড়া): সমীক্ষণ করে সতর্কতার নানা পয়েন্ট জানালেন সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশ-র এডভোকেট
কাজী ওয়াসীমুল হক । তার সমীক্ষণটি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় পাঠকদের জন্য প্রকাশ হল।
এখানে দীর্ঘ লেখার দ্বিতীয়াংশ এবং বাকি অংশ প্রকাশ হল।
প্রথম অংশের লিঙ্ক হল ; :::

https://daktarprotidin.com/manusher-jonno/4686/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A7%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%BF

১৬। রেজিষ্টার সংরক্ষণ-(১) প্রত্যেক হাসপাতাল বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক রোগীর সেবা প্রদান সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত রেজিস্টার সংরক্ষণ করিবে;
(২) এই আইনের ধারা ১৫ এর বিধান অনুযায়ী প্রদত্ত সেবার বিবরণ সম্বলিত পৃথক রেজিষ্টার সংরক্ষণ করিতে হইবে;
(৩) সংরক্ষিত রেজিস্টারসমূহ গোপনীয় দলিল হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ তথ্য চাহিদা অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বা উপযুক্ত আদালতকে সরবরাহ করিতে হইবে; এবং
(৪) উপ-ধারা ১৬(৩) এর বিধান সত্ত্বেও প্রত্যেক হাসপাতাল, সংরক্ষিত রেজিষ্টারের তথ্যের ভিত্তিতে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত স্বাস্থ্য তথ্য ও উপাত্ত (Routine Health Information & Data) প্রদান করিবে।
১৭। স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যক্তির পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্ব-স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি কর্তৃক রোগীর প্রতি পালনীয় পেশাগত নৈতিকতা (Professional Ethics) ও দায়িত্ব এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।
মতামতঃ ধারা ১৭- ধারা ২(১৪) রর সাথে গুতাগুতি লাগবে না তো? লাগলে?
১৮। আইন শৃংখলা রক্ষায় তথ্য প্রদান-(১) সন্দেহজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা, বিষ প্রয়োগ, বেআইনী গর্ভপাত, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি, লাঞ্ছিত বা প্রহৃত হওয়ায় ক্ষতি, অন্যের দ্বারা যেকোনও ধরণের আঘাতজনিত ক্ষতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোন হাসপাতালে আগত রোগী পরীক্ষান্তে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যক্তির নিকট উক্ত ঘটনা বা ক্ষতি কোনরূপ অপরাধ হইতে উদ্ভুত প্রতীয়মান হইলে উক্ত হাসপাতাল যে থানার অধিক্ষেত্রে অবস্থিত উহার অফিসার-ইন-চার্জ-কে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি বা হাসপাতাল কর্তৃক লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে;
(২) এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে উপধারা ১৮(১) এর বিধান কার্যকর হইবে।
মতামতঃ কতক্ষন বা কতদিনের মধ্যে জানাতে হবে? লিখে কাউকে দিয়ে পাঠালে হবে নাকি নিজে যেয়ে দিয়ে আসতে হবে? ভিকটিম যদি ভূয়া নাম ঠিকানা দেয় তখন কি হবে? যদি চিকিৎসার মাঝখানে পালিয়ে যায় তখন কি হবে? ই-মেইলে জানানো যাবে নাকি থানাতে যেতেই হবে? এসব কিছুই ঝুলে আছে ‘বিধির’ উপর।
১৯। বিদেশী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি কর্তৃক সেবা প্রদান-(১) সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে অন্য কোন আইনে ব্যত্যয় না ঘটিয়ে বিনামূল্যে বা অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে কোন হাসপাতালে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে বিদেশী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিকে নিয়োগ করা যাইবে; এবং
(২) উপধারা (১) অনুযায়ী অনুমতিপ্রাপ্ত বিদেশী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এ আইন প্রযোজ্য হইবে।
মতামতঃ লেটস বি অনেস্ট, চিকিৎসা খাতে বিদেশী ডাক্তার আর লোক নিয়োগের ফ্লাডগেট ওপেন হতে যাচ্ছে, এখানে আরেকটা প্যাচ আছে, এই আইনে হাসপাতাল বলতে যেহেতু সরকারী হাসপাতালও বোঝায়, সরকারী হাসপাতালে বিদেশী ডাক্তার আর কর্মচারী নিয়োগ শুরু হতে পারে। মনে রাখতে হবে শব্দটা ‘স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী’, এই আইনে যার সংজ্ঞায় অনেক কিছুই আটে!
২০। বিদেশী অর্থায়নে হাসপাতাল স্থাপনের অনুমতি প্রদান-(১) সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে বৈদেশিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিদ্যমান সকল আইন ও বিধি বিধান প্রতিপালন করতঃ বিদেশী অর্থায়নে সম্পূর্ণ বা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে হাসপাতাল স্থাপন করা যাইবে; এবং
(২) উপধারা ২০(১) এর কার্যকারিতা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।
২১। অপরাধ-(১) নির্ধারিত পেশাগত দায়িত্ব পালনে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি বা হাসপাতাল কর্তৃক অবহেলা প্রদর্শন অপরাধ হিসেবে গণ্য হইবে;
(২) স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যক্তির প্রতি হুমকি প্রদান, ভীতি প্রদর্শন, দায়িত্ব পালনে বাধাদান, আঘাত করাসহ যেকোন ধরণের অনিষ্ট সাধন বা স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কোন সম্পত্তির ক্ষতি সাধন, বিনষ্ট, ধ্বংস বা উক্তরূপ সম্পত্তি নিজ দখলে গ্রহণ অপরাধ হিসেবে গণ্য হইবে; এবং
