Ameen Qudir

Published:
2019-05-07 11:57:52 BdST

'টিকা দিলে এইডস হয়' অপপ্রচার বাংলাদেশেও : কোটি কোটি শিশুর জীবন নিয়ে ছিনি মিনি




ডা. শহীদুল ইসলাম হীরু


_____________________


বাংলাদেশের কোটি কোটি শিশুর জীবনরক্ষা কারী টিকা দান কর্মসূচির বিরুদ্ধে দেশের গ্রামে গঞ্জে ভয়ঙ্কর জীবনঘাতী তালেবানী অপপ্রচার চলছে। একদল বক্তা ধর্মীয় সভা ওয়াজ মাহফিলে অপপ্রচার চালাচ্ছে, টিকা দিলে এইডস হয়। আফ্রিকায় নাকি টিকার মাধ্যমে এইডস ছড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটি মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে। ভিডিও করে সেই কুৎসিৎ প্রচার ছড়িয়েও দেয়া হচ্ছে। একশ্রেনীর মুফতি , মওলানা প্রকাশ্যে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। সাধারণ অজ্ঞ মুর্খ মানুষের মাঝে এসব প্রচার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ভয়ঙ্কর এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বাংলাদেশেও হচ্ছে , ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। একজন চিকিৎসক হিসেবে জানি, এই শিশুদের টিকা দান কর্মসূচি বাংলাদেশের সহ সারা বিশ্বের শত শত কোটি শিশুর অকাল মৃত্যু ঠেকিয়েছে। যে আফ্রিকার কথা এসব হুজুর , মুফতিরা বলছে , সেই আফ্রিকায় এই কর্মসূচি কোটি কোটি শিশুর প্রাণ রক্ষা করেছে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে।
এই সব তালেবানী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে।
এই প্রচারে দেশের শিশু স্বাস্থ্য জনস্বাস্থ্য স্মরণ কালের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর গজবের কবলে পড়তে চলেছে।
মুফতি কাজী ইব্রাহিম নামের একজন বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তার ওয়াজের ভিডিওতে দেখা যায় তিনি টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে এর মাধ্যমে এইডস ছড়ানো হচ্ছে বলে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মনগড়া বক্তব্য দেন। এ ধরনের অবৈজ্ঞানিক বক্তব্য টিকাদান কর্মসূচির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে আশংকা সুধীজনের।শিশুদের টিকা কর্মসূচি প্রাণরক্ষার নিদান বা পরম ওষুধ। বাংলাদেশের শিশু মৃত্যুর হার আশ্চর্যরকম কমিয়ে আনার প্রধান চালিকা শক্তি এই টিকাদান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহামারীর মত ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- মুফতি কাজী ইব্রাহিমের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়- গর্ভবতী নারী ও শিশুদের রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা দেয়া জায়েজ কি না? তিনি জবাব দেন, আমি আমার ১১টা সন্তানের একজনকেও টিকা দিইনি। আমার সন্দেহ হয়, কী না কী আছে এই টিকার মধ্যে! আফ্রিকান জাতির এইডসের জন্য টিকা দায়ী। কোটি কোটি আফ্রিকান মুসলমানকে এইডসে আক্রান্ত করে দেয়া হয়েছে এই টিকার মাধ্যমে।

তিনি আরও জানান, মুসলমানের সন্তানদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা হলো আকিকা (নাম রাখার জন্য পশু জবাই প্রক্রিয়া)। আকিকা দিলে শিশু থাকবে নিরাপদ। তিনি সহি হাদিস থেকে ব্যাখ্যা করেন, আকিকার জবাইকৃত পশুর শরীরের প্রতিটা অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আল্লাহ শিশুর নিরাপত্তা দেন।

বিতর্কিত ভিডিওর লিঙ্ক :

https://www.youtube.com/watch?v=eKWVlPPGJdw

https://youtu.be/eKWVlPPGJdw

 


নিকট সময়ে পাকিস্তানে এই টিকাদান কর্মসূচির বিরুদ্ধে তালেবান , জঙ্গী দল , জেহাদীদের ভয়ঙ্কর বর্বরতা দেখেছি। সেখানে টিকাদান কর্মসূচির জনক এক মহত্তম চিকিৎসক ও তার কর্মীদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে ধর্মান্ধ অজ্ঞ মুর্খ পাকিস্তানীরা। আরেক অন্ধকার দেশ আফগানিস্তানেও একই ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বাংলাদেশের ব্র্যাককর্মীকেও হত্যা করেছে অজ্ঞ মুর্খ জনগন। তাদেরকে এই জাতীয় ধর্মবক্তারাই লেলিয়ে দিয়েছিল হত্যাকান্ডে। ফলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে এখন শিশু মৃত্যুর হার হঠাৎ বেড়ে গেছে। অনেক ধনাঢ্য পরিবারের শিশুরাও অপপ্রচারের শিকার হয়ে অকাল মৃত্যু বরণ করছে।
বাংলাদেশে আশার কথা অনেকেই সোচ্চার হচ্ছেন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ।
শিক্ষক , চিকিৎসক, সমাজকর্মী সহ নানা পেশার মানুষ এই অবৈজ্ঞানিক , জনস্বাস্থ্য বিরোধী , চিকিৎসাবিজ্ঞান বিরোধী ভ্রান্ত অপধারণা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় লেখালেখি ও জনমুখী প্রচার চালাচ্ছেন দেশের শিশুদের জীবন রক্ষায় ।

সহকর্মীদের সঙ্গে মোহাম্মদ জি . রফি স্যার । বাম থেকে তৃতীয় ---------------

এরকম একজন হলেন সুলেখক, মেহেরপুরের সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা , তালা বি. দে সরকারি হাইস্কুল ও ডুমুরিয়ার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জি . রফি স্যার ।
তিনি বলেছেন,

মুফতি ইব্রাহীম নামের এক হুজুরের ওয়াজ দেখলাম ইউ টিউবে। তিনি অত্যন্ত দরাজকন্ঠে, হাত পা ছুড়ে,সুর করে ওয়াজ করেছিলেন। অনেক অসংলগ্ন এবং আপত্তিকর কথার পর তিনি বল্লেন শিশুদের টিকা দেয়া নাকি হারাম।টিকা দেয়ার জন্যই নাকি এইডস হচ্ছে।শ্রোতারা বেশীরভাগ অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত।এরা তার কথা গিলছে।সারা পৃথিবীর মধ্যে টিকাদান কার্যক্রমে বাংলাদেশ একটা বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।সার্কভুক্ত দেশগুলার মধ্যে বাংলাদেশের শিশুমৃত্যুর হার সবচেয়ে কম।কিন্তু এই ধরনের পাগলদের ফ্রিলি ওয়াজ করতে দিলে সাধারন মানুষ তাদের কথামত আর বাচ্চাদের টিকা দেবে না।ফলে হাজার হাজার শিশু মরবে,পংগু হবে।সরকারি কার্য্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।সরকার কেন এগুলো নিয়ন্ত্রন করছে না!এরা তো ভয়ংকর সভ্যতা বিরোধী। লম্বা টাকার বিনিময়ে এরা এইসব অমুল্য বয়ান দিয়ে বেড়ান। এরকম ফালতু ওয়াজী হুজুর দেশে বেশ কয়েকজন আছে।তবে সংখ্যায় খুব বেশি না।এদের অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়