Ameen Qudir

Published:
2019-05-01 12:46:55 BdST

অনারারি নামে দাসপ্রথা তুলে দেওয়া হোক


 

ফাইল প্রতিকী ছবি।


ডা. অসিত বর্দ্ধন
________________________

বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জনবলবৃদ্ধি বিষয়ে কোন বক্তব্য থাকার সম্ভাবনা খুব কম। সেজন্য ৫০, ১০০ , ২৫০, ৫০০, ১০০০ শয্যা , বিশিষ্ট হাসপাতালগুলোর জনবল পর্যালোচনা করে প্রস্তাব রাখা হোক। যেমন যেখানে ইমারজেন্সি ডাক্তারের পদ নেই , সেখানে পদ তৈরি হোক।

আবার ১০০ বা তার বেশি শয্যার হাসপাতালে রাতে ইনডোর চিকিৎসক রাখার ব্যবস্থা করা হোক। একজন চিকিৎসকের পক্ষে যে রাতে ইমারজেন্সি ও ইনডোর রোগীর সঠিক সময়োপযোগী চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না সেটা তুলে ধরা প্রয়োজন।

অনারারি নামে দাসপ্রথা তুলে দেওয়া হোক। এখন প্রতিটা মেডিকেল কলেজে ঠিক যতজন অনারারি আছে, ততগুলো অস্থায়ী পদ ঘোষণা করা হোক। এই পদে বেতন প্রথম শ্রেণির বেতনের বেসিকের সমান ভাতা দেওয়া হোক।

ইন্টার্ন ডাক্তারদের ভাতা প্রথম শ্রেণির বেতনের সমকক্ষ ঘোষণা হোক, যেন বেতন স্কেল পরিবর্তন হলে আবার ইন্টার্নই ভাতা বাড়ানোর আন্দোলন না করতে হয়।

ডাক্তারদের জন্য CME ( কনটিনিউড মেডিকেল এডুকেশন ) বাধ্যতা মূলক করা হোক। প্রতি একাডেমিক সেশনে অংশগ্রহণের জন্য ভাতা দেওয়া হোক । এটাকে চাকরির আবশ্যক শর্ত করা যেতে পারে।

ডাক্তারদের কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করা হোক। সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বেশি কার্যক্রম হলে বেসিক বেতনের ডাবল ওভারটাইম হিসেবে দেওয়া হোক।হিসাব টা এরকম হতে পারে ঃ ধরুন একজনের বেতন ২০০০০ টাকা । মাসে ১৭৬ ঘণ্টা কর্মদিবস হিসাব করলে ঘণ্টা প্রতি দাঁড়ায় ১১৩.৬৩ টাকা । এর দিগুণ ২২৬ টাকা । রাউন্ড ফিগার ২২৫ বা ২৫০ টাকা ওভারটাইমের হার নির্ধারন হোক । সবার ওভারটাইম নির্দিস্ট হবে তার নিজের স্কেল অনুযায়ী। কাউকে শুক্রবারে কাজ করতে হলে তাকে ওভারটাইম দিতে হবে।

দুর্গম কিম্বা সুবিধাবঞ্চিত থানা কিম্বা জেলাগুলোতে যারা ১ বছর কাজ করবেন, বছর শেষে তারা ৩ টা ইঙ্ক্রিমেন্ট পাবেন * সাধারণের চাইতে ২ টা বেশি) , এবং সিনিয়রিটি পাবেন।

ডাক্তারদের প্রমোশন হবে তাঁর পদের বিপরীতে। অর্থাৎ মেডিকেল অফিসার থেকে নির্দিস্ত সময় পরে UHFPO হবেন তার মেডিকেল অফিসার পদের বিপরীতে। উপজেলাতে একজনের পদায়ন হবে UHFPO হিসেবে কিন্তু বেতন পাবেন যারা সেই পদের যোগ্য সবাই। এডমিন ক্যাডার পদের বিপরীতে প্রমোশনের উদাহরণ তৈরি করেছে নিজেরাই। সেটা তুলে ধরে এগুতে হবে।

কোন স্থানীয় ইউএনও UHFPO এর চাইতে জুনিয়র হতে পারবেন না।(প্রশাসন ক্যাডার অলিখিতভাবে একই বিসিএস এর প্রশাসন ক্যাডারে যুগ্ম সচিব না হলে একই বিসিএস ব্যাচের কাউকে প্রফেসর করে না এখন, এমন জনশ্রুতি আছে।) এটি জেলা পর্জায়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রত্যেক সহকারী থেকে পূর্ণ অধ্যাপকের পদের বিপরীতে গবেষণা ফান্ড তৈরি করতে হবে।প্রতি বছর এই ফান্ডের মূল্য বাড়াতে হবে। এই অর্থ প্রত্যেক মেডিকেল কলেজে ব্যবহৃত হবে। যে শিক্ষক এই গবেষণা ফান্ড ব্যবহার করতে পরবেন না, তিনি ভবিষ্যতে প্রমোশনের অযোগ্য হবেন।