(৩) আদালতের নির্দেশনা ব্যতিত কোন স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হইবে।
ধারা ২১(১)- অবহেলার সংজ্ঞা নিয়ে যে প্রশ্নটা আগে করেছিলাম, সেটা আবারো করছি, ‘অবহেলা’ বলতে এখানে ঠিক কি বোঝানো হচ্ছে? অবশ্য এই আইনে অপরাধ আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপোষযোগ্য [ধারা ২১(৩)]
ধারা ২১(২)- স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যাক্তিকে হুমকি, দায়িত্ব পালনে বাধাদান, আঘাত করলে, স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের কোন ক্ষতি করলে সেয়া আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপোষযোগ্য হবে। এই অপরাধের দণ্ড হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি র্সবোচ্চ পাচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা তিন বছর কারাদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। তবে এই আইন আপোষ অযোগ্য রাখা দরকার ছিল কারন চিকিৎসকদের প্রহার করে পরে ভয় দেখিয়ে আপোষে বাধ্য করার পথ এই আইন খোলা রেখেছে।
ধারা ২১(৩)- কোন অপরাধের জন্য স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীকে আদালতের নির্দেশনা ছাড়া গ্রেফতার করা অপরাধ হিসেবে গন্য হবে? এই আইনের অধীনে কোন অপরাধের জন্য নাকি যে কোন অপরাধের জন্য? ঝেড়ে কাশুন, লজ্জা নারীর ভূষন, লজ্জা না করে পরিস্কার করে বলুন, কেবল এই ক্ষেত্রে নাকি সব ক্ষেত্রে?
২২। কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন-(১) কোন কোম্পানীর মালিকানাধীন বা অনুরূপ সংস্থার অধীন বা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হাসপাতাল কর্তৃক এই আইনের বিধানাবলী লঙ্ঘিত হইলে উহার প্রধান নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রত্যেক পরিচালক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, তিনি যে নামেই অভিহিত হউন না কেন, বিধানটি লঙ্ঘন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমান করিতে সক্ষম হন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন; এবং
(২) কোন হাসপাতাল কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে উহার লাইসেন্স বাতিল করা যাইবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ দন্ডযোগ্য হইবে।
মতামতঃ ধারা ২২ (১)- আহা মরি মরি, একেই বলে সাপ মারা লাঠিও না ভাঙ্গা, দেখানো হল প্রধান নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মাফ নেই আবার তার জন্য আইনের ফাক গলে বের হয় যাবার সমস্ত পথ খোলা রাখা হল, সাধু সাধু! কেবল একজন দক্ষ আইনজীবীই বুঝবেন এই ধারা আসলে ‘বজ্র আটুনি, ফসকা গেরো’ ছাড়া আর কিছুই না। অভিযোগ আনা যাবে, প্রমান করা যাবেনা।
ধারা ২২(২)- লাইসেন্স বাতিল করা যাবে, আবার বাতিল নাও হতে পারে, সংশিষ্ট অপরাধ ‘দন্ডযোগ্য’ হবে মানে? দন্ডযোগ্য না এমন কোন অপরাধ এই আইনে আছে নাকি?
২৩। অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ, আমলযোগ্যতা এবং আপোষযোগ্যতা-(১) এই আইনের বিধান লঙ্ঘনজনিত অপরাধসমূহের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম প্রচলিত আইনের আওতায় পরিচালিত হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, চিকিৎসা প্রদান সংক্রান্ত ( Treatment Related) অভিযোগ আদালতে আনীত হইলে উক্ত আদালত সংশ্লিষ্ট বিষয়ের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অন্য একজন চিকিৎসকসহ নূন্যতম তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে কোন অভিযোগ আমলে গ্রহণ করিবে।
(২) এই আইনে বর্ণিত অপরাধসমূহ যে স্থানে সংঘটিত হইবে উক্ত স্থানের ফৌজদারী এখতিয়ার সম্পন্ন ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে।
(৩) উপধারা ২১(১) এর অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপোষযোগ্য হইবে এবং উপধারা ২১(২) এর অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপোষযোগ্য হইবে।
মতামতঃ আদালত সেই ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক’ ও ‘অন্য একজন চিকিৎসক’ কোন জায়গা থেকে কিভাবে বাছবেন? এখানে তো বলা হয়নি সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, তার মানে পাইলসের ভুল অপারেশনের কেসে অবহেলা হয়েছে কি হয়নি, সেই ইস্যুতে নিউরোসাইন্সের প্রফেসরের মতামত এই আইনে টেকনিক্যালি ঠিক আছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা আরেক জায়গায়, অভিযোগ আমলে নেবে কি নেবেনা সেজন্য ডাক্তার ডাকো, মাগার জেরার সময় বিশেষজ্ঞ মতামত নেবার কোন বালাই এই আইনে নেই, ‘যেই লাউ সেই কদূ’র এক অসাধারন উদাহরন এই আইন।
২৪। দন্ড- (১) ধারা ৩ এর বিধান লঙ্ঘন করিলে ন্যূনতম ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা ৩ (তিন) বছর কারাদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবে;
(২) ধারা ২১(২) এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটিত হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা ৩ (তিন) বছর কারাদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবে।
(৩) ধারা ৫ লঙ্ঘন করিলে, উক্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী অনধিক ৩(তিন) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা ১(এক) বছর কারাদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবে।
