Ameen Qudir

Published:
2019-08-10 09:44:23 BdST

ক্যান্সার আক্রান্ত অসহায় শিশুরা যেভাবে অধ্যাপক ডা.রেজাউলকে তাদের সেবায় ফিরে পেল



ডাক্তার প্রতিদিন
______________________

কৃতজ্ঞভাজন লাখো রোগীর আশীর্বাদে বাংলাদেশের শীর্ষ শিশু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম রেজাউল করিম ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের সেবায় চট্টগ্রামেই কর্মস্থল ফিরে পেলেন। রদ হল তাঁর উপর অন্যায়ভাবে আরোপিত বদলি আদেশ। বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটারের এখতিয়ার বহির্ভূত বেপরোয়া আচরণে লাখো পেশাজীবি ডাক্তার ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তিনিও ব্যাথিত হন। সেই প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছিলেন পরোক্ষ এক ফেসবুক কমেন্টে। তিলতে তাল করা হয়েছিল । মত প্রকাশের কথিত অভিযোগে তাকে কর্মস্থল চট্টগ্রাম থেকে বদলি করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে। যেখানে তার মত একজন উপমহাদেশ খ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কর্ম সেবার কোন টেকনিক্যাল পরিস্থিতিই ছিল না। সম্পূর্ণ বিদ্বেষ ও অসৎ উদ্দেশে তাকে বদলি করা হয়।
গুজব মিডিয়া ও ভূইফোঁড় অনলাইন মিডিয়া এ নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছিল।

পরে ডাক্তার প্রতিদিন সহ কল্যাণী মিডিয়া তার এই বদলির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। চট্টগ্রামসহ ওই অঞ্চলের হাজারো শিশুরোগীর সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরী হয়। তিনিও অভিমানে উন্নত কর্মপরিবেশ সম্পন্ন কোন দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন , বলে বন্ধুসূত্রে জানা যায়। রোগী শিবিরে তৈরী হয় নীরব আহাজারি । বেপরোয়া ক্ষমতার বিষম দাপটের শিকার হয়েছিলেন তিনি। ডাক্তার প্রতিদিনে তার উপর আরোপিত অন্যায় বদলি র বিরুদ্ধে একাধিক লেখা প্রকাশ হয়। হাজার হাজার শেয়ার সেসব লেখা। লাখ ছাড়িয়ে যায় শেয়ার সংখ্যা।
এগিয়ে আসে বিদেশী মিডিয়া। একদিকে বেপরোয়া ক্ষমতার দাপট ও অন্য দিকে মহান রোগী সেবার মধ্যে বিদেশী মিডিয়াও সেবার পক্ষ বেছে নেয়। টনক নড়ে মন্ত্রকের। অবশেষে রোগীর আশীর্বাদ ও কল্যাণ কামনার বিপুল চাপে তার বদলি রদ হয়। এ বিষয়ে তিনি একটি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা সূচক লেখা লিখেছেন।

তাতে তিনি বলেন,
প্রিয় বন্ধু ও শুভাকাংখী এবং গুরুজনদের উৎকন্ঠার অবসান হল অবশেষে। আপনাদের ভালবাসা ছিল আমার জীয়ণ কাঠি। একজন ক্যারিয়ারিস্ট ক্যাডার কর্মকর্তা হিসাবে আমার চাকরী জীবনে এটা ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাত। আমি এখনো জানি না, কি ভাবে এটা হয়েছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি আক্ষরিক অর্থেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম।

তারপর ও এটা আত্মসম্মানের সাথে সামলে নিতে পেরেছি আপনাদের শুভ কামনার জন্য। আমার প্রিয় ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের একদিনের জন্য ও সেবা বঞ্চিত করতে হয় নি, সেটা ও কম চ্যালেন্জ ছিল না। আসলে সবার সহযোগীতায় এটা সম্ভব হয়েছে।

যখন কোনভাবেই অঘটন আটকানে গেল না তখন খুব অভিমান হল, ভাবলাম নীরবেই চলে যাব। মন খারাপ করে বাসায় বসে ছিলাম কিন্তু যখন দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘটনার সত্যতা জানার জন্য বন্ধুরা বারবার মেসেজ দিচ্ছিল এবং কিছু ভূইফোঁড় অনলাইন পোর্টাল আজে বাজে হেডিং দিয়ে সংবাদ প্রচার করছিল, তখন বাধ্য হয়ে চিকিৎসকদের গ্রুপে একটা আত্মপক্ষ সমর্থন করে পোস্ট দিলাম। সেই লেখাটা শত শত শেয়ার হয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেল।

তখন বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে সবাই ব্যস্ত, এর মাঝেই বিদেশী মিডিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশী সাংবাদিক বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় নিয়ে এলেন। এরপর দেশের মিডিয়াগুলো ও সোচ্চার হলেন। এটা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হল, তাই সারা দেশ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন অনেকে, তাদের সবার নাম উল্লেখ করে আমি তাদের বিব্রত করতে চাই না।

সারা দেশে আমার ডাক্তার সহকর্মী ভাই বোনেরা যারা আমার অপমানে নিজেরা দগ্ধ হয়েছেন, আমার রোগী ও তাদের স্বজনেরা যারা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন ও প্রতিটা ক্ষণ উৎকন্ঠায় কাটিয়েছেন, আমার সহকর্মী ও শুভাকাংখীরা যারা সারাক্ষন শুভ সংবাদের প্রতিক্ষায় থেকেছেন, আমার বন্ধুরা যারা এই সমুদ্র পাড়ি দেবার বিভিন্ন পথ খুঁজেছেন, কলম হাতে সমর্থন জুগিয়েছেন, অচেনা বন্ধুরা যারা নৈতিক সমর্থন জুগিয়েছেন, অনেক বিখ্যাত মানুষ যারা আমার জন্য প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন, সর্বোপরি যারা এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন তাদের সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

 

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়