Ameen Qudir

Published:
2019-05-05 08:27:56 BdST

সিলেট ওসমানী মেডিকেল: ৪৫০ চিকিৎসকের কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন ২০০'রও কম চিকিৎসক


 

সংবাদদাতা , সিলেট
_______________


সিলেট বিভাগ ও সন্নিহিত অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের জীবন রক্ষালয় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ৯০০ বেডের এই হাসপাতাল পরিচালনার জন্য অন্তত ৪৫০ চিকিৎসক অবশ্যিক প্রয়োজন। সেই বিশাল কর্তব্য অক্লান্ত পরিশ্রমে চালিয়ে নিচ্ছেন মাত্র ২০০'রও কম চিকিৎসক। ডাক্তারদের দায়িত্বশীল সেবা সেখানে থেমে নেই। এত সংকটের মধ্যেও ২০১৬ সালে ছোট-বড় ৪০ হাজার ১৩০টি অস্ত্রোপচার করা হয় এ হাসপাতালে। ২০১৭ সালে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৩১০টি। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ৬৯৯টি। সেবার পরিমান দিন দিন বাড়ছেই। বাড়ছে না চিকিৎসকদের সংখ্যা। অথচ জীবনরক্ষার কাজটি করেন তারাই। হাসপাতালের উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. আবুল কালাম আজাদ মিডিয়াকে বলেন, প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫শ’ শয্যা অনুপাতে হলেও লোকবল বৃদ্ধি করতে হবে । সীমিত ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগেই সেবার মান ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে। কখনও সেবিকা ও ওয়ার্ডবয়দের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করাতে হচ্ছে । প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদেরও নিতে হচ্ছে অতিরিক্ত দায়িত্ব।

১৯৯৮ সালে হাসপাতালটিকে ৫শ’ থেকে ৯শ’ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু জনবল, অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি নেই ৫শ’ শয্যারও। ৫শ’ শয্যার সুযোগ-সুবিধা সম্পূর্ণরূপে না থাকলেও প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারেরও বেশি রোগীকে আবাসিক চিকিৎসা দেয়া হয়। বহির্বিভাগে দৈনিক সেবা নেন গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার রোগী। ৫শ’ শয্যা হিসেবে অনুমোদিত ২৮৮ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৮৯টি পদ শূন্য। নার্স, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মিলে ১ হাজার ২৮০টি পদের মধ্যে ২৭৫টি পদই শূন্য। অথচ ৯০০ বেডের হাসপাতাল পরিচালনায় এই লোকবলের প্রায় চিকিৎসক নার্স কর্মী দরকার, তা সাধারণ জ্ঞানের মানুষ মাত্রেই বোঝার কথা।
তদুপরি,হাসপাতালের বহির্বিভাগ ভবনটি অচিরেই চারতলা থেকে দশতলা হবে। নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়া জাইকার অর্থায়নে একটি পনেরো তলা ভবন নির্মাণ করা হবে।

হাসপাতালটির এমআইআই ও সিটিস্ক্যান মেশিন অকেজো তিন বছর ধরে। ল্যাব টেকনিশিয়ান আর অপারেটরের অভাবে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যেতে হয় বাইরে। প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

নেই আইসিইউ সুবিধাযুক্ত আধুনিক কোনো অ্যাম্বুলেন্স। এমনকি গত দশ বছরে হাসপাতালে যুক্ত হয়নি নতুন কোনো অ্যাম্বুলেন্স। পুরনো ৭টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে চালু আছে চারটি। রয়েছে চালক সংকটও।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুছ রহমান মিডিয়াকে বলেন, লোকবল সংকটই একমাত্র কারণ। তবে ইতিমধ্যে সিটিস্ক্যান মেশিন বসানো হয়েছে, খুব শিগগিরই উদ্বোধন করা হবে। নতুন এমআরআই মেশিনের জন্য চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। আশা করি অল্পদিনের মধ্যে পেয়ে যাব। তিনটি এক্সরে মেশিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একনাগাড়ে কাজ করেও কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না অপারেটরের অভাবে। লোকবল বাড়লে এই সমস্যা থাকত না। লোকবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগ ভবনটি অচিরেই চারতলা থেকে দশতলা হবে। নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়া জাইকার অর্থায়নে একটি পনেরো তলা ভবন নির্মাণ করা হবে।

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়