(৪) আইনের ধারা-১০ (১) লঙ্ঘন করিলে অনধিক ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবে;
(৫) ধারা ১০ (২) লঙ্ন করিলে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল অনধিক ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবে; অনাদায়ে ৩(তিন) মাস বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হইবে;
(৬) আইনের ধারা ১৪ লঙ্ঘন করিলে, ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড প্রযোজ্য হইবে; অনাদায়ে ৩(তিন) মাস বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হইবে;
(৭) আইনের ধারা ১২ (১) লঙ্ঘন করিলে ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবে;
(৮) আইনের ধারা ১২(৬) লঙ্ঘন করিলে অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবে; অনাদায়ে ১(এক) মাস বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হইবে;
(৯) আইনের ধারা ১১ লঙ্ঘন করিলে অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড প্রযোজ্য হইবে; অনাদায়ে ১৫ (পনের) দিন বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হইবে; এবং
(১০) আইনের অন্য কোন ধারার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনে সহযোগিতা বা প্ররোচনা বা প্ররোচনায় সহযোগিতা আইনে প্রতিপালনযোগ্য বিষয়াদি প্রতিপালন না করা বা প্রতিপালন না করায় সহযোগিতা বা প্রতিপালনে বাধা দান করিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডিত হইবে; অনাদায়ে ১(এক) মাস বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হইবে।
মতামতঃ কিছু বিধান ভঙ্গের শাস্তি সরাসরি দেয়া আছে, তবে যেগুলি নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি সেসবেরঅধীনে অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা আর অনাদায়ে এক মাস বিনা শ্রম কারাদন্ড।
২৫। ক্ষতিপূরণ আদায়-(১) আদালত আইনে বর্ণিত দন্ডের অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রদানের আদেশ দিতে পারিবে; এবং
(২) উক্ত ক্ষতিপূরণ আদালত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিশোধ না করিলে “সরকারি দাবি আদায় আইন ১৯১৩” অনুযায়ী তাহা আদায়যোগ্য হইবে।
মতামতঃ ধারা ২৫(১)- আসলে একটা সিরিয়াস ধারা যা বেশীরভাগ লোকের চোখ এড়িয়ে যাবে, মনে করুন এই আইনে কোন একটি অপরাধ হল এবং কেউ একজন আদালতে দাবী করলেন এর ফলে তার ‘ক্ষতি’ হয়েছে, এই আইনে ক্ষতি বলতে যেন কি বোঝানো হয়েছে? ধারা ২(২৮) অনুসারে ‘ক্ষতি’ অর্থ রোগীর শারীরিক, মানসিক বা কর্ম ক্ষমতা বা আর্থিক ক্ষতি, এসব পরিমাপের কোন পদ্ধতি এই আইনে নেই, মানে পুরো বিষয়টাই চলবে কোর্টের মর্জিমাফিক, মানে এই আইনে শাস্তি হবার সম্ভাবনা তো আছেই, আরো সম্ভাবনা আছে আদালত অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে বলবেন ক্ষতিপূরন হিসেবে একটি বিশাল অংকের টাকা দিতে। আরো সমস্যা হচ্ছে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে কিনা, তা এই আইনে উল্লেখ নেই। মানে কি দাড়ালো? মানে দাড়ালো এ আইনে অপরাধ হলে চিকিৎসা সেবার সাথে জড়িত যে কেউই বিশাল অংকের ক্ষতিপূরন দেয়ার দায়ে পড়তে পারেন। আরো সমস্যা হচ্ছে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে কি যাবেন, তার কোন উল্লেখই এই আইনে নেই।
আইনটা এত পেছনে গুজে দেয়ার আইডিয়া যার মাথা থেকেই আসুক না কেন, প্রশংসা না করে পারছি না! বেশীরভাগ লোকই এই পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়বে না আর পড়লেও বুঝবে না। ব্রাভো!
২৬। দায়মুক্তি-এই আইনের অধীনে সরল বিশ্বাসে কৃত বা গৃহীত বা বাস্তবায়িত কর্মকান্ড অপরাধ হিসেবে গণ্য হইবে না।
মতামতঃ অফর্কোস! কতৃপক্ষ ‘সরল বিশ্বাসে’ কোন হাসপাতাল বন্ধ করে দিলে বা কোন চিকিৎসককে এলাকার বাইরে প্র্যাক্টিসের অনুমতি না দিলে বা সেই অনুমতি স্থগিত বা ক্যান্সেল করলে কার কি করার আছে?
২৭। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা-সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
মতামতঃ কবে? এই আইনের অনেক কিছুই বিধি ছাড়া অষ্পষ্ট, প্লাস বিধি পাশের আগে কি বাস্তবতা সম্পর্কে খোজ নেয়া হবে, নাকি মর্জইমাফিক জাস্ট গুজে দেয়া হবে?
২৮। রহিতকরণ ও সংরক্ষণ-(১) এই আইন বলবৎ হইবার সঙ্গে সঙ্গে ‘The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, 1982’ এতদ্বারা রহিত হইবে;
(২) উপধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্বেও, রহিত অধ্যাদেশের অধীনে কৃত সকল কার্যক্রম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; এবং
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্বেও রহিত Act এর অধীন সূচীত কোনো কার্যক্রম এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে এমনভাবে চলমান ও অব্যাহত থাকিবে যেন উক্ত Act রহিত হয় নাই।
২৯। আইনের ইংরেজিতে অনুদিত পাঠ প্রকাশ-(১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে, প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে; এবং
(২) বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
মতামতঃ অবশ্যই! ড্রাফট ইংরেজীতে করার পরিশ্রমের দরকারটা কি? বিদেশীরা বুঝে ফেলে আপত্তি জানাবে, এটা কোন কাজের কথা নয়!

