Ameen Qudir

Published:
2019-05-11 10:50:57 BdST

স্বাস্থ্যমুক্তিযুদ্ধের স্বাস্থ্য সৈনিকেরা


 

লেখকদ্বয় শাহাদুজ্জামান (ডানে ) , খায়রুল ইসলাম

 

শাহাদুজ্জামান , খায়রুল ইসলাম

________________________


বাংলাদশের মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ইতিহাস, সামরিক ইতিহাস নিয়ে চর্চা হয়েছে কিন্তু আমরা অনেকটাই বিস্মৃত হয়েছি যে মুক্তিযুদ্ধে স্বাস্থ্য সেক্টরের ছিলো এক ব্যাপক ভুমিকা। অবিরাম আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা, অগনিত শরনার্থীদের চিকিৎসা, নিহত যোদ্ধাদের মৃতদেহ সৎকার, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এইসব ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলেছে একাত্তরের যুদ্ধের সময়। চিকিৎসা যুদ্ধ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। কিন্তুসেই ধ্বংসযজ্ঞের ভেতর কারা এই চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, কিভাবে এই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়েছে তার সুশৃংখল কোন ইতিহাস আমাদের জানা নেই। সেই বিস্মৃত ইতিহাস তুলে আনবার ইচ্ছা থেকে আমরা দুজন গবেষনায় লিপ্ত আছি গত কয়েক বছর। আশা করছি আমাদের গবেষনা গ্রন্থটি প্রকাশিত হবে অচিরেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় যে বিবিধ ধারার সরকারী, বেসরকারী, ব্যাক্তিগত এবং আন্তর্জাতিক নানা উদ্যোগ হয়েছিলো তথ্যসুত্রসহ তার বিস্তারিত আলোচনা থাকবে আমাদের প্রকাশিতব্য গ্রন্থে। আজকের এই লেখায় শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের নেয়া স্বাস্থ্য বিষয়ক আদি পর্বের উদ্যোগের কিছু তথ্যের কথা উল্লেখ করতে চাই, সেই সঙ্গে রাখতে চাই একটি প্রস্তাব।

আমরা জানিযে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় যা এখন মুজিবনগর নামে পরিচিত। ১৮ এপ্রিল তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব¡ বন্টনের পর মন্ত্রীসভা ব্যস্ত হয়ে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব সহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের পদায়ন করে সরকারের প্রশাসনযন্ত্র গঠন করার জন্য। এসব পদায়ন করে সরকারের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাঠামো সুসংহত হতে হতে এপ্রিল মাস পেরিয়ে যায়। মে মাসে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২রামে, ১৯৭১ সালে। ঐ দিনই গঠন করা হয় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীর পরে বাংলাদেশের প্রথম অধিষ্ঠিত অধিদপ্তর হিসেবে যাত্রা শুরু করে এই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মন্ত্রিসভার সেই বৈঠকে ডাক্তার তোফাজ্জল হোসেন, যিনি টি হোসেন নামে পরিচিতি ছলিনেতাকে ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। সেসমসয়তাজউদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়াও শিক্ষা , স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য , ও সমাজ কল্যাণসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের আদেশের বিষয়ে তাজউদ্দীন আহমেদের নিজ হাতে লেখা নোট এবং টাইপ করা আদেশপত্র মুক্তিযুদ্ধের দলিলাদিতে সন্নিবেশিত হয়েছে।

তাজউদ্দীন আহমেদ লেখেন- “বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূচনা হয়েছিল ১৯৭১ সালের মে মাসের ২ তারিখে ডাঃ টি হোসেন (এমএস, এফআরসিএস)-কে মহাপরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে। সরকার গঠনের সময় ডাঃ হোসেন আমাদের সহচর হিসেবে ছিলেন। পাক সেনাবাহিনীর সেই অভিযানের পরে দুই সপ্তাহের জন্যে আমাদের মন্ত্রীসভার কিছু সদস্য তাঁর ক্লিনিকে আশ্রয় নিয়েছিলো। ঢাকায় প্রায় ছয় লাখ টাকা মূল্যমানের সরঞ্জামসহ তাঁর নার্সিং হোম ফেলে তিনি এসেছিলেন। তিনি স্বপ্রণোদিত হয়েআমাদের সহযোগীতা করতে এসেছিলেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হতে বঙ্গবন্ধু মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সাথে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাঁর নার্সিং হোম থেকে আমরা সকলেই চিকিৎসা নিতাম। কলকাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোলকাতায় ছাত্রজীবনের প্রস্তুতির সময়কাল থেকেই তিনি তাঁর রাজনৈতিক বন্ধু ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের প¶ হতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চালু করতে চিকিৎসা পেশায় বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে একমাত্র ডঃ হোসেনকেই পাওয়া গিয়েছিলো।”

