Ameen Qudir

Published:
2019-06-17 10:00:15 BdST

রেশম দিয়ে কৃত্রিম ধমনি: যুগান্তকারী আবিষ্কার বাঙালি চিকিৎসক-গবেষকদের



ডেস্ক/ বঙ্গদর্শন
__________________

চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি চিকিৎসা গবেষণাতেও নয়া দিশা দিলেন বাঙালি চিকিৎসক গবেষকগন। রেশম দিয়ে কৃত্রিম ধমনি! এমনই যুগান্তকারী ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছেন তারা। আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ, আইআইটি গুয়াহাটি এবং বেলগাছিয়ার প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যৌথভাবে প্রস্তুত করেছেন কৃত্রিম ধমনি। আড়াই বছরের গবেষণার পর সেই ধমনি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে খরগোশের শরীরেও। সেই পরীক্ষা সফল। এবার অপেক্ষা শুধু মানবশরীরে প্রয়োগের।

রেশম ব্যবহার করা হল কেন? গবেষকরা জানাচ্ছেন, রেশমের মূল উপাদান প্রোটিন। তাই রেশম দিয়েই বায়ো অবজারভেবল আর্টারি প্রস্তুত করেছেন তাঁরা। এতে কয়েকমাস পরে কৃত্রিম ধমনিটি শরীরে সম্পূর্ণ মিলিয়ে যায় এবং ধমনির ছিন্ন অংশ কোষ বিভাজন করে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এই কৃত্রিম ধমনি আবিষ্কারের ফলে, বাইপাস সার্জারি-সহ অন্যান্য অপারেশনের পরে রোগীর শরীরের অন্য ধমনি বা শিরা কেটে ব্যবহার করতে হবে না। সেই শিরা বা ধমনি প্রতিস্থাপন এমনিতেই যথেষ্ট কঠিন। সেখানে সহজেই কৃত্রিম ধমনি জুড়ে দেওয়া যাবে কাটা ধমনির জায়গায়। চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটা বড়ো পরিবর্তন ঘটে যাবে।

এই গবেষণাদলের সঙ্গে যুক্ত আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারির প্রধান ডাঃ রূপনারায়ণ ভট্টাচার্য, সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ গৌরবরঞ্জন চৌধুরী, বেলগাছিয়ার প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারির প্রধান ডাঃ সমিত নন্দী, সেখানকার অধ্যাপিকা ডাঃ দেবপি ঘোষ এবং আইআইটি গুয়াহাটির সহযোগী অধ্যাপক ডঃ বিমান মণ্ডল। রেশমের ধমনি ব্যবহারের বিষয়ে সকলেই খুবই আশাবাদী। চিকিৎসকমহলের বক্তব্য, এই আবিষ্কার সফল হলে চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

বঙ্গসন্তানদের হাত ধরে ফের একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার পেতে চলেছে চিকিৎসামহল। গর্ব করার মতোই ঘটনা, কী বলেন!
________________

সৌজন্য বঙ্গদর্শন পত্রিকা।

 

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়