সার্বিক সমীক্ষনঃ
এই আইনে কতৃপক্ষ এবং কিছু সরকারী কর্মচারীকে বিভিন্ন হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নিকট হতে ঘুষ খাবার ব্যাপক সুযোগ দেয়া হয়েছে, বরং বলা চলে চিরস্থায়ী জমিদারী প্রথার মত ঘুষের চিরস্থায়ী প্রথা কায়েম করার বন্দোবস্তত করা হচ্ছে।
চিকিৎসা অবহেলা বলতে ঠিক কি বোঝায়, সে সম্পর্কে অস্পষ্টতা রাখা হয়েছে।
বিদেশী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের বাংলাদেশে আসার এবং চাকুরী করার (সরকারী সেকটরেও) ফ্লাডগেট ওপেন করা হয়েছে।
যাদেরকে সাধারন ভাবে ‘হাসপাতাল’ বলে মনে করা হয়না, তাদের ওপর অতিরিক্ত এবং অযৌক্তিক দায়ভার চাপানো হয়েছে।
চিকিৎসক না হয়েও যারা অপচিকিৎসা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে এই আইনে কিছুই বলা হয়নি, ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে লাইসেন্স থাকার পর এক্সিডেন্ট করলে ফাসী, লাইসেন্স না থাকলে যত খুশী লোককে চাপা দিয়ে মারলেও কোন শাস্তি নেই, একেবারেই বাস্তবতা বিবর্জিত আইন।
কোর্টের হাতে মর্জিমাফিক ক্ষতিপূরন দেবার আনিমিটেড ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
একজন চিকিৎসকের বিচার কাজ চলার সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত নেবার কোন বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
এই আইনে অভিযোগ আসলে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যাক্তিকে আদালতের অনুমতি ছাড়া গ্রেফতার করা যাবেনা নাকি কোন ক্ষেত্রেই করা করা যাবেনা, তা সম্পূর্ন অস্পষ্ট রাখা হয়েছে।
এই আইনের অনেক কিছুই ‘বিধি’ নির্ভর যা কেমন হবে কেউ জানেনা।
আরো অনেক ইস্যু আছে, সেসব বুদ্ধিজীবীদের জন্য তোলা থাকুক, সব আমি দিয়ে দিলে হবে?

শুভেচ্ছা
________________________

কাজী ওয়াসীমুল হক
এডভোকেট
সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশ।

Head
Wasimul Haque & Associates
Legal Adviser & Head of Legal Wing
Bangladesh Doctor’s Foundation (BDF)

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়