নানা দলিল পর্যালোচনা করে আমাদের মনে হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শুরু হয় অনেকটা ডা. টি হোসেন এই একক সৈনিকের হাত ধরে। কলকাতায়নিযুক্ত পাকিস্তানের উপ-হাইকমিশনার জনাব হোসেন আলী সব বাংলাদেশী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করার পর কলকাতার হাই কমিশন অফিস কার্যত বাংলাদেশ সরকারের অফিসে পরিণত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মিশন অফিসের ভবনে দুটি ক¶ে কাজ শুরু করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রথমেই যে কাজটি করে তাহলো স্বাস্থ্য জনশক্তিকে সংগঠিত করা। পত্রিকায়বিজ্ঞপ্তিরমাধ্যমবোংলাদেশি সবডাক্তার নার্স ও অন্যান্য মেডিকেল জনশক্তিকে অফিসে রিপোর্ট করার জন্য বলা হয়। শুরুর প্রথম তিন মাসের মধ্যেই এই অধিদপ্তর উদ্বাস্তুদের ব্যাপক মেডিকেল সমস্যার মোকাবিলা করার কাজটি হাতে নেয়। যে সব ডাক্তার ও প্যারামেডিকেল স্টাফ সদর দপ্তরে এবং সীমান্ত এলাকায় রিপোর্ট করেছেন তাদের মূলত পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্যে পুনর্বাসিত করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ১৪০০-এর বেশী চিকিৎসা কর্মীকে তখন নিয়োগ দেয়া হয়। জানা যায় উদ্বাস্তুদের সংখ্যা ৬০ ল¶ পৌঁছানো পর্যন্ত ডঃ হোসেন পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব উদ্বাস্তু শিবিরই পরিদর্শন করেছিলেন। এরই মধ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও দাতব্য সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা গুলো শরণার্থীদের জন্য ওষুধ পত্র সহ নানা রকম সাহায্য পাঠাতে শুরু করে। এ সব মেডিকেল ত্রাণ সামগ্রীর গ্রহণ, বিতরণ এবং হিসাব রাখাদায়িত্ব তখন ছিলো ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যার নেতৃত্বে ছিলেন জনাব কামরুজ্জামান। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন ডাক্তার জয়নাল আবেদীন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ডাক্তার নির্বাচন করে তাদের নাম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েপাঠানোর জন্য বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খানিকটা দর কষাকষি করে এমবিবিএস ডাক্তারদের জন্য দৈনিক ভাতা ১৫ রুপি এবং এলএমএফ ডাক্তারদের জন্য দৈনিক ভাতা ১০ রুপি নির্ধারণ করে। পরবর্তীতে ভারতীয় রেডক্রসের ব্যানারেও অনেক চিকিৎসা কর্মীকে কাজে নিয়োগ দেয়া হয়। সবমিলিয়ে প্রায় ২০০০ বাংলাদেশি চিকিৎসা কর্মী শরনার্থী শিবিরের চিকিৎসা সেবায় এবং রনাঙ্গনের বিভিন্ন হাসপাতালে ও ড্রেসিং স্টেশনে কাজ করেছেন। তবে সেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাশ করা ডাক্তারের চাইতে প্যারামেডিক্স, টেকনিশিয়ান, কম্পাউন্ডার, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীর সংখ্যা স্থানভেদে ৪ থেকে ১০ গুন বেশী পর্যন্ত ছিল।

