Ameen Qudir

Published:
2019-09-03 11:15:52 BdST

আরও বড় পরিসরে রোগীসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন অধ্যাপক ডা. শহিদুল


 

ডেস্ক
____________________

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান : নিটোর থেকে ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ অবসর নিয়েছেন এ সময়ের জীবন্ত কিংবদন্তি চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শহিদুল ইসলাম । এটা কার্যত শেষ কর্মদিবস হলেও তাঁর স্বজন-ভক্তরা জানিয়েছেন, এখান থেকে শহিদুল ইসলাম স্যারের নবযাত্রা শুরু। সততার এক কারিকুলাম যেন শহিদুল ইসলাম স্যার। তিনি আরও বড় পরিসরে রোগীসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন ।

তাঁর বিখ্যাত উক্তি হল , ‘তোমার অর্থ, সম্পত্তি কেড়ে নেবার অনেক লোক আছে, কিন্তু কেউ তোমার সততাকে কেড়ে নিতে পারবে না। জীবনে উচ্চাভিলাষী হয়ো না, তাহলে সুখী হতে পারবে না।’


ডা. সৈয়দ শহিদুল ইসলাম শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) ১০ম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।
১৯৮৪ সালে সরকারি চাকরিতে ঢুকে প্রথম পোস্টিং পান শেবাচিমেই। ২০০১ সালে নিটোর থেকে এমএস এবং তার পূর্বে ডি অর্থো ডিগ্রি লাভ করেন।
পরে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিটোরে পোস্টিং পান এবং পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির সেক্রেটারি ও নিটোরের একাডেমিক ডিরেক্টর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সব দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির (বস) সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

নিটোর থেকে উচ্চতর ডিগ্রিপ্রাপ্ত ডা. তানভীর শুভ ফেসবুকে লেখেন, নিটোর থেকে অর্থোপেডিক্স বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে বের হওয়া তার প্রতিটা স্টুডেন্ট তাকে পিতার আসনে বসিয়ে সম্মান করেন। পরীক্ষার হলের ভয়ংকর সময়গুলোতে স্যারের সহানুভূতিশীল আচরণ, সহযোগিতা, স্নেহ একজন সন্তানের প্রতি তার পিতার দায়িত্বশীল আচরণের কথাটাই বারবার মনে করিয়ে দেয়।শহীদ স্যারের দুই মেয়ে। বড় মেয়ে শেবাচিমের ৩১ তম ব্যাচের ছাত্রী।

ডা. তানভীর শুভ বলেন, একাডেমিক ডিরেক্টর হিসেবে ডা. সৈয়দ শহিদুল ইসলাম স্যার নিটোরের একাডেমিক কার্যক্রমকে করেছেন গতিশীল। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া নিটোরের মর্নিং সেশন, যা কিনা একাধারে ভয়ংকর আবার আকর্ষণীয়। সেই সেশনকে প্রাণবন্ত করার পেছনে স্যারের ভুমিকা অনস্বীকার্য।

এছাড়া স্যার একজন সুবক্তাও। অর্থোপেডিক সোসাইটির বিভিন্নি প্রোগ্রামে স্যারের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা দেখে অনেকে তাকে হানিফ সংকেতের সঙ্গেও তুলনা করে থাকেন।

স্পাইন সার্জারি বিষয়ে বাংলাদেশের অন্যতম লিজেন্ডারি এ সার্জনকে এশিয়া ও ইউরোপের বিখ্যাত সব স্পাইন সার্জনগন এক নামে চিনেন।

একজন বিখ্যাত সার্জন বা একাডেমিক ডিরেক্টর হিসেবে নন, বরং তার মানবিক গুণাবলি দিয়েই স্যার আমাদের অন্তরে স্থান করে নিয়েছেন। কাজের চাপে হয়তো সব রোগীকে সমানভাবে চিকিৎসকরা সেবা দিতে পারেন না, কিন্তু (ডা. সৈয়দ শহিদুল ইসলাম) স্যার রাউন্ডে গিয়ে এই ধরনের কোন রোগীর মিস ম্যানেজমেন্ট দেখলেই হাসিখুশি মানুষটা নিমিষেই রেগে যেতেন, এরপর পুরো রাউন্ডে ছাত্রদের বকাঝকা করে রুমে এসে স্নেহময় কন্ঠে, কাঁধে হাত রেখে ভুল ধরিয়ে দিতেন এবং বলতেন প্রতিটা রোগীকে সেভাবেই সেবা দিতে যেভাবে আমরা আমাদের মা-বাবা কিংবা আপন ভাই-বোনদের সেবা দেবো।

এ বিষয়ে কিংবদন্তি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শহিদুল ইসলামের বিখ্যাত উক্তি ছিল, ‘তোমার অর্থ, সম্পত্তি কেড়ে নেবার অনেক লোক আছে, কিন্তু কেউ তোমার সততাকে কেড়ে নিতে পারবে না। জীবনে উচ্চাভিলাষী হয়ো না, তাহলে সুখী হতে পারবে না।’

স্যার মেডিকেলে চান্স পাবার পর তার বাবার সামর্থ্য ছিল না তাকে ভর্তি করানোর। তাই তিনি স্যারের নামে থাকা এক খণ্ড জমি বিক্রি করতে গেলে এলাকার লোকজন সেই সম্পদটা বিক্রি করতে তাকে নিষেধ করেন, স্যারের বাবা ছেলের কাধে হাত রেখে গর্বের সঙ্গে উত্তর দিয়েছিলেন ‘আমার ছেলেটাই আমার আসল সম্পদ’।

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়