অধ্যপকের পদ যুগ্ম সচিবের সমমানের এখন, অধ্যপক পদের বিপরীতে অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের সমমানের পদোন্নতি দিতে হবে সময়ক্রম অনুযায়ী। উদাহরণ যুগ্মসচিব থেকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে অতিরিক্ত সচিব হওয়া যায় , তেমনি একজন অধ্যাপক হিসেবে ৩ বছর পুর্ন করলে , অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার বেতন পাবেন। ( উদাহরণ টি সময়মান ভুল হতে পারে) , এবং পরবর্তিতে সময়ক্রমে সচিবের সমমর্যাদার বেতন পাবেন।
আমাদের বিভাগীয় পরিচালকের অবস্থান বিভাগীয় কমিশনারের সমান করতে হবে, এডিজি ও ডিজি পদ সচিবের সমমর্যাদার হবে, ভবিষ্যতে ডিজি/এডিজি দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হবেন।

মানহীন ও সুবিধাহিন মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধ ঘোষণা করে ছাত্রদের অন্য মেডিকেল কলেজ গুলোতে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে। অনুমোদনের সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।

স্বাস্থ্য শিক্ষা উন্নয়নের জন্য একটি অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে। কোর্স ও কারিকুলাম অনুযায়ী লেকচার গুলো এখানে পাওয়া যাবে। প্রত্যেক মেডিকেল কলেজে ( সরকারী ও বেসরকারি) এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম বাধ্যতা মূলক হবে। কোনো সেশনজট থাকবে না। ছেলেমেয়েরা ভর্তির ৫ বছরের মাথায় ডাক্তার হবে।

বিসিএস এ সুযোগ পাওয়া চিকিৎসক যদি কোন কোর্সে থাকেন তবে তাকে সেই কোর্স শেষে করার সুযোগ দিতে হবে। বাধ্যতামূলক ২ বছর গ্রামে থাকার নিয়ম কোর্স শেষ হওয়ার পরে পালন করতে হবে। এতে উপজেলাতে বিশেষজ্ঞ পদায়ন নিশ্চিত হবে, সরকারের জন্য উইন উইন সিচুয়েশন। ( এটি আমি আগে কোথাও পড়েছি অন্য চিকিৎসকের লেখায়)।

প্রেষণের জঘন্য নিয়ম বদলালতে হবে। কেউ প্রেষণের উপযুক্ত হলে তার পদায়ন নির্দেশ ডিসেম্বরের ১ তারিখের মধ্যে জারি করতে হবে (এটা জানুয়ারি সেশনের জন্য, একইভাবে জুলাই সেশনের জন্য জুনের ১ তারিখের মধ্যে জারি করতে হবে) ।একজন চিকিৎসককে যেন পড়াশোনা ফেলে এজি অফিসে দৌড়াতে না হয় , সেজন্য বেতন সরাসরি ব্যাঙ্কে জমা করতে হবে। প্রেষণ শেষের সাথে সাথে কর্মকর্তা তাঁর পদে ফিরে যাবেন। তবে তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ছুটি দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে UHFPO ও সিভিল সার্জনের জন্য । আমাদের শিক্ষার্থীদের ঢাকায় পোস্টিং নিতে যে হেনস্থার শিকার হতে হয় সেটা কমবে। পাশের হার বাড়বে।

ট্রেনিং পদগুলোতে বর্তমান পদ্ধতির ক্লার্ক, ঘুষ, ও রাজনৈতিক চাপের পদায়ন বন্ধ করতে হবে। ট্রেনিং পদের সময় এক হাসপাতালে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যেমন ধরুন একজন সহকারী রেজিস্ট্রারের ঢাকা মেডিকেলে পদায়ন হলে তাঁর ট্রেনিং এর পুরো দুই বছর ঢাকা মেডিকেলে থাকেন। যেহেতু এটি আমাদের দেশের শীর্ষ হাসপাতাল তাই এখানে পদায়ন পেতে আগ্রহীর সংখ্যা অনেক, এবং তা প্রায়শ রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এর সাথে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা উড়িয়ে দেওয়া মুশকিল । সেজন্য এই পদায়ন বদলাতে হবে। এর জন্য নীচের পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। দুই বছরের ট্রেনিং ৬ মাস এর ৪ টা স্লটে হবে। ঢাকা মেডিকেল ৬ মাস, রাজশাহী , সিলেট, রংপুরে ৬ মাস করে যে কোন দুই জায়গায় , ও অন্য আরেকটা বিভাগের জেলা পর্জায়ে ৬ মাস। এটা অটোমেটেড হবে, ফলে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে না, শিক্ষার সুযোগ আরও ভাল হবে । বৈচিত্র্যের কারণে শিক্ষার মান ভাল হবে।
উপরের প্রস্তাবনার প্রায় সবগুলোই বাজেটের সাথে কোন না কোনভাবে জড়িত। বাজেটের আগে আলোচনায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে সামনে আনা হোক। প্রত্যেক মেডিকেল কলেজে এই সমস্ত দাবি নিয়ে একটা খোলা বৈঠক হোক। সেখান থেকে পাওয়া সারসংক্ষেপ গুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হোক। এসবের সার সংক্ষেপ নিয়ে FDSR তখন মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক করে তা অর্থমন্ত্রির কাছে পেশ করতে পারে।
______________________________
ডা. অসিত বর্দ্ধন । পাঠক ধন্য সুলেখক। তার তৈরী করা অ্যাপস ডাক্তারদের কল্যাণে এখন জনপ্রিয়।
কানাডায় কর্মরত এনেস্থেসিওলজিস্ট, BDEMR নামের সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়