এখানে উল্লেখ্য প্রবাসী সরকারে প্রথম থেকেই স্বাস্থ্য মহাপরিচালক সচিবের পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তবে এ নিয়ে কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও সৃষ্টি হয়েছিলো। একটি তথ্য থেকে আমরা জানতে পারি, একদিন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেখতে পান যে ডাক্তার টি হোসেন প্রখর রোদের মধ্যে হেটে হেটে অফিসে আসছেন। তিনি জানতেন তখনকার ঢাকায় আয় রোজগার গাড়ী বাড়ির মালিকানার দিক থেকে ডা: টি হোসেনের সমক¶ পেশাজীবি প্রবাসী সরকারে নেই। বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতৃবৃন্দ তাঁর ক্লিনিক থেকে সপরিবারে চিকিৎসা নিয়েছেন। যুদ্ধের প্রয়োজনে স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে তিনি প্রবাসী সরকারে যোগ দিয়েছেন অথচ তাঁর যাতায়াতের জন্য কোন গাড়ির বরাদ্দ নাই দেখে তিনি তৎক্ষনাৎ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির সীলমোহর দেয়া সেই চিরকুটে ডা: হোসেনকে একটি গাড়ি বরাদ্দের আদেশ দেন। কিন্তু পদমর্যাদার আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সেই গাড়ী বরাদ্দ করেনি প্রবাসী সরকারের সাধারন প্রশাসন মন্ত্রনালয়।এসব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে একাত্তরের জুলাই মাসের দ্বিতীয়সপ্তাহে শিলিগুড়িসম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনার খসড়া অনুমোদনের পাশাপাশি নিজ হাতে লিখে ডাক্তার টি হোসেনকে স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসাবে নিয়োগ দেন।

ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিস মিশন অফিস থেকে সরিয়েকলকাতার ৪৫ প্রিন্সেস স্ট্রিটে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীর অফিসের চার তালায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তখন রেডক্রস এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিস ছিল পাশাপাশি। এই দুই অফিসের বিভাজনে তখন ব্যাবহার করা হয়েছিলো নেহাত একটি চটের তৈরী পর্দা।পরে জুলাই মাসে স্বাস্থ্য সচিবের অফিস প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির আবাস কাম অফিস ভবনে স্থানান্তর করা হয়। অবশ্য সেই ভবনের বারান্দাটিকেই রূপান্তিিরত করা হয়েছিলো স্বাস্থ্য সচিবের অফিসে। এমনি নানা রকম বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনবলে পরবতীতে যুক্ত হন পরিচালক ডাক্তার কে এ জামান, উপ-পরিচালক ডাক্তার আহমেদ আলী, দুজন সহকারী পরিচালক ডাক্তার মো. ফরিদ এবং ডাক্তার সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী; মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মেসবাহুন নাহার এবং তাহেরা খাতুন; এবং অধিদপ্তর এর বিতরন কর্মকর্তা হিসেবে নাসিমা রহমান এবং অফিস সহকারী হিসেবে আক্তার জাবিন আহমেদ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে প্রথমদিকে শরনার্থী শিবিরে অতিঘন জনসংখ্যা, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের অভাব এবং সর্বোপরি খাদ্যাভাবের কারণে সৃষ্ট নানারকম মহামারীসহ অপুষ্টি জনিত রোগ ব্যাধি মোকাবেলা করতে হয়েছে। পাশাপাশি, রনাঙ্গনে বিস্তৃত সবকটি সেক্টরে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, নানারকম ড্রেসিং স্টেশনে জনবল ও মেডিকেল সাপ্লাই জোগান দেয়ার দুরূহ কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সীমিত সম্পদ, রেডক্রসসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা এবং সর্বোপরি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের দাতব্য সংস্থা ও ব্যক্তিগত অনুদানে থেকে এসবের অর্থায়ন করতে হয়েছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে যুদ্ধে যখন মুক্তিযোদ্ধারা আহত হতে শুরু করেন তখন প্রয়োজন দেখা দেয় দীর্ঘমেয়াদী রোগ নিরাময়ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের। যুদ্ধের পরপরই ডাক্তার আরজে গার্স্ট আর ভ্যালেরি টেইলরের অপরিসীম সহযোগিতায় যে “পঙ্গু হাসপাতাল” এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরী হয় তাঁর বীজ বপন হয়েছিল ১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালেই।

আমরা প্রতি বছর ৭ই এপ্রিল তারিখে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালন করে থাকি ঠিকই কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষিতে যেমন নিজস্ব একটি সশস্ত্র বাহিনী দিবস আছে, তেমনি আমরা প্রস্তাব করছি ২রা মে বাংলাদেশের একটি নিজস্ব "স্বাস্থ্য ও কল্যান” দিবসহোক। এইদিন দেশবাসী শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে পারবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বাস্থ্য সৈনিকদের অপার ত্যাগ এবং তিতিক্ষাকে।
_________________________

শাহাদুজ্জামান: কথা সাহিত্যিক এবং জন স্বাস্থ্য
বিশেষজ্ঞ।
খায়রুল ইসলাম: জন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেকটর।

(প্রথমে লেখাটি সংক্ষিপ্ত আকারে প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল ; এখানে র্পূনাংগ লেখাটি প্রকাশিত হলো)

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়